Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ মে, ২০২৬ ০৭:৫০ অপরাহ্ণ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ও ১০ শনিবারের পাঠদান: বিভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ও ১০ শনিবারের পাঠদান: বিভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা
প্রাথমিক শিক্ষা সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ছুটি এবং শিখন ঘাটতি পূরণে বিদ্যালয় খোলা রাখা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২৩ মে (শনিবার) বিদ্যালয় খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আজ আমরা দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে বিষয়টি সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করব।
১. সংশোধিত ছুটির তালিকা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন (স্মারক নং- ৩৮.০০.০০০০.০০৭.০৮.০০২.২০২১-৪৬) অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সংশোধিত ছুটির তালিকায় ১৫ নম্বর ক্রমিকে পবিত্র ঈদুল আযহা (২৭ মে) ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে ২৪ মে (রবিবার) থেকে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মোট ১০ দিন (শুক্রবার ও শনিবার ব্যতীত) প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব রেবেকা সুলতানা।
২. শিখন ঘাটতি পূরণে ১০ শনিবার পাঠদানের নির্দেশনা
রমজান মাসের ছুটি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রাক-প্রাথমিক ও একীভূত শিক্ষা) মো: জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে (স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.১৪০.০০৭.০০৩.২০১৭-২২০) জানানো হয় যে, পরবর্তী ১০টি শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবে এখানে কোন ১০টি শনিবার তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
৩. মিড ডে মিল বা ফিডিং কর্মসূচি ও সুনির্দিষ্ট তারিখ
শনিবার বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১ শাখার একটি চিঠির মাধ্যমে। গত ০২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উপ-সচিব মরিয়ম বেগম স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৩৮.০০.০০০০.০০৩.১২.১৪.০০০৪.২৫.৩১ এর চিঠিতে দেখা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু থাকা ১৫০টি উপজেলায় ১০টি শনিবার মিড ডে মিল (বনরুটি ও ডিম) সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তারিখগুলো হলো:
এপ্রিল: ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ তারিখ।
মে: ২, ৯ ও ১৬ তারিখ।
জুন: ১৩, ২০ ও ২৭ তারিখ।
এই তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৩ মে তারিখে মিড ডে মিল সরবরাহের কোনো নির্দেশনা নেই। অর্থাৎ, এই ১০টি শনিবারের তালিকায় ২৩ মে অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪. ২৩ ও ২৪ মে নিয়ে বিভ্রান্তি: অফিস বনাম বিদ্যালয়
সর্বশেষ ২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো: সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পত্রে (স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.০০০.১০৭.১৮.০০০৩.২৬.৮৩৬) জানানো হয় যে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে সকল সরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। কিন্তু অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রবিবার) অফিসসমূহ খোলা থাকবে।
এখানেই মূল বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ছুটি শুরু হচ্ছে ২৪ মে থেকে এবং বিদ্যালয় খুলবে ৬ জুন। অন্যদিকে, অফিসের ছুটি ৩১ মে পর্যন্ত। যেহেতু মিড ডে মিলের চিঠিতে ২৩ মে বিদ্যালয় খোলা রাখার কোনো উল্লেখ নেই এবং ২৪ মে থেকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ছুটি শুরু হচ্ছে, সেহেতু ২৩ ও ২৪ মে খোলা রাখার নির্দেশনাটি মূলত অফিসসমূহের জন্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নয়।
কর্তৃপক্ষের স্পষ্টীকরণ কেন জরুরি?
শিক্ষকদের জন্য ‘শ্রান্তি বিনোদন ভাতা’ প্রাপ্তির একটি অন্যতম শর্ত হলো নিরবচ্ছিন্নভাবে নন ভকেশনাল হওয়ায় ১৫ কর্ম দিবস ছুটি থাকা ।
অতএব, কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৩ মের বিষয়টি পরিষ্কার করা।
তথ্যসূত্র:
১. প্রজ্ঞাপন (১৮/০২/২০২৬), রেবেকা সুলতানা, যুগ্মসচিব।
২. অধিদপ্তরীয় আদেশ (২৪/০৩/২০২৬), মো: জয়নাল আবেদীন, উপপরিচালক।
৩. মন্ত্রণালয় পত্র (০২/০৪/২০২৬), মরিয়ম বেগম, উপ-সচিব।
৪. অধিদপ্তরীয় পত্র (২১/০৫/২০২৬), মো: সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী পরিচালক।
মন্তব্য করুন

ব্লগ