Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ মে, ২০২৬ ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ

আওয়ার অব এআইঃখেলার ছলে কোডিং শেখার দারুন সুযোগ

আওয়ার অব এআই : খেলার ছলে কোডিং শেখা


                     মোঃ টিপু সুলতান 


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (4IR) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিবান্ধব করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসের উপর দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবী। পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য আমাদের দেশে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে ২০১২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আইসিটি বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০১৫ সালে নবম-দশম শ্রেণিতে আইসিটি বিষয়টি বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে কারিকুলামে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিক  স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা স্তরে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে কারিকুলামে যুক্ত আছে।


প্রযুক্তি শিক্ষাকে জনপ্রিয়, শিক্ষার্থীদের আত্তীকরণ ও সর্বজনীন করার জন্য আইসিটি অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও অন্যান্য ইভেন্টের মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ব্যপকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান "কোড ওআরজি " এর সহযোগিতায় এবং এসপায়ার (এটুআই) এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে  শিক্ষার্থীদের কোডিং এবং প্রোগ্রামিং বিষয়ে দক্ষ করতে সারা দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘আওয়ার অব এআই ইন বাংলাদেশ-২০২৬’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এ কার্যক্রম ২৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ২৬ মে ২০২৬  পর্যন্ত।


দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কোডিং ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা দিয়ে আগামীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের প্রধান ঊদ্দেশ্য।


মউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক বাতায়নের 'আইসিটি৪ই অ্যাম্বাসেডর' এবং আইসিটি শিক্ষকদের যুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করে ‘কিশোর বাতায়ন’ প্লাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা  করবেন।


কার্যক্রমটি  সফল করতে মউশির অধীন দেশের সকল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, এবং থানা/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের প্রয়োজনীয় অনলাইন মিটিং ও  মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

‘Hour  of AI’  (আওয়ার অব এআই) হলো বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি শিক্ষামূলক কার্যক্রম। এখানে এই কার্যক্রমটি খেলার ছলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগে কোডিং শেখানোর একটি বিনোদনমূলক শিক্ষার সৃজনশীল উদ্যোগ। সহজ সরল ও বিনোদনের মাধ্যমে কেডিং বিষয়ে কোন প্রকার পূর্বঅভিজ্ঞতা ছাড়াই কোন জটিল কোড না লিখেও গেইম পাজল ও প্রজেক্টের মাধ্যমে কোডিং শেখানো হয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কার্যক্রমের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য এই ঊদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে।


কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, কোডিং এবং ডিজিটাল  স্বাক্ষরতা বাধ্যতামূলক করাতে হবে। শুধু তত্বীয় জ্ঞান নয় বাস্তব ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দেশের জনশক্তিকে এআই, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস ও রোবোটিকসের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে ভবিষ্যতের কাজের উপযোগী করে তুলতে হবে।


সারা দেশে সাশ্রয়ী ও দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চত করতে হবে। সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় শক্তিশালী নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে এবং ডেটা গোপনীতা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে রোবোটিকস ও নতুন প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে দেশিয় উদ্যোক্তা এগিয়ে আসতে পারে। সরকারি নীতির সাথে মিল রেখে বেসরকারি খাতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।  এই উদ্যোগের সাথে শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কারিগরী এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করলে আরো ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী উপকৃত হবার পাশাপাশি, দেশের দুটি শিক্ষাকারিকুলামও সমৃদ্ধ হবে।


এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায় থেকে বাছাই হয়ে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। আমাদের দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা অনেকে নানা  প্রকার গেম, কার্টুন, টিকটক-সহ অন্যান্য বিনোদন-মাধ্যমে আসক্ত থাকে। তাদেরকে সৃজনশীল ও ভবিষ্যৎ জীবনে প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগী করে তোলার জন্য আওয়ার অব এআই একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এতে করে সহজেই সাধরণ শিক্ষার্থীরা কোডিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে। আগামীর কর্ণধর আমাদের শিক্ষার্থীরা তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিশ্চিত অবদান রাখবে। তাদের সাফল্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে জ্বলজ্বল করবে। ফলে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সক্ষম হব।


আজকের তরুণ প্রজন্মকে আমরা বিশ্বের সমৃদ্ধ এবং উন্নততর দেশের সমকক্ষ বা আরো সমৃদ্ধ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রয়োজন রাষ্ট্র এবং সামাজিক সহযোগিতা।


লেখক: সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (অ্যাম্বাসেডর-নড়াইল)

ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রাসা, সিবানন্দপুর, নড়াইল। 

ই-মেইলঃ [email protected]

মোবাইল নম্বর : 01915009865

মন্তব্য করুন

ব্লগ