Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ মে, ২০২৬ ০১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ধারাবাহিক মূল্যায়ন..

ক. ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম ধারাবাহিক মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা পালন করে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষক সহায়িকার মূল্যায়ন অংশে উল্লিখিত ক্ষেত্র-জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্দেশকসমূহকে বিবেচনায় নিতে হবে। শিক্ষার্থী কর্তৃক পাঠ্যপুস্তকের কাজ সম্পন্নকরণ, শ্রেণিকাজে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা, শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা/বিষয়বস্তুর বোধগম্যতা যাচাই এবং ক্লাস টেস্ট-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভবে পরিচালনার জন্য শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বছরব্যাপী পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো।

ক.১ পাঠ্যপুস্তক/শিক্ষক সহায়িকার কাজ সম্পন্ন করা • শিক্ষাক্রমের শিখনফলের আলোকে পাঠ্যপুস্তক/শিক্ষক সহায়িকার বিভিন্ন পাঠে বিভিন্নরকম কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করলে ধাপে ধাপে তাদের শিখনফল অর্জিত হবে। শিক্ষার্থীরা এ সকল কাজ/অ্যাক্টিভিটি পাঠ্যপুস্তকে লিখবে/সম্পন্ন করবে। শিক্ষক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক-সহায়িকা অনুসরণপূর্বক পাঠ্যপুস্তকের নির্ধারিত জায়গায় শিক্ষার্থীদেরকে কাজ/অ্যাক্টিভিটি সম্পন্ন করতে দেবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফলাবর্তনসহ স্বাক্ষর করবেন। বিষয়ভিত্তিক এমন কিছু কাজ/অ্যাক্টিভিটি থাকে যেগুলো পাঠ্যপুস্তকে করা সম্ভব নয়, সেগুলো শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের করতে দেবেন; যেমন- শোনা ও বলা, রোল-প্লে (ভূমিকাভিনয়), সরব পাঠ,প্রদর্শন, প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট ওয়ার্ক, হাতেকলমে ব্যবহারিক কাজ ইত্যাদি। এ সকল কাজ/অ্যাক্টিভিটি শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে করবে, এ ক্ষেত্রে শিক্ষক প্রয়োজনীয় নোট নেবেন এবং শিক্ষার্থীকে ফলাবর্তন প্রদান করবেন। প্রতি প্রান্তিক শেষে সকল শিক্ষার্থীর পাঠ্যপুস্তক/অ্যাক্টিভিটি নোট যাচাই করে শিক্ষক নম্বর প্রদান করবেন। উল্লেখ্য, পাঠ্যপুস্তকের কাজ সম্পন্ন করার জন্য নম্বর প্রদানের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে এ সকল কাজ সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে শিখনফল/যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা। কোনো শিক্ষার্থী পাঠ্যপুস্তকের কাজ সম্পন্ন না করলে পরবর্তী সময়ে তাকে দিয়ে কাজগুলো সম্পন্ন করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে কাজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থী এবং অনিয়মিত কাজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের পার্থক্যের বিষয়টি শিক্ষক যথাযথভাব শিক্ষার্থীকে অবহিত করবেন।

ক.২ শ্রেণিকাজে সক্রিয়তা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের 'শ্রেণিকাজে সক্রিয়তা' পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিক্ষার্থী সক্রিয় থাকলে তার শিখন অর্জন দ্রুততর হয় এবং সে দায়িত্বশীল হতে শেখে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করবেন। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে কতটুকু সক্রিয়,তা মূল্যায়ন করে নম্বর প্রদান করবেন। শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নিচের গুণাবলি/সূচকগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে: শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে পাঠসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করে; শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তর প্রদানে আগ্রহী হয়; শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসারে শ্রেণিকাজ শুরু ও সম্পন্ন করে; শিক্ষকের নির্দেশনামতো একক/জোড়ায়/দলগত কাজে আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করে; পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে; বাড়ির কাজ দেওয়া হলে তা যথাসময়ে সম্পন্ন করে; ভূমিকাভিনয় (রোল-প্লে)/প্রেজেন্টেশন/প্রজেক্ট ওয়ার্ক ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহণ করে ও সম্পন্ন করে; শিক্ষক উল্লিখিত বিষয়সমূহ সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করবেন এবং প্রতি প্রান্তিকে একবার নম্বর প্রদান করবেন। কোনো শিক্ষার্থী কম সক্রিয় থাকলে তার সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলে নিস্ক্রিয়তার কারণ বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ক.৩ ভাষাদক্ষতা/বোধগম্যতা অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তকের নির্দিষ্ট কিছু অংশ পড়েই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে থাকে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে তাদের পাঠ্যবিষয়ের বোধগম্যতা ও ভাষাদক্ষতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন হয় না। এ কারণে সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত বোধগম্যতা ও ভাষা দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনুসৃত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন সম্পন্ন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ৪টি দক্ষতার (শোনা, বলা, পড়া ও লেখা)সবগুলোই অনুশীলন করাতে হবে। গণিত,বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্মশিক্ষা, শিল্পকলা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা এসকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বোধগম্যতা মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীর ভাষা দক্ষতা এবং বোধগম্যতার উন্নয়ন/পর্যায় পর্যবেক্ষণ করে নোট নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ফলাবর্তন দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষাদক্ষতা/বোধগম্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করতে হবে তা বিষয়ভিত্তিক পরিশিষ্ট অংশে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষক ভাষাদক্ষতা/বোধগম্যতার ধারণাকে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করবেন এবং প্রতি প্রান্তিকে একবার নম্বরপ্রদান করবেন।

ক.৪ ক্লাস টেস্ট পাঠ্যপুস্তক আছে এমন বিষয়সমুহের ক্ষেত্রে শিক্ষক প্রতি প্রান্তিকে ঐ প্রান্তিকের জন্য নির্ধারিত অর্জনোপযোগী যোগ্যতা ও শিখনফলের আলোকে কমপক্ষে দুটি ক্লাস টেস্ট নেবেন। শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয় এমন বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি ক্লাস টেস্ট নেয়া যেতে পারে। লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক কাজ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে ক্লাস টেস্ট নেবেন। একাধিক ক্লাস টেস্ট নেয়ার ক্ষেত্রে গড় নম্বর বিবেচনা করতে হবে। শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে ক্লাস টেস্ট নিতে হবে এবং ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফলাবর্তন প্রদান করতে হবে।  

মন্তব্য করুন

ব্লগ