সহকারী অধ্যাপক
১৯ মে, ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ
গুহাবাসীদের ঈমান - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
গুহাবাসীদের ঈমান
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ঝড় উঠেছিল রাজপথ জুড়ে,
মিথ্যার ছিল জয়,
সত্য বলাটা অপরাধ যেন,
ঈমান রাখা ভয়।
চারপাশজুড়ে শিরকের মেলা,
অন্যায়েরই জয়ধ্বনি,
তবু কিছু তরুণ বুকের ভিতর
জ্বলছিল নূরের আগুনখানি।
তারা বলল—
“হে আমাদের রব!
দাও রহমতের ছায়া,
এই কঠিন পথে তোমার দয়া
হোক আমাদের মায়া।
দাও এমন পথ,
যেখানে হৃদয় হারাবে না ঈমান,
দুনিয়ার ভয় নয়,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক প্রাণ।”
তারপর তারা ছেড়ে দিল
শহরের মোহ, রাজপ্রাসাদ,
সত্যের টানে গুহার বুকে
গড়ল তারা নতুন ইবাদত।
গুহার মাঝে নিস্তব্ধ রাত,
নিভে গেছে সব কোলাহল,
তবু আসমানে ফেরেশতারা
দিচ্ছিল শান্তির অনল।
সূর্য যখন উঠত ভোরে
আলো হেলে যেত ডানে,
আবার অস্ত বেলায় ছায়া
বামে যেত ধীরে টানে।
আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন যেন
প্রতিটি সকাল-সন্ধ্যা,
গুহার মাঝে রহমতের ঢেউ,
নেই কোনো ভয়-দ্বন্দ্ব।
তারা ঘুমিয়ে—
কিন্তু মনে হতো যেন জেগে আছে প্রাণ,
আল্লাহ নিজেই বদলাতেন
ডানে-বামে তাদের স্থান।
আর গুহামুখে বিশ্বস্ত কুকুর
দু’পা মেলে বসে,
প্রহরীর মতো পাহারা দিত
অন্ধকারের শেষে।
যদি কেউ হঠাৎ উঁকি দিত
সে রহস্যময় ঘরে,
ভয়ে তার বুক কেঁপে উঠত,
পালাত ত্বরায় দূরে।
কারণ সেখানে মানুষের ঘুম নয়,
ছিল এক মহান নিদর্শন,
যেখানে সময় থেমে ছিল,
জেগে ছিল শুধু পরম করুণার স্পর্শ।
শত শত বছর কেটে গেল,
দুনিয়া বদলালো ধীরে,
রাজা বদলাল, সভ্যতা বদলাল,
মানুষ এলো নতুন নীড়ে।
অবশেষে আল্লাহ জাগালেন
তাদের রহস্যঘুম শেষে,
তারা ভাবল—
“হয়তো ঘুমিয়েছি কিছুক্ষণ এই দেশে!”
একজন বলল—
“একদিন কি?”
অন্যজন— “দিনের অংশ!”
তারপর সবাই মাথা নত করে
বলল বিনয়-অবকাশ—
“আমাদের রবই ভালো জানেন
আমরা কতকাল ছিলাম,
এখন ক্ষুধার্ত প্রাণে চল
কিছু আহার নিয়ে আসি আমরা।”
তারা দিল রৌপ্যমুদ্রা হাতে,
বলল—
“শোনো, সাবধানে যেও,
শহরের সবচেয়ে পবিত্র খাবার
খুঁজে তবে নিয়ে এসো।
কারো কাছে আমাদের কথা
একদম প্রকাশ কোরো না,
কারণ তারা জানতে পারলে
রক্ষা আর হবে না।
হয়তো পাথর ছুঁড়ে মারবে,
হয়তো টানবে শিরকের পথে,
তখন আর সফল হব না
দুনিয়া-আখিরাতের রথে।”
কী গভীর সেই ঈমান ছিল!
কী অটল তাদের প্রাণ!
জীবন থেকেও প্রিয় ছিল
রবের দেয়া ঈমান।
অবশেষে মানুষ জানল
এই বিস্ময়ের ঘটনা,
সবাই বুঝল—
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো হয় না মিথ্যা।
কিয়ামত সত্য, পুনরুত্থান সত্য,
সত্য জান্নাত-জাহান্নাম,
যিনি শত বছর ঘুম পাড়ান,
তিনি দেবেন পুনর্জীবন অবিরাম।
কেউ বলল—
“তাদের স্মরণে ভবন গড়ো”,
কেউ বলল—
“ইবাদতের স্থান।”
কারণ ঈমানদারদের স্মৃতি
জাগায় হৃদয়ে নতুন প্রাণ।
আজও পৃথিবীর পথে পথে
অন্ধকারের রাজত্ব,
তবু কাহফের যুবকদের গল্প
দেয় সাহসের বার্তা অমৃত।
যখন চারপাশ ভেঙে পড়ে,
বন্ধু হয় প্রতারক,
যখন সত্য বলা কঠিন হয়,
আর বাতাস হয় বিষাক্ত—
তখন মনে রেখো,
গুহাবাসীরাও ছিল তরুণ,
তাদেরও ছিল ভয় আর কষ্ট,
তবু ছিল ঈমান অটুট গুণ।
আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন
তাকে পথভ্রষ্ট করে কে?
আর যাকে তিনি ছেড়ে দেন,
তাকে বাঁচাবে কিসে?
তাই হে রব!
আমাদের হৃদয়ও কাহফের যুবকদের মতো করো,
ফিতনার এই ভয়াল যুগে
ঈমানের আলো ভরে দাও ঘর-দোর।
দাও এমন সাহস—
সত্যের পথে যেন থাকি অটল,
দুনিয়ার লোভে না হারাই
আখিরাতের সফল।
দাও এমন অন্তর—
যেখানে থাকবে কুরআনের নূর,
দাও এমন জীবন—
যেখানে তুমি হবে সবচেয়ে প্রিয় ও সুর।
হে আল্লাহ!
আমাদেরও রেখো তোমার রহমতের গুহায়,
পাপের ঝড় থেকে বাঁচিয়ে
নাও হেদায়াতের ছায়ায়।
আমিন।
কাহফের যুবক : ঈমানের অমর আলোকগাথা
রাজপথ জুড়ে মিথ্যার শাসন,
অন্যায়েরই জয়,
সত্য বলাটা আগুন ছোঁয়া,
ঈমান রাখা ভয়।
মূর্তির সামনে মাথা নত করে
হাসত নগরবাসী,
তবু কিছু তরুণ বুকের ভেতর
তাওহীদের আলো ভাসে।
রাজদরবার শক্তিশালী,
চারদিকে ভয়ংকর চাপ,
তবু তারা বলেনি মিথ্যা,
করেনি সত্যের পরিত্যাগ।
তারা বলল—
“আমাদের রব আসমান-জমিনের রব,
তাঁকে ছাড়া কারো কাছে
নত হবে না এ হৃদয় সব।”
তারপর তারা চুপিসারে
শহর ছেড়ে দূরে গেল,
গুহার মাঝে আশ্রয় নিয়ে
রবের দয়া কামনা করল।
“হে আমাদের প্রভু!
আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন,
এই কঠিন পথের প্রতিটি ধাপে
হেদায়াতের আলো ছড়ান দিন।”
তারপর নেমে এলো শান্তি,
নিস্তব্ধ গুহার বুকে,
যেন পৃথিবীর সব কোলাহল
হারিয়ে গেল সুখে।
সূর্য উঠলে ডান পাশ ঘেঁষে
আলো যেত হেলে,
আবার অস্ত গেলে বাম দিক ছুঁয়ে
ছায়া যেত ধীরে মেলে।
কী অপূর্ব সেই ব্যবস্থাপনা!
কী রহমতের ছোঁয়া!
গুহার মাঝে করুণাধারা,
ভয় পেত না কেউ আর কভুয়া।
তারা ঘুমিয়ে—
তবু মনে হতো জেগে আছে প্রাণ,
আল্লাহ নিজেই ফিরিয়ে দিতেন
ডানে-বামে তাদের স্থান।
দীর্ঘ নিদ্রায় দেহ যেন
অসুস্থ না হয়ে যায়,
রবের হুকুমে পাশ বদলাত
সময়ের নীরব ছায়ায়।
আর গুহামুখে বিশ্বস্ত কুকুর
দু’পা বাড়িয়ে রয়,
প্রভুপ্রেমিক সেই তরুণদের
পাহারা দেয় নির্ভয়।
যদি কেউ উঁকি দিয়ে দেখত
সেই অলৌকিক দৃশ্য,
ভয়ে তার বুক জমে যেত,
হতো আতঙ্কে বিষ্ময়াভিভূত।
কারণ সেখানে সাধারণ ঘুম নয়,
ছিল কুদরতের নিদর্শন,
যেখানে শতাব্দী থেমে ছিল
রবের রহস্যময় আয়োজন।
বছর পেরোয়, যুগ পেরোয়,
বদলে যায় রাজত্ব,
রাজা মরে, সভ্যতা বদলায়,
মুছে যায় অহংকারের শক্ত।
তবু গুহার বুকে শান্ত হয়ে
ঘুমিয়ে থাকে তারা,
আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন
হারায় না তারা হারা।
অবশেষে একদিন রহমতের ডাকে
জেগে উঠল সবাই,
মনে হলো—
“হয়তো একটু ঘুমিয়েছি ভাই!”
একজন বলল—
“একদিন হবে?”
অন্যজন— “দিনের কিছু অংশ!”
তারপর সবাই বিনয়ভরে
করল রবের প্রশংস।
“আমাদের রবই ভালো জানেন
আমরা কতকাল ছিলাম,
এখন ক্ষুধার্ত, চল একজন
শহরে পাঠাই আমরা।”
রৌপ্যমুদ্রা হাতে দিয়ে
বলল তারা ধীরে—
“দেখো যেন পবিত্র খাবার
নিয়ে আসো ফিরে।
কাউকে কিছু বোলো না ভাই,
সাবধানে যেও পথে,
তারা জানতে পারলে আমাদের
টানবে শিরকের রথে।
হয়তো পাথর ছুঁড়ে মারবে,
হয়তো করবে নির্যাতন,
ঈমান হারালে সফলতা হবে
চিরদিনের জন্য ক্ষয়িষ্ণু।”
কী বিশুদ্ধ ছিল তাদের হৃদয়!
কী নির্মল ঈমান!
জীবনের চেয়েও বড় ছিল
রবের সন্তুষ্টির সম্মান।
তারা জানত—
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিক ছায়া,
আজ আছে, কাল নেই,
কিন্তু আখিরাতের অনন্ত সুখ
হারালে আর কিছুই রইল না তেই।
অতঃপর শহরের মানুষ জানল
গুহাবাসীদের কাহিনী,
সবাই বুঝল—
আল্লাহর ওয়াদা সত্য ধ্রুবজ্যোতি।
যিনি শত বছর ঘুম পাড়ান,
তিনিই আবার জাগান,
যিনি মৃত মাটিকে জীবিত করেন,
তিনিই কিয়ামতে ডাকবেন প্রাণ।
কেউ বলল—
“তাদের স্মৃতিতে গড়ো ভবন”,
কেউ বলল—
“ইবাদতের স্থান হোক এখানে গঠন।”
কারণ সত্যবাদীদের স্মৃতি
মানুষকে জাগায় বারবার,
তাদের জীবন পথ দেখায়
অন্ধকারে হারানো সংসার।
আজও পৃথিবী ভরা ফিতনায়,
মিথ্যার প্রবল ঢেউ,
সত্যবাদী মানুষ দেখলেই
অনেকে হাসে ঢেউ।
তবু কাহফের যুবকেরা
শেখায় অবিচল থাকা,
রবের পথে কষ্ট এলেও
ঈমান না যেন ফাঁকা।
যখন চারপাশ প্রতারণায় ভরা,
বন্ধুত্ব হয় স্বার্থের নাম,
যখন সত্যের মানুষগুলো
হয়ে যায় একাকী অবিরাম—
তখন মনে রেখো সেই তরুণদের,
যারা গুহায় ছিল আশ্রিত,
কিন্তু তাদের হৃদয়ের আলো
আজও পৃথিবীতে উজ্জ্বল লিখিত।
আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন
তাকে বিভ্রান্ত করবে কে?
আর যাকে তিনি পথহারা করেন
তাকে পথ দেখাবে কিসে?
তাই হে রব!
আমাদের হৃদয়ও এমন করো,
ফিতনার যুগে ঈমান নিয়ে
অটল থাকার শক্তি দাও আরো।
দাও এমন অন্তর—
যেখানে থাকবে কুরআনের আলো,
দাও এমন জীবন—
যেখানে সত্যের পথই ভালো।
দাও এমন সাহস—
অন্যায় দেখে যেন নীরব না হই,
তোমার সন্তুষ্টির পথে চলতে গিয়ে
মানুষের ভয় যেন না পাই।
হে আল্লাহ!
আমাদেরও রেখো রহমতের ছায়ায়,
গুনাহের অন্ধকার থেকে বাঁচিয়ে
নাও হেদায়াতের মায়ায়।
যেদিন কবর হবে একমাত্র ঘর,
থামবে দুনিয়ার সব আয়োজন,
সেদিন যেন কাহফের যুবকদের মতো
আমরাও পাই ঈমানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
আমিন।
***
গুহার নিস্তব্ধতায় ঈমানের আলো
যখন রাজপথ ভরে গেল
মিথ্যা আর অহংকারে,
যখন সত্যের কণ্ঠস্বর
হারিয়ে গেল অত্যাচারে—
তখন কিছু তরুণ উঠল দাঁড়িয়ে
বুকভরা তাওহীদ নিয়ে,
দুনিয়ার সব ভয়কে তারা
পিছনে ফেলল ধীরে ধীরে।
তারা জানত—
সত্যের পথে কাঁটা আছে,
অশ্রু আছে, দুঃখ আছে,
মানুষের ঘৃণা, অপবাদ আছে,
তবু রবের সন্তুষ্টি আছে।
তাই তারা ছাড়ল নগর,
ত্যাগ করল প্রাসাদ,
পেছনে ফেলে বিলাস-স্বপ্ন
বেছে নিল ইবাদত।
গুহার অন্ধকার বুকে
জ্বলল ঈমানের নূর,
সেই নূরের আলো আজও
আলোকিত করে হৃদয়-সুর।
তারা বলল—
“হে আমাদের রব!
আমাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন,
এই কঠিন সময়ের ভেতর
সঠিক পথ সহজ করুন।”
তারপর নেমে এলো শান্তি,
অদ্ভুত রহস্যময় ঘুম,
যেখানে শতাব্দী পেরিয়ে যায়
তবু থাকে রহমতের ঘ্রাণ ভরপুর।
সূর্য উঠলে ডান দিক ঘেঁষে
আলো সরে যেত ধীরে,
অস্ত গেলে বাম দিক ছুঁয়ে
ছায়া যেত নীরবে ফিরে।
মনে হতো যেন প্রকৃতিও
তাদের সম্মান করে,
আল্লাহর হুকুমে সূর্য যেন
রহমতের ছাতা ধরে।
তারা ঘুমিয়ে—
তবু মনে হতো জাগ্রত,
কারণ আল্লাহ নিজেই ছিলেন
তাদের রক্ষায় নিয়োজিত।
ডানে-বামে পাশ ফিরিয়ে
রাখতেন তাদের দেহ,
যেন দীর্ঘ ঘুমেও না আসে
কোনো কষ্ট কিংবা ক্লেশ।
আর সেই বিশ্বস্ত কুকুরটি
গুহামুখে পাহারায়,
দু’পা বাড়িয়ে শুয়ে আছে
বিশ্বাসের গভীর ছায়ায়।
যদি কেউ উঁকি দিয়ে দেখত
সেই গুহার নিস্তব্ধ দৃশ্য,
ভয়ে হয়তো ফিরে যেত
কাঁপত বুকের অস্তিত্ব।
কারণ সেখানে মানুষের সাধ্য নয়,
ছিল কুদরতের আয়োজন,
যেখানে সময় বন্দী হয়ে
শুনছিল আল্লাহর নির্দেশন।
বছর গড়াল, যুগ পেরোল,
মুছে গেল কত রাজা,
কত অহংকারী ক্ষমতাবান
হলো মাটিরই লাজা।
তবু গুহার ভেতর শান্ত হয়ে
ঘুমিয়ে রইল তারা,
আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন
হারায় না তারা হারা।
অবশেষে একদিন জেগে উঠে
তারা অবাক হয়ে কয়—
“আমরা কি ঘুমালাম একদিন?
নাকি কিছু সময়?”
তারপর বিনয়ের কণ্ঠে বলে—
“আমাদের রবই জানেন ভালো,
আমরা কতকাল ছিলাম এখানে,
তিনি ছাড়া নেই জানার আলো।”
তারা একজনকে পাঠাল শহরে
রৌপ্যমুদ্রা হাতে,
বলল—
“ভেজালমুক্ত পবিত্র খাবার
নিয়ে এসো সাবধানে পথে।
কাউকে যেন কিছু বোলো না,
গোপন রেখো খবর,
তারা জানতে পারলে হয়তো
নামবে ভয়ংকর প্রহর।
হয়তো পাথর ছুঁড়ে মারবে,
হয়তো ফিরাবে ধর্মে,
তখন আর সফল হব না
দুনিয়া কিংবা পরকালে।”
কী বিশুদ্ধ ছিল সেই ভয়!
কী পবিত্র তাদের প্রাণ!
জীবনের চেয়েও দামী ছিল
তাদের কাছে ঈমান।
আজও মানুষ দুনিয়ার জন্য
ঈমান বিকিয়ে দেয়,
ক্ষমতার লোভে সত্য ছেড়ে
মিথ্যার পেছনে ধায়।
কিন্তু কাহফের সেই তরুণেরা
শেখায় দৃঢ় থাকা,
রবের পথে জীবন গেলেও
সত্যকে না ফেলে রাখা।
অতঃপর আল্লাহ প্রকাশ করলেন
তাদের বিস্ময়গাথা,
যাতে সবাই বুঝতে পারে
কিয়ামত কোনো কল্পকথা নয় ব্যথা।
যিনি শত বছর ঘুম পাড়ান,
তিনিই আবার জাগান,
যিনি মৃত হৃদয়ে আলো দেন,
তিনিই কবর থেকে উঠান।
তখন মানুষ বলাবলি করল—
“তাদের স্মরণে কিছু গড়ো”,
কেউ বলল—
“একটি স্মৃতিসৌধ”,
কেউ বলল—
“ইবাদতের স্থান করো।”
কারণ সত্যবাদীদের স্মৃতি
মানুষকে পথ দেখায়,
অন্ধকারের ভেতর থেকেও
হেদায়াতের আলো ছড়ায়।
আজও এই পৃথিবীজুড়ে
ফিতনার কালো ঢেউ,
সত্যের মানুষ একলা হয়,
ভালোবাসা পায় না কেউ।
বন্ধুর মুখে স্বার্থের হাসি,
ভালোবাসায় প্রতারণা,
মানুষ মানুষকে ভুলে গিয়ে
করছে শুধু হানাহানি।
তবু কাহফের যুবকদের গল্প
বুকের ভেতর সাহস জাগায়,
যে আল্লাহ গুহায় রক্ষা করেন
তিনি আজও বান্দা বাঁচান।
তাই হে আমার প্রভু!
আমাদের হৃদয়ও এমন করো,
মিথ্যার স্রোতে ভেসে না গিয়ে
সত্যের পথে দৃঢ় করো।
যখন চারপাশ অন্ধকার হবে,
তখন কুরআনের আলো দিও,
যখন মানুষ ছেড়ে যাবে,
তখন তোমার রহমত দিও।
যখন ঈমান দুর্বল হবে,
তখন কাহফের যুবকদের কথা মনে করিও,
যেন দুনিয়ার ভয় ভুলে গিয়ে
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি ও মানি।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে নূরে ভরিয়ে দিন,
ফিতনার এই ভয়াল যুগে
সত্যের পথে অবিচল রাখুন।
আমাদের ঘরকে করুন
কুরআনের সুবাসে ভরা,
আমাদের জীবনকে করুন
তাওহীদের আলোয় গড়া।
যেদিন পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হবে,
সবাই ছেড়ে যাবে দূরে,
সেদিন যেন আপনার রহমত
আমাদের জড়িয়ে ধরে।
আর কিয়ামতের কঠিন ময়দানে
যেদিন মানুষ হবে দিশেহারা,
সেদিন যেন কাহফের যুবকদের মতো
আমরাও পাই ঈমানের নিরাপদ সীমানা।
আমিন।
***
কাহফের গুহায় নূরের কাফেলা
অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল
নগর আর জনপদ,
মিথ্যার মুকুট পরে বসেছিল
অহংকারের রাজসিংহাসন সদ্য।
মানুষ তখন দুনিয়ার মোহে
হারিয়ে ফেলেছে প্রাণ,
মূর্তির সামনে নত হয়ে গেছে
বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান।
তবু সেই কালো সময়েও
কিছু তরুণ বুক ভরে,
তাওহীদের দীপ জ্বালিয়ে
দাঁড়িয়েছিল সত্যের তরে।
তাদের চোখে ছিল না ভয়,
ছিল না দুনিয়ার লোভ,
তাদের হৃদয় বলত শুধু—
“রবের সন্তুষ্টিই শ্রেষ্ঠ রব।”
তারা বলল—
“আমাদের রব আসমান-জমিনের মালিক,
তাঁকে ছেড়ে অন্য কারো নামে
নত হব না কোনোদিন ঠিক।”
তারপর একদিন নিঃশব্দ রাতে
শহর ছেড়ে তারা যায়,
পেছনে পড়ে থাকে রাজপ্রাসাদ,
সামনে গুহার নির্জন ছায়া।
গুহার বুকে বসে তারা
দোয়া তুলে কাঁদল ধীরে—
“হে আমাদের পরম রব!
রহমত বর্ষণ করুন আমাদের তরে।
এই ফিতনার ভয়াল যুগে
সত্যের পথে রাখুন অটল,
আপনার দয়া ছাড়া হে রব
নেই তো কোনো সম্বল।”
তারপর গুহার নিস্তব্ধ বুকে
নেমে এলো শান্তির ঘুম,
যেন ফেরেশতারা পাহারা দেয়
রহমতের সুবাসে ভরপুর কক্ষরুম।
সূর্য যখন উঠত ধীরে
আলো যেত ডানে হেলে,
আবার অস্ত গেলে ছায়া এসে
বামে যেত নরম মেলে।
মনে হতো সূর্যও যেন
তাদের আদব করে চলে,
আল্লাহর হুকুমে প্রকৃতিও
রহমতের পর্দা তুলে।
তারা ঘুমিয়ে—
তবু মনে হতো জাগ্রত,
কারণ আল্লাহ নিজ হাতে ছিলেন
তাদের রক্ষায় নিয়োজিত।
ডানে-বামে পাশ বদলাতেন
করুণার অদৃশ্য ছোঁয়ায়,
যেন শত বছরের ঘুমেও
দেহ না কষ্ট পায়।
আর সেই বিশ্বস্ত কুকুরটি
গুহামুখে শুয়ে রয়,
দু’পা বাড়িয়ে পাহারা দেয়
অদ্ভুত শান্তিময়।
যদি কেউ উঁকি মেরে দেখত
সেই অলৌকিক দৃশ্যখানি,
ভয়ে তার হৃদয় জমে যেত,
ফিরে যেত পথ না জানি।
কারণ সেখানে ছিল না শুধু
কয়েকটি নিদ্রিত প্রাণ,
ছিল আল্লাহর অসীম কুদরত,
ছিল রহস্যের সম্মান।
বছর পেরোয়, যুগ গড়িয়ে যায়,
রাজা বদলায় শতবার,
ক্ষমতার গর্ব মাটিতে মিশে
হারিয়ে যায় অহংকার।
তবু গুহার ভেতর ঘুমিয়ে থাকে
ঈমানদীপ্ত সেই তরুণ,
আল্লাহ যাদের বন্ধু হন
তাদের কে করবে ক্ষুণ্ণ?
অবশেষে একদিন আল্লাহর হুকুমে
জেগে উঠল তারা,
চোখ মেলে দেখে পৃথিবী যেন
অচেনা নতুন ধারা।
একজন বলে—
“আমরা বুঝি ঘুমিয়েছি একদিন?”
অন্যজন বলে—
“হয়তো দিনের কিছু অংশ ছিল ক্ষীণ।”
তারপর সবাই বিনয়ভরে
মাথা নত করে কয়—
“আমাদের রবই ভালো জানেন
কতকাল ঘুমিয়েছি নিশ্চয়।”
ক্ষুধার্ত হৃদয় নিয়ে তারা
পরামর্শ করল পরে,
একজনকে পাঠানো হলো
শহরের ব্যস্ত ঘরে।
রৌপ্যমুদ্রা হাতে দিয়ে
বলল সতর্ক বাণী—
“ভেজালমুক্ত পবিত্র খাবার
খুঁজে আনো এখনি।
কাউকে যেন কিছু বোলো না,
সাবধানে চলো পথে,
তারা জানতে পারলে হয়তো
ফিরিয়ে নেবে শিরকের রথে।
হয়তো পাথর ছুঁড়ে মারবে,
হয়তো করবে নির্যাতন,
ঈমান হারালে সফলতা হবে
চিরদিনের জন্য ক্ষয়িষ্ণু জীবন।”
কী গভীর ছিল তাদের তাকওয়া!
কী নির্মল অন্তরখানি!
জীবনের চেয়েও প্রিয় ছিল
রবের দেওয়া ঈমানি।
আজও মানুষ দুনিয়ার লোভে
সত্যকে বিকিয়ে দেয়,
ক্ষমতার মোহে পড়ে গিয়ে
মিথ্যার পথেই ধায়।
কিন্তু কাহফের যুবকদের জীবন
আজও শেখায় দৃঢ়তা,
রবের পথে কষ্ট এলেও
না হারানোর প্রত্যয়তা।
অবশেষে মানুষ জানতে পারল
গুহাবাসীদের বিস্ময়,
তখন সবাই বুঝতে শিখল—
আল্লাহর ওয়াদা সত্যময়।
কিয়ামত সত্য, পুনর্জীবন সত্য,
সত্য জান্নাত-জাহান্নাম,
যিনি শত বছর ঘুম পাড়ান
তিনিই জাগাবেন সব মানবগ্রাম।
কেউ বলল—
“তাদের স্মৃতিতে গড়ো ভবন”,
কেউ বলল—
“ইবাদতের স্থান হোক গঠন।”
কারণ সত্যবাদীদের স্মৃতি
মানুষকে পথ দেখায়,
অন্ধকারে হারানো হৃদয়কে
হেদায়াতের আলোয় ভরায়।
আজও পৃথিবীর পথে পথে
ফিতনার ভয়াল ঝড়,
সত্যবাদীরা একলা হয়ে
বুকের ভেতর বহে কষ্টঘোর।
বন্ধুত্বেও স্বার্থ মেশে,
ভালোবাসাতেও ছল,
মানুষ মানুষকে আঘাত করে
অহংকারে অবিচল।
তবু কাহফের যুবকদের কাহিনি
বুকের মাঝে আশা জাগায়,
যে আল্লাহ গুহায় রক্ষা করেন
তিনি আজও বান্দা বাঁচান মহিমায়।
তাই হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়ও নূরে ভরিয়ে দিন,
মিথ্যার স্রোতে ভেসে না গিয়ে
সত্যের পথে অটল রাখুন আমিন।
যখন চারপাশ অন্ধকার হবে
কুরআনের আলো দিও,
যখন সবাই দূরে সরে যাবে
তখন আপনার রহমত দিও।
যখন ঈমান দুর্বল হয়ে যাবে
কাহফের যুবকদের কথা মনে করিও,
যেন দুনিয়ার ভয় ভুলে গিয়ে
শুধু আপনাকেই ভালোবাসি ও মানি।
হে পরম দয়াময়!
আমাদের ঘরকে করুন নূরের বাগান,
আমাদের জীবনকে করুন
তাওহীদের সুবাসে ভরা জান্নাতের দিশারী স্থান।
যেদিন কবর হবে একমাত্র ঠিকানা,
থেমে যাবে দুনিয়ার আয়োজন,
সেদিন যেন কাহফের যুবকদের মতো
আমরাও পাই ঈমানের নিরাপদ আশ্রয়-প্রাঙ্গণ।
আমিন।
-(সূরাঃ আল-কাহফ আয়াতঃ ১৭-২১মাক্
৪
৪ মন্তব্য