৬৫৮ সালের ১৭ জুন (৩৫ হিজরি) ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) একদল বিদ্রোহীদের দ্বারা মদিনায় নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় নির্মমভাবে শহীদ হন。 বিদ্রোহীদের উসকানি, ভুল বোঝাবুঝি এবং খলিফার উদারতার সুযোগ নিয়ে সৃষ্ট একটি সংকটময় পরিস্থিতি থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার উৎপত্তি。 [
1,
2]
হযরত ওসমান (রাঃ) এর হত্যার পুরো কাহিনী এবং এর পটভূমি নিচে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো:
১. হত্যার পটভূমি ও বিদ্রোহের সূচনা
হাজারো সাহাবি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে খিলাফতের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়。 বিশেষ করে, মিসর, কুফা ও বসরা থেকে কিছু লোক মদিনায় এসে খলিফার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ আনে। হযরত আলী (রাঃ) সহ অন্যান্য প্রবীণ সাহাবিদের মধ্যস্থতায় প্রাথমিকভাবে একটি সমঝোতা হলেও, পরে একটি ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিদ্রোহীরা খলিফাকে পদত্যাগ করতে বললে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দেওয়া খিলাফতের দায়িত্ব নিজের ইচ্ছায় ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। [
1,
2,
3,
4,
5,
6]
সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিদ্রোহীরা প্রায় ৪০ দিন ধরে হযরত ওসমান (রাঃ)-এর বাসভবন অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা তাঁর বাড়িতে খাদ্য ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। খলিফার অনুগত সাহাবিরা অস্ত্র হাতে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ করতে চাইলে, তিনি রক্তপাত ও গৃহযুদ্ধ এড়ানোর জন্য তাদের নিষেধ করেন। এমনকি তিনি বহুবার বিদ্রোহীদের সাথে সদয় আচরণ করেন এবং ইসলামের ঐক্যের স্বার্থে আলোচনার চেষ্টা চালান। [
1,
2,
3,
4,
5]
বিদ্রোহীরা মূল দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে পাশের এক বাড়ি থেকে দেয়াল টপকে খলিফার কক্ষে প্রবেশ করে। তখন হযরত ওসমান (রাঃ) পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। [
1,
2]
- হামলা: বিদ্রোহীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবন আবু বকরের নেতৃত্বে কয়েকজন খলিফার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে আঘাত করে।
- পবিত্র কুরআনের অবমাননা: আঘাতের ফলে খলিফার পবিত্র রক্তের ফোঁটা পবিত্র কুরআনের পাতার ওপর পড়ে।
- স্ত্রীর বাধা: তাঁর স্ত্রী হযরত নাইলা (রাঃ) খলিফাকে আড়াল করে রক্ষা করার চেষ্টা করলে, বিদ্রোহীদের তরবারির আঘাতে তাঁর হাতের আঙুলগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- শাহাদাত: অবশেষে বিদ্রোহীরা খলিফাকে নির্মমভাবে তরবারির আঘাতে শহীদ করে। [1, 2, 3]
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পুরো মুসলিম বিশ্বে গভীর শোক ও চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধের (যেমন: উটের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধ) জন্ম দেয়।
২
২ মন্তব্য