Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ মে, ২০২৬ ০৯:০২ পূর্বাহ্ণ

হামের প্রধান লক্ষণ ও প্রতিকার

হাম (Measles) হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে সঠিক সময়ে টিকা না নিলে এটি যেকোনো বয়সে হতে পারে।

নিচে হামের লক্ষণ, ছড়ানোর উপায়, জটিলতা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. হামের প্রধান লক্ষণসমূহ

হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • তীব্র জ্বর: রোগ শুরুর দিকে শরীর বেশ গরম হয়ে ওঠে এবং প্রচণ্ড জ্বর হয়।

  • কাশি ও সর্দি: সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার মতো অনবরত হাঁচি, সর্দি এবং শুকনো কাশি থাকে।

  • চোখ লাল হওয়া: চোখ দুটো লাল হয়ে যায়, জল পড়ে এবং আলোতে চোখের অস্বস্তি বাড়ে।

  • কোপলিক স্পট (Koplik's Spots): রোগ শুরুর ২-৩ দিনের মাথায় মুখের ভেতরের অংশে (গালে ভেতরের দিকে) ছোট ছোট সাদাটে বা নুনের দানার মতো দাগ দেখা যায়।

  • শরীরে র‍্যাশ বা গুটি: ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়। এটি সাধারণত কানের পেছন এবং মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে পুরো শরীরে, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।


২. এটি যেভাবে ছড়ায়

হাম একটি বায়ুবাহিত রোগ এবং এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়:

  • আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার মাধ্যমে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

  • বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে (যেমন- টেবিল, দরজার হাতল) এই ভাইরাস প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সুস্থ ও টিকাহীন ব্যক্তির এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৯g০% এর বেশি থাকে।


৩. হামের সম্ভাব্য জটিলতা

সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা না হলে হামের কারণে কিছু মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে:

  • কানে ইনফেকশন বা সংক্রমণ।

  • তীব্র ডায়রিয়া এবং এর ফলে পানিশূন্যতা।

  • নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), যা হামের কারণে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

  • এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।


৪. প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

  • টিকাদান (가장 কার্যকর উপায়): হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে MR (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি ইপিআই (EPI) শিডিউল অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়।

  • চিকিৎসা: হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয় (যেমন- জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল)।

  • ভিটামিন 'এ' (Vitamin A): হামে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

  • বিশ্রাম ও তরল খাবার: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে জল, স্যুপ ও পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

সতর্কতা: হামে আক্রান্ত রোগীকে অন্য সুস্থ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের থেকে আলাদা (Isolate) রাখা উচিত, যাতে রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ