সহকারী শিক্ষক
১৭ মে, ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আমাদের চারপাশে বিশ্বস্ত এবং আদুরে পোষা প্রাণী থেকে শুরু করে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বহু কুকুর বা বিড়াল আমরা দেখতে পাই। কিন্তু এই পরিচিত প্রাণীদের কামড় বা আঁচড় থেকে এমন এক ভয়াবহ রোগ হতে পারে, যার কোনো প্রতিকার নেই। রোগটির নাম জলাতঙ্ক (Rabies)।
সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে প্রতি বছর পৃথিবীতে বহু মানুষ এই রোগে প্রাণ হারান। আজ আমরা জানবো জলাতঙ্ক কী, এর লক্ষণ এবং এটি প্রতিরোধের উপায়।
জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাল রোগ, যা মূলত র্যাবিস (Rabies) ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এটি একটি 'জুনোটিক' (Zoonotic) রোগ, যার অর্থ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত পাগল বা আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা বানরের কামড়, আঁচড় বা লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
এই ভাইরাসের মূলtarget হলো মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System)। একবার শরীরে লক্ষণ দেখা দিলে এই রোগ থেকে বেঁচে ফেরা অসম্ভব বললেই চলে। মৃত্যুর হার প্রায় ১০০%। তবে আশার কথা হলো, সঠিক সময়ে টিকা নিলে এই রোগ ১০০% প্রতিরোধযোগ্য।
কামড় বা আঁচড় খাওয়ার পর সাধারণত ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি কয়েক সপ্তাহ থেকে এক বছরও হতে পারে। লক্ষণগুলোকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাথমিক লক্ষণ:
২. তীব্র বা চূড়ান্ত লক্ষণ:
যদি কোনো সন্দেহভাজন প্রাণী (বিশেষ করে কুকুর বা বিড়াল) কামড়ায় বা আঁচড় দেয়, তবে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
সতর্কতা: কামড়ের স্থানে কখনো চুন, মরিচ বা বাটি চালান দেওয়ার মতো কুসংস্কার বা কবিরাজি চিকিৎসা করবেন না। এতে ইনফেকশন ও মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
১. পোষা প্রাণীর টিকাদান: আপনার ঘরে যদি কুকুর বা বিড়াল থাকে, তবে নিয়ম মেনে সেগুলোকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দিন।
২. রাস্তার প্রাণীদের টিকাদান: গণ-টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তার কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা উচিত।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: শিশু বা পরিবারের সদস্যদের অপরিচিত বা হিংস্র প্রাণীদের থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিন। কোনো প্রাণী কামড়ালে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত পরিবারকে জানাতে বলুন।
০
০ মন্তব্য