Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ মে, ২০২৬ ০৯:০২ অপরাহ্ণ

শিখন ঘাটতি পূরনে করনীয়

শিখন ঘাটতি পূরণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়। এ ঘাটতি দূর করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. শিক্ষকের করণীয়

ক) শিখন ঘাটতি শনাক্তকরণ

শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল তা নির্ণয় করা।

সহজ প্রশ্ন, মৌখিক জিজ্ঞাসা ও ছোট কুইজের মাধ্যমে শেখার অবস্থা যাচাই করা।

খ) আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পাঠদান,গল্প, ছবি, ছড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করে পাঠ উপস্থাপন।

দলীয় কাজ ও সহপাঠী সহযোগিতামূলক শিক্ষা চালু করা।

গ) দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা,অতিরিক্ত সময় দিয়ে ধীরে ধীরে শেখানো, পুনরাবৃত্তিমূলক অনুশীলনের ব্যবস্থা করা।

সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা প্রদান করা।

ঘ) নিয়মিত মূল্যায়ন ও ফিডব্যাক, সাপ্তাহিক মূল্যায়ন গ্রহণ।

ভুলগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া,শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও প্রশংসা করা।

ঙ) অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ,শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিয়মিত জানানো।

বাসায় কীভাবে সহযোগিতা করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।

২. শিক্ষার্থীর করণীয়

ক) নিয়মিত অধ্যয়ন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা করা।, শ্রেণিকাজ ও বাড়ির কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা।

খ) না বুঝলে প্রশ্ন করা, শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞাসা করতে সংকোচ না করা।, বন্ধুদের সহযোগিতা নেওয়া।

গ) পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলন

প্রতিদিন পূর্বের পাঠ পুনরায় পড়া।

বেশি বেশি লিখে ও পড়ে অনুশীলন করা।

ঘ) মনোযোগ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা

শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী থাকা।

মোবাইল বা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করা।

ঙ) আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি

“আমি পারবো” মনোভাব তৈরি করা।

ছোট ছোট সাফল্যে নিজেকে উৎসাহিত করা।

৩. অভিভাবকের করণীয়

ক) পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা

বাসায় শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ তৈরি করা।

প্রয়োজনীয় বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা।

খ) নিয়মিত খোঁজখবর রাখা

সন্তান প্রতিদিন কী শিখছে তা জিজ্ঞাসা করা।

বাড়ির কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা দেখা।

গ) উৎসাহ ও মানসিক সহায়তা দেওয়া

বকাঝকা না করে ধৈর্য ধরে শেখানো।

ভালো কাজের প্রশংসা করা।

ঘ) বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রাখা

শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা।

অভিভাবক সভায় অংশগ্রহণ করা।

ঙ) প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা

মোবাইল/টিভির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।

শিক্ষামূলক ভিডিও ও কনটেন্ট দেখাতে উৎসাহ দেওয়া।

উপসংহার

শিখন ঘাটতি পূরণ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। শিক্ষক সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন, শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুশীলন করবে এবং অভিভাবক সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করবেন—এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি দূর করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ