প্রভাষক
১৭ মে, ২০২৬ ০৮:২১ অপরাহ্ণ
মহাবিশ্বের বস্তুর ভর (Mass) দুটি উৎস
মহাবিশ্বের যেকোনো বস্তুর ভর (Mass) প্রধানত দুটি উৎস থেকে আসে:
হিগস ফিল্ডের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং কণাগুলোর মধ্যকার গতিশক্তি ও বন্ধন শক্তি। আইনস্টাইনের (E=mc^2) সূত্র অনুযায়ী, শক্তিই মূলত ভর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।পদার্থের ভর সৃষ্টির এই প্রক্রিয়াটিকে নিচে বিস্তারিতভাবে ৪টি মূল ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. হিগস ফিল্ড এবং মৌলিক কণার ভরমহাবিশ্ব জুড়ে হিগস ফিল্ড (Higgs Field) নামক একটি অদৃশ্য শক্তি ক্ষেত্র ছড়িয়ে রয়েছে। ইলেকট্রন এবং কোয়ার্কের মতো মৌলিক কণাগুলো যখন এই ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে চলাচল করে, তখন তারা এক ধরণের বাধা বা জড়তার মুখোমুখি হয়। এই বাধাই কণাগুলোকে ভর দেয়।সহজ উদাহরণ: আপনি যদি পানির নিচে হাত নাড়াতে যান, তবে পানির ঘনত্বের কারণে একটি বাধা অনুভব করবেন। হিগস ফিল্ডও একইভাবে কণাগুলোকে ভরযুক্ত করে।হিগস বোসন: এই ক্ষেত্রের উদ্দীপিত রূপই হলো বিখ্যাত হিগস বোসন (Higgs Boson) কণা, যা ২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে আবিষ্কার করেন।২. প্রোটন ও নিউট্রনের অভ্যন্তরীণ শক্তিআমাদের চারপাশের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের (যেমন: মানুষ, গ্রহ, তারা) ৯৯% ভরই আসে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন এবং নিউট্রন থেকে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রোটন ও নিউট্রন যে কোয়ার্ক কণা দিয়ে তৈরি, হিগস ফিল্ড থেকে পাওয়া সেই কোয়ার্কগুলোর ভর প্রোটনের মোট ভরের মাত্র ১%।বাকি ৯৯% ভর আসে প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরে থাকা শক্তির মাধ্যমে:
গ্লুয়ন কণা (Gluons): কোয়ার্কগুলো প্রোটনের ভেতরে স্থির থাকে না, বরং আলোর কাছাকাছি গতিতে প্রচণ্ড বেগে ছুটোছুটি করে। এদেরকে একসাথে বেঁধে রাখে 'গ্লুয়ন' নামক বলবাহী কণা।
তীব্র নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): এই ছুটোছুটি এবং গ্লুয়নের তীব্র আকর্ষণের কারণে প্রোটনের ভেতরে এক বিশাল গতিশক্তি (Kinetic Energy) এবং বন্ধন শক্তি (Binding Energy) তৈরি হয়।
৩. আইনস্টাইনের (E=mc^2) সূত্রের ভূমিকাপদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র (E=mc^2) অনুযায়ী, ভর (m) এবং শক্তি (E) আলাদা কিছু নয়; এরা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। প্রোটন এবং নিউট্রনের ভেতরের সেই বিপুল পরিমাণ গতিশক্তি ও বন্ধন শক্তিই ঘনীভূত হয়ে আমাদের কাছে ভর বা ওজন হিসেবে ধরা দেয়।
৪. ভরের প্রধান উৎসগুলোর সংক্ষিপ্ত তুলনানিচের তালিকায় ভরের বিভাজনটি সংক্ষেপে দেখানো হলো:ভরের উৎসকার ওপর প্রযোজ্যমোট ভরের অবদান (দৃশ্যমান মহাবিশ্বে)হিগস ফিল্ড (Higgs Field)ইলেকট্রন, কোয়ার্ক ও মৌলিক কণাপ্রায় ১%গতি ও বন্ধন শক্তি (QCD Energy)প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরের শক্তিপ্রায় ৯৯%।
সারসংক্ষেপসহজ কথায়, মৌলিক কণাগুলোর নিজস্ব কোনো ভর থাকত না যদি না হিগস ফিল্ড থাকত। আর আমাদের চারপাশের চেনা জগতের বস্তুর ভর মূলত হিগস ফিল্ডের দান নয়, বরং পরমাণুর গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রচণ্ড শক্তির সমষ্টি।
৫
৫ মন্তব্য