সহকারী অধ্যাপক
১৭ মে, ২০২৬ ০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ
মুত্তাকীদের মহাসফলতা - মোঃ মুজিবুর রহমান
মুত্তাকীদের মহাসফলতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যারা রাতে নীরব কাঁদে প্রভুরই দরবারে,
যারা গোপন অশ্রু ঢালে সিজদার অন্ধকারে,
যারা দুনিয়ার মোহ ছেড়ে সত্যের পথে চলে,
আল্লাহ বলেন—“এসো আজ, শান্তি তোমাদের তলে।”
তাদের জন্য সফলতা, অনন্ত সুখের দেশ,
যেখানে নেই কষ্টের ছায়া, নেই কোনো ক্লেশ।
সেখানে বয়ে শান্তি-নদী, নূরের সুবাস ভাসে,
রহমতেরই স্নিগ্ধ হাওয়া হৃদয় জুড়িয়ে আসে।
উদ্যান ভরা সবুজ ছায়া, ফলের নত ডাল,
আঙ্গুরলতা হাসে যেন মুক্তার রঙিন জাল।
ঝর্ণাধারা কলকলিয়ে গান শোনাবে ধীরে,
দুঃখ যত হারিয়ে যাবে জান্নাতেরই নীড়ে।
সেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ, নেই কোনো ভয়,
নেই বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস, নেই ব্যথাময় ক্ষয়।
শান্ত হৃদয় প্রশান্ত মুখ, তৃপ্ত সকল প্রাণ,
রবের দয়ায় পূর্ণ হবে চিরকালের গান।
সম্মানিত হবে তারা অফুরন্ত আদরে,
নূরের মুকুট শোভা পাবে তাদেরই কপালে।
সৎকর্ম যাদের ছিল শুধু আল্লাহরই তরে,
আজ তারা হাসছে সুখে জান্নাতেরই ঘরে।
পরিপূর্ণ পানপাত্র ঘুরবে হাতে হাতে,
ক্লান্তি যার স্পর্শ করবে না কোনো প্রহর রাতে।
না থাকবে কোনো অসার কথা, না পাপের ধ্বনি,
চারিদিকে শান্তি শুধু, প্রশান্তিরই বাণী।
হুরেরা থাকবে লজ্জাবতী নির্মল পবিত্রতায়,
চোখে তাদের জান্নাতি নূর কোমল মাধুর্যতায়।
কিন্তু সবার চেয়ে বড় যে পুরস্কারের আলো—
রবের সন্তুষ্টি লাভ, সেই তো শ্রেষ্ঠ ভালো।
যারা দুনিয়ায় অন্যায়ের সাথে করেনি আপোষ,
হারাম পথে নেয়নি সুখ, রাখেনি পাপের রোষ,
আজ তাদেরই জন্য খুলে জান্নাতের সব দ্বার,
ফেরেশতারা বলবে হেসে—“এলো সফলতার সার।”
মুত্তাকীরা ভয় পেত খুব গোপন হিসাব দিনে,
তাই তো তারা বাঁচত সদা কুরআনেরই ঋণে।
মানুষ ঠকায়নি কখনো, ভাঙেনি কারো মন,
তাই আজ তাদের জন্য জ্বলে জান্নাতেরই ক্ষণ।
কত মানুষ দুনিয়াতে সম্পদ নিয়ে মাতে,
ক্ষমতারই অহংকারে অন্যকে কষ্ট দেয় হাতে।
কিন্তু শেষে সবই ফুরায়, মুছে যায় পরিচয়,
রবের কাছে তাকওয়াই শুধু চিরদিনের জয়।
যে যুবক লুকিয়ে রাখে চোখের পাপের আগুন,
যে তরুণী লজ্জা ঢাকে ঈমানেরই বুনন,
যারা রবের ভয়ে চলে নিভৃত নির্জনে,
তাদের জন্য সুখ অপেক্ষায় জান্নাতেরই কোণে।
সকালবেলা কুরআনের সুর যাদের প্রাণ জুড়ায়,
তাহাজ্জুদের অশ্রুবিন্দু যারা গোপন ঝরায়,
তাদের জন্য আসমানে আজ সুখের ঘোষণা হয়—
“এসো আমার প্রিয় বান্দা, শেষ হলো সব ভয়।”
জান্নাত শুধু ফলের বাগান, নদী কিংবা ঘর নয়,
জান্নাত মানে আল্লাহর কাছে চিরনিরাপদ আশ্রয়।
জান্নাত মানে শান্ত হৃদয়, জান্নাত মানে নূর,
জান্নাত মানে রবের রহমত অনন্ত ভরপুর।
হে প্রভু! আমরাও চাই মুত্তাকীদের দলে,
পাপের কালো দাগ মুছে নাও করুণারই জলে।
আমাদের হৃদয় ভরাও তাকওয়ার আলো দিয়ে,
শেষ নিশ্বাস উঠুক যেন ঈমান বুকে নিয়ে।
হাশরের সেই কঠিন দিনে রেখো দয়ার ছায়ায়,
অন্ধকারের ভিড়ের মাঝে নূরের পথে আয়।
আর ডেকে বলো মেহেরবানে—
“প্রবেশ করো শান্তিমনে,
এই জান্নাত তোমাদেরই জন্য চিরদিন রয়ে।” آمين।
***
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে মহা সফলতা,
রহমতের উদ্যানভরা অনন্ত শান্তির বারতা।
যেখানে নেই মৃত্যুভয়, নেই বিচ্ছেদের কান্না,
নেই কোনো দুঃখের ছায়া, নেই হতাশার বেদনা।
সেখানে বাগিচা জাগে নূরেরই সুবাসে,
আঙ্গুরলতা দোলে ধীরে জান্নাতি বাতাসে।
ঝর্ণাগুলো কলকলিয়ে তাসবীহ যেন পড়ে,
পাখিরাও গান শোনাবে প্রশান্ত ভোরে ভোরে।
সেই উদ্যানের প্রতিটি ফুল রঙিন রহমতে,
প্রতিটি ফল ঝুলে থাকে মহান রবের দয়াতে।
চাইলে যা মন, তা-ই মিলবে অনন্ত সুখের ঘরে,
কোনো কষ্ট আসবে না আর জান্নাতবাসীর তরে।
মুত্তাকীরা দুনিয়াতে কেঁদেছিল গোপনে,
মানুষ হাসত তাদের দেখে অবহেলার স্বরে।
কিন্তু আজকে তারাই হাসে চিরশান্তির দেশে,
রবের রহমত বর্ষে তাদের হৃদয়েরই শেষে।
তারা রাতের নির্জনতায় তাহাজ্জুদে দাঁড়াত,
চোখের অশ্রু নীরবে শুধু সিজদাতে ঝরাত।
লোকচক্ষুর আড়ালেতে করত যারা দোয়া,
আজকে তাদের নাম ঘোষণা আসমানেরই ছোঁয়া।
পরিপূর্ণ পানপাত্র ঘুরবে হাতে হাতে,
ক্লান্তি যাকে ছুঁতে পারবে না কোনো প্রহর রাতে।
না তাতে হবে মাতলামি, না থাকবে বিভ্রান্তি,
শুধু হৃদয় ভরে যাবে প্রশান্তিতে শান্তি।
সেখানে থাকবে পবিত্র সঙ্গ নির্মল ভালোবাসায়,
লজ্জাবতী সৌন্দর্য ঝলমল নূরের আভায়।
কোনো পাপের গন্ধ নেই, নেই হিংসা-অভিমান,
শুধু সুখের নদী বয়ে ভরাবে প্রতিক্ষণ প্রাণ।
ফেরেশতারা বলবে হেসে—
“এই তো সেই সফল জন,
যারা দুনিয়ায় ভয় করেছিল মহান রবের শাসন।
এসো তোমরা জান্নাতে আজ শান্তির আশ্রয়ে,
রহমতেরই দরজা খুলে রয়েছে তোমাদের তরে।”
দুনিয়ার ক্ষণিক সুখে যারা হয়নি বিভোর,
হারাম পথের চাকচিক্যে হয়নি অন্ধ ঘোর,
অল্পে থেকেও শুকরিয়া করেছে নিরবধি,
আজ তাদেরই ঘিরে আছে জান্নাতি সুখনদী।
যে যুবক পাপের ডাকে ফিরিয়ে নিত চোখ,
যে তরুণী লজ্জা দিয়ে সাজাত নিজের লোক,
যারা কুরআনের আলো বুকে আঁকড়ে ধরে চলত,
আজ তাদেরই ভাগ্যে জান্নাতের সুখ ফলত।
কত রাজা কত ধনী অহংকারে মাতে,
ক্ষমতারই নেশা নিয়ে অত্যাচারী পথে।
কিন্তু কবরের নিস্তব্ধতায় থেমে যায় সব জয়,
রবের কাছে তাকওয়াই শুধু চিরদিনের পরিচয়।
জান্নাতেরই ছায়াতলে বসবে মুত্তাকীরা,
নদীর জলে প্রতিফলিত হবে নূরের রেখারা।
স্বর্ণখচিত আসনগুলো দীপ্তিময় আলোয়,
শান্ত হৃদয় ডুবে থাকবে অনন্ত সুখ ঢালোয়।
সেখানে কেউ কষ্ট পাবে না কোনোদিন আর,
না থাকবে বিদ্বেষ, না কোনো অশান্তির ভার।
ভাইয়ে ভাইয়ে ভালোবাসা, হৃদয়ে অফুরান নূর,
রবের দয়ার মহাসাগর থাকবে ভরপুর।
সবচেয়ে বড় পুরস্কার হবে না শুধু বাগান,
না শুধু নদী, ফল বা সৌন্দর্যের দান।
সবচেয়ে বড় নেয়ামত—রবের সন্তুষ্টি,
যার সামনে ম্লান হয়ে যায় জান্নাতেরও সৃষ্টি।
যখন মহান আল্লাহ বলবেন স্নেহভরে—
“আমি সন্তুষ্ট তোমাদের প্রতি চিরদিন তরে।”
সেই বাণী শুনে কেঁপে উঠবে সুখের আকাশ-বাতাস,
অশ্রুভেজা আনন্দে ভরে যাবে জান্নাতবাস।
হে আল্লাহ! আমরাও চাই মুত্তাকীদের সাথে,
চাই না দুনিয়ার অহংকার ক্ষণিক মোহের পথে।
আমাদের হৃদয় ভরাও তাকওয়ারই আলোয়,
সত্যের পথে রাখো স্থির বিপদ যত ঢালোয়।
যখন আসবে মৃত্যুর ক্ষণ নিঃশব্দ গভীর রাতে,
কালিমারই নূর রেখো আমাদের অধরপাতে।
হাশরের মাঠে দিও ছায়া আরশেরই তলে,
ডেকে নিও রহমতভরে নেক বান্দাদের দলে।
বলিও তখন মেহেরবানে—
“ভয় নেই আজ তোমাদের আর,
তোমাদের জন্যই সাজানো জান্নাত অপার।
প্রবেশ করো শান্তিমনে অনন্ত সুখের দেশে,
মুত্তাকীদের মহাসফলতা পূর্ণ হলো শেষে।” آمين।
***
“নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে মহাসফলতা”—
এই ঘোষণায় কেঁপে ওঠে আসমান-জমিনের বারতা।
যারা দুনিয়ায় রবের ভয়ে চোখের জল ফেলেছে,
আজ তাদেরই জন্য জান্নাত দরজা মেলে দিয়েছে।
সেখানে আছে উদ্যানভরা শান্তির সবুজ ছায়া,
যেখানে নেই পাপের গ্লানি, নেই শয়তানের মায়া।
আঙ্গুরলতা নত হয়ে আহ্বান জানায় ধীরে,
“এসো হে নেক বান্দারা, সুখের জান্নাত নীড়ে।”
ঝর্ণাধারা বহে চলে সুরেলা তাসবীহ গেয়ে,
ফুলেরা হাসে সুবাস ছড়িয়ে জান্নাতি রঙ মেখে।
পাখিরা গান শোনাবে নূরেরই সুর তুলে,
দুঃখগুলো হারিয়ে যাবে প্রশান্তির কূলে।
যারা ছিল দুনিয়াতে নির্যাতিত নীরবে,
মানুষ যাদের বুঝেনি কষ্টেরই ভিড়ে,
আজ তাদেরই মুখে ফুটে অনন্ত সুখের হাসি,
রবের দয়ার ছায়ায় তারা পেয়েছে ভালোবাসি।
তারা রাত জেগে কুরআনের আয়াত পড়ত ধীরে,
সিজদাতে কাঁদত নীরব চোখের জল লুকিয়ে।
লোকের ভয়ে নয়, শুধু আল্লাহরই ভয়ে,
নিজেকে রাখত পবিত্র গোপন নির্জনে।
আজ তাদেরই হাতে হাতে পূর্ণ পানপাত্র,
যার স্বাদে নেই বিভ্রান্তি, নেই কোনো অশান্তি মাত্র।
না তাতে মাতলামির ঘোর, না কষ্টের ছাপ,
শুধু সুখের প্রশান্তি আর রহমতেরই আলাপ।
স্বর্ণখচিত আসনগুলো ঝলমল নূরের ঢেউয়ে,
মুত্তাকীরা বসে থাকবে আনন্দেরই ছোঁয়ায়।
ফেরেশতারা ঘিরে বলবে শান্তির সম্ভাষণ,
“তোমাদেরই জন্য আজ এই চিরসুখের ভুবন।”
সেখানে থাকবে পবিত্র সঙ্গ নির্মল ভালোবাসায়,
লজ্জাবতী সৌন্দর্য দীপ্ত জান্নাতি আভায়।
কোনো হিংসা থাকবে না আর, না থাকবে অহংকার,
সব হৃদয়ে বয়ে যাবে রহমতেরই জোয়ার।
দুনিয়ার ধন-সম্পদ যাদের করেনি অন্ধ,
ক্ষমতার অহংকার যাদের করেনি দ্বন্দ্ব,
হারামের চাকচিক্যে যারা হয়নি বিভোর,
আজ তারাই জান্নাতে সুখের অধিপতি ঘোর।
যে যুবক দৃষ্টি নামিয়ে বাঁচিয়েছে ঈমান,
যে তরুণী লজ্জা দিয়ে সাজিয়েছে প্রাণ,
যারা পাপের আহ্বানে ফিরিয়ে নিত মন,
আজ তাদেরই সম্মানে দীপ্ত আসমান।
কত ধনী কবরপথে নিঃস্ব হয়ে গেল,
ক্ষমতার মুকুট শেষে মাটির নিচে ঢলল।
দুনিয়ার সব পরিচয় একদিন ফুরায়,
তাকওয়ার আলো ছাড়া কিছুই সাথে না যায়।
মুত্তাকীরা জানত খুব হিসাবেরই দিন,
তাই তো তারা অন্যায়ের পথে হয়নি লীন।
মানুষ ঠকায়নি তারা, ভাঙেনি কারো মন,
তাই আজ জান্নাত তাদের চিরস্থায়ী আপন।
সকালবেলা কুরআনের সুর যাদের প্রাণ ভরাত,
তাহাজ্জুদের নির্জনতায় যারা অশ্রু ঝরাত,
আজ তাদেরই নামে নামে সুখের ঘোষণা হয়—
“এসো আমার প্রিয় বান্দা, শেষ হলো সব ভয়।”
জান্নাত মানে শুধু নয় ফলভরা উদ্যান,
জান্নাত মানে রবের নৈকট্য, অফুরন্ত সম্মান।
জান্নাত মানে নিরাপত্তা, শান্তির অফুরান ঢেউ,
যেখানে নেই মৃত্যুর ছায়া, নেই বিচ্ছেদের ঢেউ।
সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে মহান রবের দেখা,
সেই আনন্দে জান্নাতবাসী ভুলে যাবে সব ব্যথা।
যখন আল্লাহ বলবেন—“আমি সন্তুষ্ট তোমাদের প্রতি,”
তখন আনন্দে কেঁপে উঠবে জান্নাতের প্রতিটি স্মৃতি।
হে আল্লাহ! আমাদেরও রেখো মুত্তাকীদের দলে,
তাকওয়ার নূর দিও তুমি অন্তরেরই তলে।
পাপের কালো আঁধার মুছে করো হৃদয় পবিত্র,
ঈমানের আলোয় ভরাও প্রতিটি নিঃশ্বাসিত্র।
যখন কবরের নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরবে আমায়,
তোমার রহমতের ফেরেশতা শান্তির বাণী শোনায়।
হাশরের উত্তপ্ত মাঠে রেখো আরশের ছায়ায়,
ক্ষমা করে নিও প্রভু তোমারই মায়ায়।
তারপর ডেকে বলো স্নেহে—
“এসো হে মুত্তাকী বান্দা আমার,
তোমাদের জন্যই প্রস্তুত জান্নাত অপার।
এখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো ভয়,
তোমাদের তাকওয়াই আজ চিরসফলতার জয়।”
***
﴿ إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ﴾
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে মহাসফলতা—
এই আয়াতে জ্বলে ওঠে অনন্ত মুক্তির বারতা।
যারা দুনিয়ায় আল্লাহভীরু হৃদয়ে চলেছে,
রবের ভয় বুকে নিয়ে পাপ থেকে ফিরেছে,
আজ তাদেরই জন্য খুলেছে জান্নাতের দুয়ার,
রহমতের বাগিচাজুড়ে অফুরন্ত সুখের সমাহার।
সেখানে উদ্যানগুলো সবুজ নূরের ছায়ায়,
প্রতিটি পাতায় শান্তি ঝরে জান্নাতি হাওয়ায়।
আঙ্গুরলতা নত হয়ে সম্ভাষণ জানায়,
“এসো হে তাকওয়াবান্দা, সুখের ঘরে আয়।”
ঝর্ণাগুলো বহে চলে সুরেলা তাসবীহ গেয়ে,
পাখিরা গান শোনাবে নূরের ডানা মেলে দিয়ে।
ফুলেরা হাসে সুবাস নিয়ে রহমতেরই রঙে,
দুঃখগুলো হারিয়ে যাবে সুখের অনন্ত ঢঙে।
যারা রাতে তাহাজ্জুদে কেঁদেছে নিরবে,
সিজদাতে মাথা রেখে ডেকেছে অশ্রুভরে,
যারা মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে নয়,
শুধু আল্লাহর ভয়ে পাপ থেকে ফিরেছে সদয়,
আজ তাদেরই নামে নামে ঘোষণা হয় আসমানে—
“এসো হে প্রিয় বান্দা, শান্তির ঠিকানায় প্রাণে।”
পরিপূর্ণ পানপাত্র ঘুরবে হাতে হাতে,
না তাতে বিভ্রান্তি থাকবে, না কষ্ট কোনো রাতে।
শুধু প্রশান্তি নামবে হৃদয়ের গভীরে,
রহমতের ঢেউ খেলবে জান্নাতেরই নীড়ে।
সেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ, নেই কোনো ভয়,
নেই বিচ্ছেদের আর্তনাদ, নেই মৃত্যুর ক্ষয়।
ভালোবাসা ছড়িয়ে থাকবে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে,
শান্তির নদী বইবে শুধু জান্নাতি গানে গানে।
স্বর্ণখচিত আসনগুলো দীপ্ত নূরের আলোয়,
মুত্তাকীরা বসবে হেসে অনন্ত সুখ ঢালোয়।
ফেরেশতারা সম্ভাষণ দেবে বিনয়েরই সুরে—
“এই জান্নাত তোমাদেরই ধৈর্যের প্রতিদানে পূরে।”
যারা দুনিয়ার চাকচিক্যে হয়নি অন্ধ মত্ত,
হারামের মোহ ছেড়ে থেকেছে সত্যপথে দৃপ্ত,
যারা ক্ষুধার মাঝেও রেখেছে হালাল রুজির মান,
আজ তাদেরই মাথায় জ্বলে সম্মানের মুকুটখান।
যে যুবক চোখ নামিয়ে বাঁচিয়েছে তার ঈমান,
যে তরুণী লজ্জা দিয়ে সাজিয়েছে প্রাণ,
যারা কুরআনের আলোয় গড়েছে আপন জীবন,
আজ তাদেরই জন্য সুখে ভরেছে জান্নাতভুবন।
কত ধনী কত রাজা অহংকারে মাতে,
ক্ষমতারই নেশা নিয়ে অত্যাচারের পথে।
কিন্তু কবরের অন্ধকারে সব পরিচয় হারায়,
তাকওয়ার আলো ছাড়া কিছুই সাথে না যায়।
মুত্তাকীরা জানত খুব হিসাবের সেই দিন,
তাই তো তারা অন্যায়ের পথে হয়নি লীন।
মানুষের হক মেরেনি, ভাঙেনি কারো মন,
তাই আজ জান্নাত হয়েছে তাদের চিরআপন।
সকালবেলা কুরআনের সুর যাদের প্রাণ জুড়াত,
রাতের শেষে তাহাজ্জুদে যারা অশ্রু ঝরাত,
আজ তাদেরই ঘিরে নেমে আসে নূরেরই বারিধারা,
রবের রহমতে আলোকিত হয় জান্নাতের কিনারা।
জান্নাত মানে শুধু নয় ফলভরা উদ্যান,
জান্নাত মানে আল্লাহর নৈকট্য, চিরশান্তির সম্মান।
জান্নাত মানে ভয়হীন এক অনন্ত নিরাপত্তা,
যেখানে নেই মৃত্যুর ছায়া, নেই কোনো ব্যথা।
সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে মহান রবের সন্তুষ্টি,
যার সামনে ম্লান হয়ে যায় সব সুখের সৃষ্টি।
যখন আল্লাহ বলবেন—
“আমি সন্তুষ্ট তোমাদের প্রতি চিরকাল,”
তখন আনন্দে কেঁপে উঠবে জান্নাতের প্রতিটি দেয়াল।
হে আল্লাহ! আমাদেরও রেখো মুত্তাকীদের দলে,
তাকওয়ার আলো দিও হৃদয়ের অতলে।
পাপের কালো দাগ মুছে করো অন্তর পবিত্র,
ঈমানের সুবাসে ভরাও প্রতিটি নিঃশ্বাসিত্র।
যখন আসবে মৃত্যুর ক্ষণ নিস্তব্ধ গভীর রাতে,
কালিমার নূর রেখো তুমি আমাদের অধরপাতে।
হাশরের উত্তপ্ত মাঠে রেখো আরশের ছায়ায়,
ক্ষমা করে নিও প্রভু তোমার অফুরান মায়ায়।
তারপর ডেকে বলো রহমতের ভাষায়—
“এসো হে মুত্তাকী বান্দা আমার,
তোমাদের জন্যই প্রস্তুত জান্নাত অপার।
এখানে নেই দুঃখ, নেই বিচ্ছেদের ভয়,
তোমাদের তাকওয়াই আজ চিরসফলতার জয়।”
***
৪
৪ মন্তব্য