শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আকর্ষণীয়, সহজবোধ্য ও কার্যকর করার জন্য শিক্ষক যে বস্তু বা সামগ্রী ব্যবহার করেন, তাকে শিক্ষা উপকরণ বলে। এটি শিক্ষার্থীদের বিমূর্ত ধারণা বুঝতে সাহায্য করে এবং শিখনকে দীর্ঘস্থায়ী করে। সাধারণ উপকরণ (বই, চক, বোর্ড) থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল উপকরণ (ভিডিও, এনিমেশন, ইন্টারনেট) এর অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদ ও উদাহরণ
শিক্ষা উপকরণকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:
- দৃশ্য উপকরণ (Visual Aids): যা দেখে শেখা যায়। যেমন—চিত্র, চার্ট, মানচিত্র, পোস্টার, মডেল, গ্লোব, বই, ফ্ল্যাশকার্ড ইত্যাদি।
- শ্রব্য উপকরণ (Audio Aids): যা শুনে শেখা যায়। যেমন—রেডিও, অডিও ক্লিপ, রেকর্ডার, ভাষা শিক্ষার ল্যাব ইত্যাদি।
- শ্রব্য-দৃশ্য উপকরণ (Audio-Visual Aids): যা একই সাথে দেখে ও শুনে শেখা যায়। যেমন—টেলিভিশন, ভিডিও, প্রজেক্টর, কম্পিউটার বা মাল্টিমিডিয়া।
- বাস্তব উপকরণ (Real Objects): সরাসরি কোনো বস্তু বা তার মডেল। যেমন—গাছ, পাথর, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, কোনো স্থানের মডেল।
শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার ও সুবিধা
- পাঠ আকর্ষণীয় করা: উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ে এবং পাঠ আনন্দদায়ক হয়।
- কঠিন বিষয় সহজ করা: বিমূর্ত বা জটিল বিষয়গুলো (যেমন- বিজ্ঞানের প্রক্রিয়া) মডেল বা চিত্রের মাধ্যমে সহজে বোঝা যায়।
- সক্রিয় অংশগ্রহণ: শিক্ষার্থীরা উপকরণের মাধ্যমে হাতে-কলমে শেখার (Hands-on learning) সুযোগ পায়।
- দীর্ঘস্থায়ী শিখন: দেখে ও শুনে শেখা বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা দীর্ঘসময় মনে রাখতে পারে।
- সময় ও শ্রম সাশ্রয়: কম সময়ে বেশি ও কার্যকরী ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।
- পরিকল্পনা: পাঠের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক উপকরণ নির্বাচন করতে হবে।
- সহজলভ্যতা: স্থানীয়ভাবে তৈরি (Local-made) কম খরচের উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
- উপস্থাপন: সঠিক সময়ে ও নিয়মে উপকরণটি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
৫
৫ মন্তব্য