হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) জীবনের শেষ বয়সে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে চরম নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি দ্বীনের সুরক্ষা, কুরআন সংকলন এবং রাজ্য বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখেন। ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর দিনলিপি ছিল মানবসেবা ও ইবাদতে পরিপূর্ণ। [
1,
2,
3,
4]
তাঁর জীবনের শেষ বয়সের প্রধান কার্যক্রম ও ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
- ইসলামের প্রথম খলিফা: মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি খলিফা নির্বাচিত হন। এই বয়সেও তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সাথে খিলাফত পরিচালনা করেন। [1, 2]
- কুরআন সংকলন: বিভিন্ন যুদ্ধে অনেক হাফেজে কুরআন শহীদ হওয়ার পর, পবিত্র কুরআনকে গ্রন্থবদ্ধ করার ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ তাঁর সময়েই গ্রহণ করা হয়। [1, 2]
- মানবসৃষ্ট অনাচার দমন: তাঁর খিলাফতকালে যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি এবং ভুয়া নবীদের উত্থান হলে, তিনি কঠোর হাতে রিদ্দার যুদ্ধ পরিচালনা করে ইসলামের ঐক্য অটুট রাখেন। [1, 2]
- মানবসেবা: খলিফা হওয়ার পরও তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। শেষ বয়সেও তিনি নিয়মিত ভোরে মদিনার উপকণ্ঠে গিয়ে একজন অন্ধ ও অক্ষম বৃদ্ধার গৃহস্থালি কাজ, রান্না ও ছাগলের দুধ দোয়ানোর মতো সেবা গোপনে করতেন, যা হযরত ওমর (রাঃ) তাঁর মৃত্যুর পর জানতে পারেন। [1, 2]
- ইন্তেকাল: ১৩ হিজরির ২২ জমাদিউল সানি (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট) প্রায় ১৫ দিন জ্বরে ভুগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী হযরত ওমর (রাঃ) পরবর্তীতে খলিফা নিযুক্ত হন। [1, 2]
তিনি মসজিদে নববীতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারকের পাশেই সমাহিত হন। [
1,
2]
২
২ মন্তব্য