সহকারী অধ্যাপক
১৩ মে, ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পরকালীন মুক্তির আর্তি - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
পরকালীন মুক্তির আর্তি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
এ ধরার দুঃখই যখন
বুকের ভিতর আগুন জ্বালে,
অভাব, বঞ্চনা, কান্নার ঢেউ
নিভৃতে শুধু হৃদয় পোড়ায় কালে কালে।
মানুষের তিরস্কার শুনে
চোখের জলে ভিজে যায় রাত,
ক্লান্ত প্রাণে দীর্ঘশ্বাসে
হারায় সুখের সবক’টা প্রভাত।
হে মহান রব! ভাবি তখন—
এই দুনিয়াই যদি এত ভার,
কবরের অন্ধ নিঃসঙ্গ রাতে
কীভাবে সইব কঠিন অন্ধকার?
হাশরের ময়দান, ভয়াল দৃশ্য,
আমলনামার কঠিন হিসাব,
পুলসিরাতের কাঁপা পথ ধরে
কেমন হবে পাপীর জবাব!
জাহান্নামের দাউদাউ আগুন,
যার উত্তাপ সীমাহীন ভয়,
সেই আগুনের একটুখানি ছোঁয়াও
মানব প্রাণ কি সহিতে কয়?
তাই তো আমি হাত তুলে আজ
কাঁদি তোমার দরবারে,
“হে আল্লাহ! দয়া করো আমায়,
রাখো না গো গুনাহগারে।”
আমি দুর্বল, আমি অসহায়,
পাপের বোঝা কাঁধে ভার,
তোমার দয়া ছাড়া যে প্রভু
নেই তো আমার কোনো পার।
দিনের বেলা ভুলে যাই কত,
নফস টানে গুনাহ পথে,
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে
হারাই আলো আঁধার রাতে।
তবু জানি, তুমি রহমান,
তুমি দয়ার সাগর মহান,
এক ফোঁটা রহমতের ছোঁয়ায়
বদলে যেতে পারে প্রাণ।
তাই তো আমি কাঁদি নিরবে—
“রব্বানা, ক্ষমা করে দাও,
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
থেকে আমায় বাঁচিয়ে নাও।”
সিজদাতে মাথা নত করে
বলতে চাই বারবার,
“আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার”
হোক হৃদয়ের আর্ত আহ্বান আর।
যখন দেখি রাতের আকাশ
নক্ষত্রে ভরা নিঃশব্দতায়,
ভাবি তখন—একদিন আমায়ও
দাঁড়াতে হবে মহা বিচারে হায়!
কোথায় যাবে দম্ভ অহংকার?
কোথায় যাবে সম্পদের জোর?
রহবে শুধু আমল আর দয়া,
রবের রহমত অমূল্য ভোর।
তাই হে মানুষ! জেগে ওঠো,
ভুলের পথে আর নয় চলা,
তাওবার জলে ধুয়ে ফেলো
অন্তরের সব কালো ময়লা।
নামাজ হোক প্রাণের আলো,
কুরআন হোক হৃদয় সাথী,
নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে
চলুক জীবন দিবা-রাতি।
সূরা মূলকের মধুর সুরে
জাগুক অন্তর ঈমানি নূর,
আল্লাহভীতি হৃদয়ে রেখে
হোক জীবন জান্নাতি সুর।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের মেলা,
আজ আছে সুখ, কালই ক্ষয়,
কিন্তু পরকাল চিরস্থায়ী—
সেখানে সফল সত্য জয়।
হে দয়াময়! তোমার কাছে
শেষ মিনতি করি আজ,
কবরের আযাব হতে বাঁচাও,
সহজ করো হাশরের সাজ।
পুলসিরাত পার করিও
রহমতেরই নূরের ডানায়,
আমল কম, গুনাহ অগণিত—
তবু রেখো দয়ার ছায়ায়।
জাহান্নামের আগুন থেকে
মুক্তি দিও হে পরওয়ার,
জান্নাতুল ফিরদাউসের বাগে
করো মোদের চির অধিকার।
যেখানে থাকবে না কোনো ভয়,
থাকবে না দুঃখের কান্না,
শুধু শান্তি, শুধু রহমত,
আর রবের নূরের ছায়া।
হে মহান আল্লাহ! কবুল করো
অসহায় প্রাণের এই আর্তি—
দুনিয়া ও আখিরাতে দিও
ক্ষমা, রহমত, শান্তি।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
***
পরকালের মুক্তির আর্তনাদ
এ দুনিয়ার ক্ষণিক কষ্টই
যখন প্রাণে ঝড় তোলে,
চোখের পানি বালিশ ভিজায়
নিভৃত রাতের কোলাহলে।
অভাব যখন দরজায় এসে
হাসিমুখটাও কেড়ে নেয়,
মানুষ নামের কিছু আপন
বুকের ভেতর ছুরি বেয়ে দেয়।
তখন হে রব! ভাঙা প্রাণে
শুধু তোমাকেই ডাকি,
কারণ তুমি ছাড়া আর তো
নেই কোনো আশার বাকি।
এই দুনিয়ার সামান্য ব্যথাই
যদি এত অসহনীয় হয়,
তবে কবরের কঠিন নিঃসঙ্গতা
কেমন করে মানুষ সয়?
হাশরের সেই ভয়াল দিনে
সূর্য যখন মাথার কাছে,
পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে
মানুষ কেমন দাঁড়াবে পাছে!
আমলনামা খুলে গেলে
কাঁপবে না কি হৃদয়খানি?
ভুলে যাওয়া প্রতিটি কাজের
দিতে হবে সেদিন বয়ানি।
পুলসিরাতের সরু পথে
কাঁপবে পাপী অন্তর ভার,
হে আল্লাহ! তোমার দয়া ছাড়া
কে করবে সেই পথ পার?
জাহান্নামের আগুন নাকি
সত্তর গুণ দুনিয়ার চেয়ে,
সে আগুনের একটুখানি ছোঁয়া
মানব প্রাণই বা কীভাবে সয়ে!
তাই তো আমি হাত তুলে আজ
কাঁদি তোমার দরবারে,
“হে দয়াময়! বাঁচাও আমায়
পরকালীন ভয়ংকর আযাবে।”
আমি তো বড়ই দুর্বল প্রভু,
গুনাহে ভরা এই জীবন,
তবু তোমার রহমতের আশায়
জাগে বুকের স্পন্দন।
দিনের আলোয় ভুলে যাই,
রাতের আঁধারে কাঁদি,
নফসের টানে পথ হারিয়ে
নিজেকেই আর না পাই খাঁটি।
শয়তানের কুমন্ত্রণা এসে
ঈমানটাকে করে ক্ষয়,
তবু জানি, তোমার রহমত
সব অন্ধকার দূরে লয়।
তাই তো আমি সিজদাতে
নত করি এ মাথাখানি,
বলতে থাকি অশ্রু ভেজা—
“রব্বি ইগফিরলি” বাণী।
“আস্তাগফিরুল্লাহ” ধ্বনিতে
কাঁপুক অন্তরের দেয়াল,
ক্ষমা করে কাছে টেনে
ভরিয়ে দিও রহমতের জোয়ার।
নামাজ হোক প্রাণের শান্তি,
কুরআন হোক হৃদয় আলো,
নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে
চলুক জীবন ভালো ভালো।
সূরা মূলকের সুরে সুরে
জাগুক ঈমানি নূর,
কবরের ভয় দূরে সরিয়ে
আসুক জান্নাতি সুর।
হে আল্লাহ! দুনিয়ার মোহ
আমায় যেন না ভোলায়,
অহংকার আর পাপের নেশা
সত্যপথ থেকে না সরায়।
সম্পদ, ক্ষমতা, দম্ভ সবই
একদিন হবে মাটি,
রহে যাবে শুধু আমল আর
নেক কাজের সাথী।
মানুষ যতই শক্তিশালী
হোক না কেন দুনিয়ায়,
মৃত্যুর পরে একাই যেতে হয়
অন্ধকার কবর ছায়ায়।
সেদিন যদি তুমি না থাকো
রহমতের ছায়া হয়ে,
তবে কে আর বাঁচাবে আমায়
বিপদের সাগর বেয়ে?
তাই তো আমি মিনতি করি—
হে আরশের মহান মালিক!
আমার অন্তর পবিত্র করো,
করো আমায় নেক বান্দার শামিল।
গোপন পাপ, লুকানো ভুল
সবই তুমি জানো প্রভু,
তোমার দয়া ছাড়া তো আর
মুক্তির কোনো পথ না কভু।
যখন কবরের মাটির নিচে
রহব একা নিরুপায়,
তখন যেন কুরআনের নূর
আমার পাশে দাঁড়ায়।
মুনকার নাকির প্রশ্ন যখন
কাঁপিয়ে দেবে বুক,
তখন যেন ঈমানের জোরে
খুলে যায় রহমতের দিক।
হাশরের মাঠে নবীর শাফাআত
হোক আমার আশ্রয়,
কাওসারের পানি পান করিয়ে
দূর করো সব ভয়।
পুলসিরাত পার করিও
নূরের ডানা মেলে,
তোমার দয়া থাকলে প্রভু
সব বিপদ যায় ফেলে।
জাহান্নামের দাউদাউ আগুন
থেকে রেখো দূরে,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও
রহমতের নূরে।
যেখানে নেই কোনো কান্না,
নেই দুঃখের হাহাকার,
নেই বিচ্ছেদ, নেই কষ্ট কোনো,
শুধুই শান্তির সমাহার।
যেখানে থাকবে রবের দিদার,
থাকবে অনন্ত সুখ,
সেই জান্নাতের আশায় প্রভু
চেয়ে আছি অবিরত মুখ।
এ দুনিয়ার সব হারিয়েও
যদি তোমায় পাই,
তবেই হবে জীবনের জয়,
আর কিছু তো চাই নাই।
হে মহান রব! কবুল করো
এই গুনাহগারের ফরিয়াদ,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে রেখো
আমার সকল অপরাধ।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিও
রহমত, নাজাত, শান্তি,
জাহান্নামের আগুন হতে
দিও চিরমুক্তির কান্তি।
তোমার দয়ার ছায়াতলে
শেষ হোক জীবনের পথ,
ঈমান নিয়ে মৃত্যু দিও—
এটাই হৃদয়ের শপথ।
আমিন, ইয়া রহমান, ইয়া রহিম।
***
আখিরাতের মুক্তির আকুল প্রার্থনা
এ ধরার দুঃখ কষ্ট যখন
হৃদয় জুড়ে ঝড় তোলে,
চোখের জলে রাত ভিজে যায়
নিঃশব্দ অন্ধকারের কোলে।
অভাব এসে দরজায় দাঁড়ায়,
হাসিটুকুও কেড়ে নেয়,
আপন মানুষ স্বার্থের টানে
ভাঙা হৃদয়ে আঘাত দেয়।
দীর্ঘশ্বাসে বুকটা ভরে,
মনটা হয়ে যায় ভার,
তখন শুধু তোমার দিকেই
চেয়ে থাকি হে পরওয়ার।
হে মহান রব! এই দুনিয়ার
সামান্য ব্যথাই যদি এত,
তবে কবরের নিঃসঙ্গ রাতে
কীভাবে সইব ভয়াল ক্ষত?
হাশরের সেই মহাময়দানে
যখন হবে বিচার কঠিন,
আমলনামা খুলে গেলে
কী হবে পাপীর পরিণাম দিন?
সূর্য তখন মাথার ওপরে,
ঘাম হবে সাগরের ঢেউ,
নিজের আমল ছাড়া সেদিন
কারো পাশে থাকবে না কেউ।
পুলসিরাতের সরু সেতু
বিদ্যুতের মতো ক্ষীণ,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
সেখানে কে বা হবে ঋণমুক্ত বিনা চিন?
জাহান্নামের আগুন নাকি
দুনিয়ার আগুন হতে বহু গুণ জ্বালা,
সেই আগুনের এক ফোঁটা ছোঁয়ায়ও
পুড়ে যাবে মানবের ডালা।
তাই তো আমি কাঁদি প্রভু
নিভৃত রাতের শেষে,
“হে আল্লাহ! বাঁচাও আমায়
তোমার রহমতের দেশে।”
আমি তো বড় দুর্বল বান্দা,
গুনাহে ভরা প্রাণ,
তবু তোমার ক্ষমার আশায়
বুক বাঁধে অবিরাম।
দিনের বেলা ভুলে যাই,
রাতের আঁধারে কাঁদি,
নফসের টানে পথ হারিয়ে
নিজেকেই যেন না পাই খাঁটি।
শয়তানের ধোঁকা চারপাশে
অন্তর করে কালো,
তোমার নূর না এলে প্রভু
জীবন হবে আলোহীন ভালো।
তাই তো আমি তাওবার জলে
ধুতে চাই সব পাপ,
“আস্তাগফিরুল্লাহ” ধ্বনিতে
জুড়াক অন্তরের চাপ।
সিজদাতে মাথা রেখে
কাঁদি বারংবার,
“আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার”
হোক প্রাণের আর্ত উচ্চার।
নামাজ হোক হৃদয়ের আলো,
কুরআন হোক পথের দিশা,
নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে
চলুক জীবন নির্ভর বিশ্বাসা।
সূরা মূলকের সুরে সুরে
কবর হোক আলোকিত,
তোমার রহমতের ছায়ায় প্রভু
হোক অন্তর প্রশান্তচিত।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
ক্ষণিক সুখের মেলা,
আজ যে হাসে কাল সে কাঁদে
সময় বদলায় বেলা।
সম্পদ, ক্ষমতা, দম্ভ অহংকার
সবই রবে পড়ে,
মৃত্যুর পরে একা মানুষ
চলে অচেনা ঘরে।
বন্ধু, আত্মীয়, আপনজন
কেউ যাবে না সাথে,
শুধু আমল পাশে থাকবে
কবরের অন্ধ রাতে।
তাই হে মানুষ! জেগে ওঠো,
ভুলের পথে আর নয়,
তাওবার দরজা খোলা আছে
ফিরে আসো নির্ভয়।
অন্তর হতে হিংসা মুছে
ভরাও ভালোবাসা,
আল্লাহভীতি হৃদয়ে রেখে
গড়ো নেকির ভাষা।
যখন মুনকার নাকির এসে
করবে কঠিন প্রশ্ন,
তখন যেন ঈমানের নূরে
সহজ হয় সব কষ্ট।
হাশরের মাঠে নবীর শাফাআত
হোক মোদের ত্রাণ,
কাওসারের পানি পান করিয়ে
দূর করো ভয়-অভিমান।
পুলসিরাত পার করিও
নূরের ডানা মেলে,
রহমতের হাত বাড়িয়ে দিও
ভয় যেন না আসে ফেলে।
জাহান্নামের দাউদাউ আগুন
থেকে রেখো দূরে,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও
তোমার রহমতের নূরে।
যেখানে থাকবে না কান্না,
নেই কোনো ভয় বা শোক,
শুধু শান্তি, শুধু সুখ,
নেই বিচ্ছেদের লোক।
যেখানে থাকবে রবের দিদার,
অশেষ অনন্ত সুখ,
সেই জান্নাতের আশায় প্রভু
তুলি দু’হাত মুখ।
এই দুনিয়ার সব হারিয়ে
যদি তোমায় পাই,
তবেই হবে জীবন সার্থক—
আর কিছু তো চাই নাই।
হে দয়াময়! কবুল করো
এই অসহায়ের মিনতি,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে রেখো
আমার যত গুনাহভ্রান্তি।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিও
রহমত, নাজাত, শান্তি,
জাহান্নামের আগুন হতে
দিও চিরমুক্তির কান্তি।
ঈমান নিয়ে মৃত্যু দিও,
শেষ হোক নেকির পথে,
তোমার নামেই শেষ নিঃশ্বাস
যাক প্রভু এ জীবনে।
আমিন, ইয়া আরহামার রাহিমীন।
***
আখিরাতের মুক্তির আর্তচিৎকার
এ দুনিয়ার সামান্য কষ্টেই
যখন বুকটা ভেঙে যায়,
অশ্রুভেজা দীর্ঘ রাতে
হৃদয় শুধু কেঁদে চায়।
অভাব এসে দরজায় কড়া
নাড়ে নির্দয় হাতে,
মানুষ নামের আপনজনও
আঘাত দেয় নিঃশব্দ রাতে।
হাসিমুখের আড়াল ভেঙে
ঝরে পড়ে দুঃখভার,
তখন শুধু তোমাকেই ডাকি—
হে আল্লাহ! হে পরওয়ার।
এই দুনিয়ার ক্ষণিক ব্যথা
যদি এতই অসহনীয় হয়,
তবে কবরের অন্ধকারে
মানুষ কেমন করে রয়?
হাশরের সেই কঠিন দিনে
যখন হবে বিচার ভার,
আমলনামা খুলে গেলে
কোথায় লুকাবে পাপীর আর?
সূর্য তখন মাথার উপরে,
ঘাম হবে সাগরের ঢেউ,
নিজের আমল ছাড়া সেদিন
পাশে থাকবে না তো কেউ।
পুলসিরাতের সরু পথটি
বিদ্যুতের চেয়েও ক্ষীণ,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
কীভাবে হব মুক্ত ঋণ?
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
দুনিয়ার আগুন হতে কঠিন,
তার একটুখানি উত্তাপেও
গলে যাবে মানবদিন।
তাই তো আমি কাঁদি প্রভু
রাতের গভীর নীরবতায়,
“হে দয়াময়! বাঁচাও আমায়
পরকালীন ভয়াল শাস্তায়।”
আমি দুর্বল, আমি অসহায়,
গুনাহে ভরা এ প্রাণ,
তবু তোমার রহমতের আশায়
বেঁচে থাকে অন্তরজ্ঞান।
দিনের আলো ভুলিয়ে দেয়
নফসের মিথ্যা সুখ,
রাতের শেষে তবু জেগে ওঠে
অনুতাপভেজা মুখ।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে
কত ভুলেই যাই,
তবু জানি তোমার দয়া
অন্ধকারে আলোর ঠাঁই।
তাই তো আমি তাওবার জলে
ধুতে চাই সব পাপ,
“আস্তাগফিরুল্লাহ” ধ্বনিতে
শান্ত হোক হৃদয়ের চাপ।
সিজদাতে মাথা রেখে
কাঁদি অশ্রু ভেজা স্বরে,
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা
মিন আযাবি জাহান্নাম” অন্তরে।
নামাজ হোক হৃদয়ের নূর,
কুরআন হোক পথের আলো,
নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে
চলুক জীবন ভালো ভালো।
সূরা মূলকের মধুর সুর
কবরটাকে করুক নূরময়,
আল্লাহভীতি অন্তরে রেখে
জীবন হোক জান্নাতময়।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
ক্ষণিক সুখের খেলা,
আজকে হাসি, কালকে কান্না—
এভাবেই যায় বেলা।
সম্পদ, দম্ভ, অহংকার
সবই পড়ে রবে,
মৃত্যুর পরে একা মানুষ
অজানা পথেই যাবে।
বন্ধু, আত্মীয়, আপনজন
সবাই থাকবে দূরে,
শুধু আমল সাথী হবে
কবরের অন্ধ সুরে।
তাই হে মানুষ! ফিরে এসো
তাওবার খোলা দ্বারে,
আল্লাহর পথে জীবন গড়ো
নেক আমলের ধারে।
অন্তর হতে হিংসা মুছে
ভরাও ভালোবাসা,
সত্য, ধৈর্য, তাকওয়াতে
সাজাও জীবনের ভাষা।
যখন মুনকার নাকির এসে
করবে প্রশ্ন কঠিন,
তখন যেন ঈমানের নূরে
সহজ হয় প্রতিদিন।
হাশরের মাঠে নবীর শাফাআত
হোক আমাদের ত্রাণ,
কাওসারের পানি পান করিয়ে
দূর করো ভয়-অভিমান।
পুলসিরাত পার করিও
রহমতের নূর ডানায়,
তোমার করুণা থাকলে প্রভু
সব বিপদ দূরে যায়।
জাহান্নামের আগুন হতে
রেখো আমায় দূরে,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও
তোমার রহমতের নূরে।
যেখানে নেই কোনো কান্না,
নেই বিচ্ছেদের ভয়,
শুধুই শান্তি, শুধুই সুখ,
অশেষ রহমতময়।
যেখানে থাকবে রবের দিদার,
অমলিন অনন্ত সুখ,
সেই জান্নাতের আশায় প্রভু
তুলি আকুল মুখ।
এই দুনিয়ার সব হারিয়েও
যদি তোমায় পাই,
তবেই হবে জীবন সার্থক—
আর কিছু তো চাই নাই।
হে মহান রব! কবুল করো
এই গুনাহগারের আর্তি,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে রেখো
আমার যত অপরাধভ্রান্তি।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিও
রহমত, নাজাত, শান্তি,
জাহান্নামের ভয়াল আগুন হতে
দিও চিরমুক্তির কান্তি।
ঈমান নিয়ে মৃত্যু দিও,
শেষ হোক নেকির পথে,
তোমার নামেই শেষ নিঃশ্বাস
যাক এ জীবনের সাথে।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
***
৪
৪ মন্তব্য