সহকারী অধ্যাপক
১৩ মে, ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ণ
পানাহ চাই হে আল্লাহ - মোঃ মুজিবুর রহমান
পানাহ চাই হে আল্লাহ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুনিয়ার পথে কত যে কাঁটা,
কত বেদনা বুকে,
হাসির আড়াল লুকিয়ে থাকে
অশ্রু গভীর দুঃখে।
কেউ বা থাকে সুখের ঘরে,
কেউ নিরাশার সাগর,
কেউ পায় স্নেহ, কেউ হারিয়ে
কাঁদে রাতের প্রহর।
অন্যায়েরই দাপট দেখি
চারিদিকে আজ,
মজলুম মানুষ দীর্ঘশ্বাসে
ভাঙে নীরব সাজ।
ক্ষমতাবান জুলুম করে,
দুর্বল কাঁদে চুপে,
অভাব এসে জীবনটাকে
রাখে বিষাদরূপে।
কেউ প্রতারণা করে হাসে,
কেউ বিশ্বাসে হারে,
কেউ বা নিজের আপনজনেই
ক্ষত বয়ে বেড়ায় দ্বারে।
এই দুনিয়া ক্ষণিকেরই,
মায়ার বাঁধন ঘেরা,
আজকে রাজা, কালকে দেখি
মাটির ঘুমে সারা।
তবু মানুষ ভুলে থাকে
আখিরাতের কথা,
কবর, হাশর, জাহান্নামের
ভয়াবহতা ব্যথা।
কবর যখন ডাকবে আমায়
নিভে যাবে আলো,
সাথী হবে আমল শুধু—
মন্দ কিংবা ভালো।
নিঃসঙ্গ সেই অন্ধকারে
কাঁপবে মানব প্রাণ,
কী উত্তর দেব সেদিন আমি—
ভাবলে জাগে টান।
হাশরেরই মাঠে সেদিন
সূর্য হবে কাছে,
ঘামে ডুবে মানুষ তখন
ভয়ের সাগর মাঝে।
মা ভুলিবে সন্তানকেও,
বন্ধু যাবে দূরে,
নিজের আমল ছাড়া কেহ
রহিবে না আর সুরে।
জাহান্নামের আগুন নাকি
ভয়ংকর অতি,
সেথায় গেলে পাপীর আর
রহিবে না তো গতি।
শিকল, আগুন, দীর্ঘশ্বাসে
কাঁদবে অবিরাম,
হে আল্লাহ! সে ভয়াল দৃশ্য
করিও না দান।
তাই তো আজি হাত উঠায়ে
করি মিনতি ভার,
ক্ষমা করে দাও গো মাবুদ
করো না আর বিচার।
গুনাহ ভরা এই অন্তর
পবিত্র করে দাও,
তাওবা করে সত্য পথে
চলার শক্তি দাও।
হিংসা, লোভ আর অহংকার
দূর করো এ প্রাণ,
ঈমানেরই নূর দিয়ে দাও
হৃদয়ে সম্মান।
নামাজ যেন প্রাণে জাগায়
জান্নাতেরই পথ,
কুরআনেরই আলো দিয়ে
মুছে যাক সব ক্ষত।
মিথ্যা, অন্যায়, জুলুম হতে
রক্ষা করো মোরে,
মানবতার ভালোবাসা
ফুটুক অন্তরে।
কবরেরই ভয়াল আজাব
করো হে দূর আজ,
হাশরেরই কঠিন দিনে
রাখো রহমত সাজ।
পুলসিরাতের কঠিন পথে
দিয়ো নূরের দিশা,
আপনারই রহম ছাড়া
নেই তো আর ভরসা।
জাহান্নাম হতে বাঁচিয়ে
জান্নাত দিও মোরে,
রাসূলপ্রেমে ভরিয়ে দিও
এই হৃদয়ের ঘরে।
ফেরদৌসের ছায়াতলে
করো হে স্থান দান,
নেককারদের দলে রেখো
হে দয়াময় মহান।
দুনিয়ার সব দুঃখ কষ্ট
একদিন হবে শেষ,
আল্লাহ যারে ভালোবাসেন
সেই তো হয় অবশেষ।
তাই বিপদে ভেঙে না পড়ে
ধরি ধৈর্যের হাত,
আল্লাহ আছেন, তিনিই দেবেন
শান্তির নূরী রাত।
চোখের জলে করি দোয়া—
হে রব্বুল আলামিন!
কবর, হাশর, জাহান্নাম হতে
রাখো মোদের আমিন।
তোমার দয়া সাগরসম,
তুমি মহান রব,
তোমার রহম পেলে মাবুদ
মিটে যাবে সব।
হে আল্লাহ! এই দুর্বল বান্দার
শুনো মনের আর্তি,
ইমান নিয়ে মৃত্যু দিও—
এটাই প্রাণের প্রার্থনা অতি।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
আখিরাতের ভয় ও রহমতের আশ্রয়
দুনিয়ার এই ক্ষণিক সুখে
মানুষ কত মাতে,
ভুলে যায় সে মৃত্যুর ডাকে
কবরেরই রাতে।
হাসির মেলা, রঙিন স্বপ্ন,
ক্ষমতারই মোহ,
এক নিমিষে থেমে যাবে
জীবন নদীর স্রোত।
আজ যে মানুষ দম্ভে ভরা
অহংকারের নেশায়,
কালকে তার নিথর দেহ
মাটির ঘরে মেশায়।
এই দুনিয়া মরীচিকা,
ক্ষণিক সুখের ছায়া,
চোখ মেলিলেই বুঝা যাবে
সবই ছিল মায়া।
কত মানুষ জুলুম সয়ে
নিভৃতে কাঁদে রাত,
কেউ বোঝেনা বুকের ভিতর
রক্তক্ষরণের ব্যথা।
অভাব এসে দরজাতে
করে দীর্ঘশ্বাস,
অন্যায়েরই আগুনে আজ
পুড়ে মানববাস।
বিশ্বাস ভেঙে আপন মানুষ
দেয় যে দুঃখ ভার,
হাসিমুখে আঘাত করে
ভাঙে হৃদয়দ্বার।
তবু মুমিন ধৈর্য ধরে
রাখে রবের ভরসা,
জানে আল্লাহ দেখছেন সব—
নেই কোনো হতাশা।
কারণ সামনে আছে সেদিন
হাশরেরই মাঠ,
যেদিন কাঁপবে আরশ-কুরসি
বন্ধ হবে ঠাট।
সূর্য সেদিন মাথার কাছে
ঝরবে আগুন তাপ,
মানুষ তখন আমল খুঁজে
করবে হিসাব চাপ।
রাজা-প্রজা এক কাতারে
দাঁড়াবে নিরুপায়,
ক্ষমতা আর অর্থ সেদিন
কোনো কাজে না যায়।
মা ভুলিবে সন্তানকেও,
স্বামী ভুলে স্ত্রী,
ভয়ের চাপে মানুষ হবে
অস্থির দিশেহারা।
নামাজ, রোজা, নেক আমলই
হবে সাথী শুধু,
পাপের বোঝা ভারী হলে
কোথায় মিলবে রুখু?
কবর যখন ডাক পাঠাবে
বন্ধ হবে দ্বার,
সাথে যাবে না ধন-সম্পদ
না কোনো অহংকার।
অন্ধকার সেই নিঃসঙ্গতা
কেমন ভয়াল ক্ষণ!
আমল ছাড়া সেদিন কাহার
থাকবে না তো মন।
মুনকার-নাকির প্রশ্ন শুনে
কাঁপবে মানব প্রাণ,
হে আল্লাহ! রহম করো—
দিয়ো সহজ জবান।
জাহান্নামের আগুন নাকি
সত্তর গুণ তীব্র,
ভাবলে শুধু অন্তর কাঁপে
চোখে নামে নীর।
সেখানে নেই মৃত্যুর ছোঁয়া,
নেই তো মুক্তির পথ,
পাপী শুধু কাঁদবে বসে
সহিবে কঠিন রথ।
শিকল হবে আগুনময়,
খাবার হবে বিষ,
এক ফোঁটা জল পেতে তখন
করবে কত হাহাকার নিশ।
তাই তো মাবুদ হাত উঠায়ে
করি শুধু মিনতি,
ক্ষমা করে দাও গো আমায়
ঢেকে দাও গুনাহভর্তি।
তুমি ছাড়া আশ্রয় কোথা?
কে শুনিবে ডাক?
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
সবই যে নিরাশ।
হে আল্লাহ! অন্তর আমার
পবিত্র করে দাও,
ঈমানেরই নূর দিয়ে
হৃদয় ভরিয়ে দাও।
নামাজ যেন প্রাণের মাঝে
ফুটায় জান্নাত ফুল,
কুরআনেরই আলো দিয়ে
করো জীবন কূল।
লোভ, হিংসা, অহংকার আর
রিয়া দূরে রাখো,
তাকওয়ারই মিষ্টি সুবাস
অন্তরে মাখাও।
রাসূলপ্রেমে চোখের জলে
ভিজুক প্রাণের ঘর,
সুন্নাহ পথে চলার তাওফিক
দিয়ো নিরন্তর।
পাপের পথে পা বাড়ালে
ধরো মোরে টেনে,
অন্ধকারে হারাই যেন
না যাই ভুল গহীনে।
কবরেরই ভয়াল আজাব
করো হে দূর আজ,
হাশরেরই কঠিন দিনে
রাখো রহমত সাজ।
পুলসিরাতের সেতু যখন
হবে ধারালো ক্ষুর,
সেদিন তোমার রহম ছাড়া
নাই তো কোনো নূর।
ডান হাতে আমলনামা
দিয়ো প্রভু মোর,
লজ্জাহীন করো না যেন
সবার সামনে ঘোর।
জাহান্নাম হতে রক্ষা করে
জান্নাত দিও দান,
ফেরদৌসের ছায়াতলে
রাখো হে মহান।
যেখানে নেই দুঃখ-বেদনা,
নেই তো কোনো ভয়,
রাসূলদের সঙ্গ পেয়ে
হৃদয় ভরে রয়।
দুনিয়ার এই কষ্টগুলো
হয়ে যাক পাপ ক্ষয়,
সবর করে তোমার পথে
চলুক জীবনময়।
চোখের জলে করি দোয়া
রাত্রি দিনের শেষে,
ইমান নিয়ে মৃত্যু দিও
তোমার প্রেমের দেশে।
হে দয়াময় রব আমাদের
করো না বঞ্চিত,
তোমার রহম পেলে বান্দা
হবে পরিত্রাণপ্রাপ্ত।
দুনিয়ার সব দুঃখ কষ্ট
একদিন যাবে থেমে,
তোমার রহম যার উপর
সে-ই শান্তি পাবে নেমে।
তাই তো আজি আকুল প্রাণে
ডাকি বারংবার—
“হে আল্লাহ! কবর, হাশর,
জাহান্নাম হতে করো পার।”
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
কবরের নীরবতা ও আখিরাতের আহ্বান
দুনিয়ার এই রঙিন মেলা
ক্ষণিক সুখের গান,
চোখের পলক পড়তেই দেখো
ফুরায় জীবনের প্রাণ।
হাসির আড়াল জমে থাকে
অশ্রুর কালো ঢেউ,
বুকের মাঝে ব্যথার আগুন
বুঝতে পারে ক’ই বা কেউ?
কেউ বা থাকে অট্টালিকায়
স্বপ্নঘেরা সুখে,
কেউ বা আবার ক্ষুধার জ্বালায়
নিশি কাটায় দুঃখে।
কেউ প্রতারণার ছোবল খেয়ে
হারায় আপনজন,
কেউ নিরবে কাঁদে শুধু
ভাঙা হৃদয় গোপন।
ক্ষমতারই অহংকারে
মানুষ কত মাতে,
ভুলে যায় যে মৃত্যুর ফেরেশতা
আসবে নীরব রাতে।
আজকে যাহার দম্ভে ভরা
রাজত্ব সারা দেশ,
কালকে তার নিথর দেহ
মাটির ঘরে শেষ।
এই দুনিয়া মরুভূমির
মরীচিকার জল,
দেখতে যত রঙিন লাগে
ভেতরটা তত ছল।
তবু মানুষ গাফেল হয়ে
ভুলে আখিরাত,
ভুলে যায় কবরের প্রশ্ন
হাশরেরই রাত।
কবর মানে নিঃসঙ্গ ঘর,
অন্ধকারের দেশ,
সাথে যাবে না ধন-সম্পদ
না কোনো পরিবেশ।
বন্ধু যাবে, স্বজন যাবে,
থেমে যাবে ডাক,
শুধু আমল সাথী হবে
সেদিন একাক।
মুনকার-নাকির প্রশ্ন শুনে
কাঁপবে মানব প্রাণ,
“কে তোমার রব?” প্রশ্নে তখন
হারাবে কত জ্ঞান!
হে আল্লাহ! রহম করো
সহজ করো দ্বীন,
ইমান নিয়ে কবরে যাই—
এই তো মনের ঋণ।
হাশরেরই বিশাল মাঠে
যখন হবে ডাক,
মানুষ তখন ভয়ে ভয়ে
খুঁজবে আশ্রয় পাক।
সূর্য সেদিন মাথার কাছে
ঝরাবে আগুনধারা,
পাপের ভারে কাঁদবে মানুষ
হবে দিশেহারা।
মা ভুলিবে সন্তানকেও,
বন্ধু ভুলে বন্ধু,
নিজের আমল ছাড়া সেদিন
রহিবে না আর কন্দু।
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব
সবাই একই সারি,
ক্ষমতা আর অর্থ সেদিন
হবে না তো ভারী।
আমলনামা খুলে যখন
হিসাব হবে শুরু,
কাঁদবে মানুষ ভয়ে ভয়ে
ধরবে কেবল গুরু।
কারো মুখে হাসির আলো
নেক আমলের তরে,
কারো চোখে জাহান্নামের
আগুন ঝরে ঝরে।
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
কল্পনাতীত দাহ,
এক মুহূর্ত সহ্য করা
মানবজাতির নাহ।
সেখানে নেই শান্তির ছোঁয়া,
নেই কোনো অবকাশ,
পাপীর শুধু দীর্ঘশ্বাসে
ভরে উঠবে আকাশ।
আগুন হবে বিছানা তাদের,
আগুন হবে ছাদ,
পাপের ফল ভোগ করবে
অবিরাম উন্মাদ।
এক ফোঁটা জল পেতে তখন
করবে হাহাকার,
তবু সেদিন মিলবে না আর
মুক্তির কোনো দ্বার।
তাই তো মাবুদ ভয়েতে আজি
তুলি দু’হাত ভরে,
ক্ষমা করে দাও গো আমায়
রাখো রহম করে।
গুনাহ ভরা এই অন্তর
পবিত্র করে দাও,
তাওবার অশ্রু দিয়ে মোরে
সত্যপথে নাও।
হিংসা, লোভ, রিয়া, অহং
দূরে সরাও প্রাণ,
তাকওয়ারই সুবাস দিয়ে
ভরাও অন্তঃস্থান।
নামাজ যেন হৃদয়জুড়ে
জাগায় নূরের ঢেউ,
কুরআনেরই বাণী শুনে
কাঁদুক অন্তর ঢেউ।
রাসূলপ্রেমে চোখের জলে
ভিজুক আমার রাত,
সুন্নাহ পথে কাটুক জীবন
হোক না নেকের মাত।
মিথ্যা, জুলুম, প্রতারণা
থেকে বাঁচাও মোরে,
মানবতার ভালোবাসা
ফুটুক অন্তরে।
কবরেরই কঠিন আজাব
করো হে দূর রব,
হাশরেরই ভয়াল দিনে
দিয়ো শান্তির ছোঁব।
পুলসিরাতের ধারালো পথ
পার করিও মোরে,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
কে আছে আর ঘিরে?
ডান হাতে আমলনামা
দিয়ো হে রহমান,
লজ্জিত যেন না হই আমি
মহা বিচারস্থান।
জান্নাতেরই শীতল ছায়া
করো মোরে দান,
ফেরদৌসের বাগিচাতে
রাখো হে মহান।
যেখানে নেই কষ্ট-বেদনা,
নেই তো মৃত্যুভয়,
নদীর ধ্বনি, শান্তির হাওয়া
চিরসুখময়।
হুর-গিলমান, নূরের প্রাসাদ,
সুবাস ভরা দেশ,
রাসূলদের সান্নিধ্যে যেন
কাটে অনন্ত শেষ।
দুনিয়ার এই কষ্টগুলো
হয়ে যাক পাপ ক্ষয়,
সবর করে তোমার পথে
চলুক জীবনময়।
বিপদ এলে ভেঙে না পড়ে
ধরি ধৈর্যের হাত,
কারণ জানি আল্লাহ আছেন
তিনিই দিবেন নাজাত।
চোখের জলে করি দোয়া
নিভৃত রাতের শেষে—
“ইমান নিয়ে মৃত্যু দিও
তোমার রহম দেশে।”
হে রব্বুল আলামিন প্রভু
করো না বঞ্চিত,
তোমার দয়া পেলে বান্দা
হবে পরিত্রাণপ্রাপ্ত।
তাই তো আজি কাঁদে হৃদয়
ডাকে বারংবার—
“হে আল্লাহ! কবর, হাশর,
জাহান্নাম হতে করো পার।”
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
আখিরাতের পথে এক মুসাফির
দুনিয়ার এই ব্যস্ত পথে
মানুষ ছুটে চলে,
স্বপ্নভরা রঙিন আশা
হৃদয়জুড়ে দোলে।
কেউ বা গড়ে সুখের প্রাসাদ,
কেউ দুঃখে নিরাশ,
কেউবা আবার রাত জেগে
ফেলে দীর্ঘশ্বাস।
মুখে হাসির আলোর ছটা,
ভেতর ভাঙা মন,
কত মানুষ বুকের মাঝে
বয়ে বেড়ায় ক্ষণ।
অভাব যেন বিষের কাঁটা
বুকে বিঁধে রয়,
প্রিয়জনের অবহেলায়
অন্তর ভেঙে কয়।
বন্ধু সেজে কত মানুষ
ভালোবাসার ছলে,
বিশ্বাসভরা হৃদয়টাকে
ভাঙে গোপন ছলে।
ক্ষমতারই মোহে পড়ে
ভুলে মানুষ রব,
অহংকারে ডুবে গিয়ে
হারায় সত্য সব।
আজ যে মানুষ দম্ভে ভরা
অট্টালিকার রাজা,
কালকে তার নিথর দেহ
মাটির ঘরে সাজা।
এই দুনিয়া পথিকশালা,
স্থায়ী নয় কভু,
আজকে আছি, কালকে হয়তো
ডাক দিবেন প্রভু।
তবু কেন গাফেল মানুষ
ভুলে আখিরাত?
ভুলে কবর, ভুলে হাশর,
ভুলে বিচার রাত।
কবর হবে প্রথম ঘাঁটি
মৃত্যুর পরপারে,
সেখানে আর আপন বলে
কেউ না পাশে দাঁড়ে।
অন্ধকার সেই নিঃসঙ্গতা
ভাবলে কাঁপে প্রাণ,
আমল ছাড়া সেদিন কারো
রহিবে না সম্মান।
মুনকার-নাকির প্রশ্ন শুনে
থেমে যাবে ভাষা,
হে আল্লাহ! সেদিন যেন
না হারাই আশা।
ইমান ভরা অন্তর দিয়ে
যেন দেই জবাব,
তোমার রহম পেলে প্রভু
সহজ হবে হিসাব।
হাশরেরই বিশাল মাঠে
যখন হবে ডাক,
ভয়ে মানুষ ছুটবে শুধু
খুঁজবে মুক্তির ফাঁক।
সূর্য তখন মাথার কাছে
আগুন ঝরাবে,
পাপের ভারে মানুষ তখন
নিঃশ্বাস হারাবে।
মা ভুলিবে সন্তানকেও,
বন্ধু ভুলে সাথী,
নিজের আমল ছাড়া সেদিন
কিছুই হবে না সাথী।
রাজা, গরিব, ধনী, ফকির
একই কাতার হবে,
ক্ষমতা আর অর্থ সেদিন
ধূলির মতো রবে।
আমলনামা খুলে যখন
হবে বিচার শুরু,
কারো মুখে সুখের হাসি
কারো চোখে ঝড়।
নেককারেরা শান্ত মনে
পাবে জান্নাত দ্বার,
পাপীর চোখে ভয়াল আগুন
জ্বলবে বারংবার।
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
কল্পনাতীত দাহ,
এক নিমিষে সহ্য করা
মানবজাতির নাহ।
সেখানে নেই মৃত্যুর ছোঁয়া,
নেই তো শেষের দিন,
পাপের ফল ভোগ করবে
অবিরাম অধীন।
তাই তো প্রভু ভয়েতে আজি
করি মিনতি ভার,
ক্ষমা করে দাও গো আমায়
করো না আর পার।
গুনাহভরা এই অন্তর
পবিত্র করে দাও,
তাওবার অশ্রু দিয়ে প্রভু
সত্যপথে নাও।
হিংসা, লোভ, রিয়া, অহং
দূরে সরাও প্রাণ,
তাকওয়ারই নূর দিয়ে দাও
হৃদয়ে সম্মান।
নামাজ যেন প্রাণে জাগায়
জান্নাতেরই ফুল,
কুরআনেরই আলো দিয়ে
করো জীবন কূল।
রাসূলপ্রেমে ভিজুক হৃদয়
অশ্রুভেজা রাতে,
সুন্নাহ পথে কাটুক জীবন
ইবাদতের সাথে।
মিথ্যা, জুলুম, প্রতারণা
থেকে রাখো দূরে,
মানবতার মমতা ফুটুক
এই অন্তরপুরে।
কবরেরই ভয়াল আজাব
করো হে দূর রব,
হাশরেরই ভয়াল দিনে
রাখো শান্তির ছোঁব।
পুলসিরাতের ধারালো পথ
পার করিও মোরে,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
কে আছে আর ঘিরে?
ডান হাতে আমলনামা
দিয়ো হে রহমান,
মহা বিচারে লজ্জিত যেন
না হই কোনখান।
জান্নাতেরই শীতল ছায়া
করো মোরে দান,
ফেরদৌসের বাগিচাতে
রাখো হে মহান।
যেখানে নেই কান্নার সুর,
নেই তো কোনো ভয়,
নূরের হাওয়ায় কাটবে সেথা
চিরসুখময় সময়।
দুনিয়ার এই কষ্টগুলো
হয়ে যাক পাপ ক্ষয়,
সবর করে তোমার পথে
চলুক জীবনময়।
বিপদ এলে ভেঙে না পড়ে
ধরি ধৈর্যের হাত,
কারণ জানি আল্লাহ আছেন
তিনিই দিবেন নাজাত।
চোখের জলে করি দোয়া
নিভৃত রাতের শেষে—
“ইমান নিয়ে মৃত্যু দিও
তোমার রহম দেশে।”
হে দয়াময় রব আমাদের
করো না বঞ্চিত,
তোমার দয়া পেলে বান্দা
হবে পরিত্রাণপ্রাপ্ত।
তাই তো আজি আকুল প্রাণে
ডাকি বারংবার—
“হে আল্লাহ! কবর, হাশর,
জাহান্নাম হতে করো পার।”
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
৪
৪ মন্তব্য