সহকারী শিক্ষক
১৩ মে, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ণ
হামের লক্ষণ,প্রতিরোধ এবং প্রতিকার
হাম বা Measles একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগ। সচেতনতার অভাবে এটি অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করতে পারে। আজকে আমরা হামের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হাম কী?
হাম একটি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ যা মরবিলিভাইরাস (Morbillivirus) নামক ভাইরাসের কারণে হয়। এটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায়। যদিও অনেকে একে সাধারণ জ্বর মনে করেন, তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হামের প্রধান লক্ষণসমূহ
হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
- তীব্র জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
- কাশি ও সর্দি: সাধারণ ঠান্ডার মতো নাক দিয়ে জল পড়া এবং শুকনো কাশি।
- চোখ লাল হওয়া: চোখ দিয়ে জল পড়া এবং আলোতে অস্বস্তি বোধ করা।
- কোপলিক স্পট: গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে দাগ দেখা যাওয়া।
- শরীরে র্যাশ (Rash): সাধারণত কান বা মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে লালচে দানা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম হলে করণীয়
যদি কারও হাম শনাক্ত হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত:
- বিশ্রাম: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে।
- প্রচুর তরল খাবার: জ্বর ও শরীর ব্যথার কারণে পানিশূন্যতা রোধে জল, ফলের রস এবং ডাবের জল পান করাতে হবে।
- ভিটামিন এ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল গ্রহণ করা জরুরি, যা চোখের ক্ষতি ও জটিলতা কমায়।
- বিচ্ছিন্ন রাখা: এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, তাই সুস্থ ব্যক্তিদের (বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারী) থেকে রোগীকে আলাদা ঘরে রাখা উচিত।
প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ উপায়: টিকা
হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো হামের টিকা (MR Vaccine)।
- সময়সূচী: সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়।
- টিকাদান কর্মসূচির ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। তাই আপনার শিশুর সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি রোগীর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়, কানে ব্যথা করে বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
০
০ মন্তব্য