সিনিয়র শিক্ষক
১১ মে, ২০২৬ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত/ সরকারি দায়িত্ব পালন কারো জন্য দোষের, কারো জন্য প্রশংসার
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত/ সরকারি দায়িত্ব পালন কারো জন্য দোষের, কারো জন্য প্রশংসার
#একজন সৎ, কর্মঠ ম্যাজিস্ট্রেট ও সামাজিক অপরাধ
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত এখন আর সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের কোন গ্রাম নয়। এর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেশ ছাড়িয়ে এখন দেশের বাইরের পর্যটকদেরও কাছে টানছে। প্রতিদিন শতশত প্রকৃতি প্রেমী মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে ভিড় করছে। প্রাণ প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য গুলিয়াখালী মিনি কক্সবাজার খ্যাতি পেয়েছে বহু আগে। স্থানীয় সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া বিশেষ বৈশিষ্ট্যের এই সমুদ্র সৈকতটি নিয়ে এখন ফিচার লেখেন দেশের সাংবাদিকরাও৷ অনেক ভ্রমণ পিপাসুরাও গল্পে গল্পে এই সৈকতের গুণগান গেয়ে ঠাঁই পেয়েছে পত্রিকার পাতাগুলোতে। এখনও প্রথম সারির প্রিন্ট পত্রিকারগুলোর পর্যটন পাতা খুললেই গুলিয়াখালীর ছোট ছোট খানা-খন্দের সবুজ গালিচা, আঁকাবাঁকা খালের সাগরে মিশে যাওয়া, বিস্তৃত ফসলের মাঠ, পানির উপর সাদা বকের দলের উড়োউড়ি, ডিঙি নৌকাগুলোর দোল খাওয়ার মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। এই গুলিয়াখালী নিয়েই একটি স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। আমার চোখে সেই স্মৃতি এখনও অনেকটা দগদগে। যেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ থামাতে গিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশংসিত হওয়ার বদলে ভৎসিত হয়েছিলেন। রাষ্ট্র সেদিন ওই সৎ, কর্মঠ ও যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিনিময়ে আইনি ঝামেলায়ও পড়তে হয়েছে তাকে। নানা চড়াই উৎরায় পেরিয়ে আজ তিনি জেলা প্রশাসনের গুরু দায়িত্বে আসীন। ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাটি ছিল সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাজানো আয়োজন। যা বুঝতে বাকি ছিলো না সীতাকুণ্ডের জনগণের। ফলশ্রুতিতে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বদলীর প্রত্যাহার চেয়ে আমিসহ সীতাকুণ্ডের অসংখ্য যুবক, বিশেষ করে আমার নেতৃত্বাধীন যুব সংঠন #সীতাকুণ্ডযুবউন্নয়নফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের সামনে মানববন্ধনও করেছিলাম। সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো না আমাদের আন্দোলন৷ যেতে হয়েছে শুটেড-ব্যুটেড বড় বড় আমলাদের সামনে৷ কোন ধরনের তদন্ত ছাড়াই একটি পত্রিকার একটিমাত্র ডে ইভেন্ট নিউজের ভিত্তিতে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রমাণ দূরে থাক উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি নিউজই যেন মূল ভিত্তি। যেন প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি অপেক্ষায় ছিলেন সেই নিউজ লিংকের৷ এবার আসি গুলিয়াখালির হালচালে। গ্রামীণ এই সমুদ্র সৈকতে বছর পর বছর কোন শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি প্রশাসন। নানা উদ্যোগের কথা বলে গণমাধ্যমে প্রচার এনে নিজেরা হাইলাইটস হলেও সৈকতটির বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি৷ সড়কও আগের মতো সংকীর্ণ ও খানা-খন্দে ভরা। ছুটির দিনগুলোতে যানজট এখন নিত্যকার ঘটনা৷ যেন গুলিয়াখালী কারো জন্য আর্শীবাদ, আবার অনেকের জন্যই অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনভাবে একটি শিশু বাড়ির সামনেও থাকতে পারছে না সেখানে৷ যানবাহনের তীব্র হর্ণের শব্দে সেখানে ঘরে-বাড়িতে টেকা মুশকিল৷ বহুবার প্রতিবেদন করার পর কাঠের সেতুটির বদলে একটি স্থায়ী সেতু ও একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয় বীচ এলাকায়। তবে গুলিয়াখালীতে পার্কিং থেকে শুরু করে ভাড়া বাণিজ্য, দোকান দখল ও চাঁদাবাজি সবই চলছে সমান তালে। এমনকি পুকুরে পা ধৌত করতেও সেখানে টাকা দিতে হতো। পর্যটকদের পকেট খুইয়ে স্থানীয়দের ভাগ্য বদল হলেও বদলায়নি তাদের মন মানসিকতা৷ প্রশাসন কখনও এসব ব্যাপারে হুশ আনেনি৷ কোনটা ব্যবসা আর কোনটা সেবা তাও আজও শেখানো হয়নি৷ বলতে গেলে নিয়মই যেখানে নেই সেখানে পা ধোয়া, সামান্য দঁড়িতে চড়াও ব্যবয়ায় রূপ নিয়েছে৷ রোববার সকালে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের গায়ে দোকানীদের হাত তোলাকে কেন্দ্র করে সং-ঘর্ষ হয়৷ এতে আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে সীতাকুণ্ডের বদনাম ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। আহতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাৎক্ষণিক বিকেলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সাগরপাড়ের ৩২ টি দোকান ভেঙে গুড়িয়ে দেয়৷ এতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন সীতাজুণ্ডের ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা৷ অথচ ৬ বছর আগে বীচে বিশেষ তাবুতে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে এক যুবককে সতর্ক করে বাঁধার মুখে পড়েন ম্যাজিস্ট্রেট। সেদিন স্থানীয় কলেজ ছাত্রকে পর্যটক উপস্থাপন করে পত্রিকায় লেখা হয়। সময় এসেছে গুলিয়াখালীতে আসল পর্যটক কারা তা জানার? নিয়মিত ক্লাস না করে বান্ধবীসহ চন্দ্রনাথে বেড়ানোর জন্য ডিগ্রী কলেজের ফলাফল খারাপ হওয়ার কথা ইতিমধ্যে চাওর হয়েছে। সীতাকুণ্ড বাজারের আবাসিক হোটেলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ফের আলোচনায় এসেছে৷ অতিতের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও কারো অজানা থাকার কথা নয়। এগুলোতে দিনের বেলায় রেজিস্ট্রেশন বিহীনভাবে "গেস্ট হয়ে" কারা ওঠছে, কোন হোটেল মালিকগুলো এইসব কাজ করছে তাও দেখভাল করতে হবে উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে৷ দোকান উচ্ছেদ করেই দায় সারলে চলবে না...
৫
৫ মন্তব্য