Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ মে, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশ্যের সাথে পড়ানোর ধরন ও মূল্যায়ন সামঞ্জস্যহীন!

আমাদের দেশের ইংরেজি পরীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশ্নপত্র, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, বিসিএস-এর এবং যে কোনো নিয়োগ পরীক্ষার (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) প্রশ্নপত্র দেখলে কি মনে হয়? প্রশ্নের সাথে ইংরেজি পড়ার বা ইংরেজি বিষয়টিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়ানোর উদ্দেশ্যের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। ইংরেজি প্রশ্ন দেখলে মনে হয়, শিক্ষার্থী কিংবা বিসিএস পরীক্ষার্থী অথবা কোনো নিয়োগ কর্তৃপক্ষ জানতে চান যে শিক্ষার্থী বা কোন প্রার্থী ইংরেজি ভাষার গঠন প্রণালী বা ব্যাকরণ নিয়ে গভীর গবেষণা করছেন কিনা। আমাদের দরকার ছিল তারা ইংরেজিতে তার নিজ সম্পর্কে, তার চারপাশ সম্পর্কে কিছু বলতে পারে কিনা এবং সেই বিষয়গুলোই ইংরেজিতে লিখতে পারছে কিনা, অন্যের ইংরেজি বলা বুঝতে পারে কিনা এবং সেই অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে কিনা। সেটি নিশ্চিত করার জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা সেই ধরনের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি তারা সবাই এমন সব বিষয় প্রশ্নে তুলে দেন বা জিজ্ঞেস করেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে, শিক্ষার্থী বা প্রার্থী ইংরেজি গ্রামারে এমফিল করছে কিনা কিংবা পিএইচডি করছে কিনা। এখানে আমি পাবলিক পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্ন এবং ক্যাডেট কলেজের প্রশ্ন দেখলাম। দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন এখানে কি টেস্ট করতে চাওয়া হয়েছে?

এই অবস্থা শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারকে, ব্যবহার করার অনুশীলনকে যে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যে উদ্দেশ্যে এই বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে সেই উদ্দেশ্যের ধারে কাছেও নেই। প্রশ্নপত্র এমনভাবে করা হয় তাতে মনে হয়, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষার ব্যবহার ভালভাবে আয়ত্ত্ব করে ফেলেছে সেটি ইতিমধ্যে পরীক্ষিত এবং এখন ভাষায় তার কতটা গভীল দখল আছে সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সে ভাষার ভেতরের কারণসমূহ এবং সম্পর্কগুলো আরও একটু গভীরভাবে জানে কিনা সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা মোটেই বৃদ্ধি হচ্ছেনা। ভাষা নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা হয়তো এসব বিষয় কারণ ও সম্পর্ক বের করে লিপিবদ্ধ করে রাখেন যাতে আরও যারা এসব বিষয় গবেষণা করতে চান তারা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন যা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষক বিশেষ করে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তাদের জন্য নয় এবং তাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তেমন কোন কাজেও আসেনা, আর লক্ষ কোটি শিক্ষার্থীদের এ নিয়ে কোন কাজও নেই, এতে তাদের কোন উপকারও হয়না। আর এজন্যই রাষ্ট্রীয় খরচে যে বার বছর ধরে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ানো হচ্ছে তাতে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা। যদিও কারিকুলামে লেখা আছে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে নিজেকে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করতে পারবে, ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, ইংরেজি নিজে লিখতে পারবে এবং ইংরেজি বিষয় পড়ে বুঝতে পারবে এবং ভেতরকার মেসেজ গ্রহণ করতে পারবে। জাতীয়ভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য এবং তারা কি অর্জন করবে তার সাথে প্রচলিত মূল্যায়নব্যবস্থা কোনেওভাবেই যায়না।

এসব প্রশ্নকেই আমাদের শিক্ষকরা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই (সবাই নয়) বলছেন এ তো চমৎকার প্রশ্ন। কেউ বলছেন, এ প্রশ্ন এত সহজ কেনো? এ গ্রামার তো যে কেউ পারব ইত্যাদি। প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের আরও চিন্তা করতে হয়, শিক্ষকদের ভীষণভাবে বেগ পেতে হয়। যাতে তারা সহজে বুঝতে না পারে যে, এখানে দ্যাট কেনো অ্যাডজেকটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ইত্যাদি। তারমানে উদ্দেশ্যের সাথে কোনও মিল নেই এবং ইংরেজি যারা পড়াচ্ছেন বা বিষয়টি যেভাবে ডিল করছেন তাদের কাছে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

আমদের বুঝতে হবে, ইংরেজি একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে আমাদের দেশে পড়ানো হয় মূলত বাণিজ্যিক কারণে। কিন্তু প্রশ্নপত্র, পড়ানোর ধরন এবং সবার ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচেছ বাঙালীরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বাদ দিয়ে যেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের উপর সবার গবেষণা করতে বসেছেন এবং এর কঠিন থেকে কঠিনতর বিষয়গুলো আয়ত্ত্ব তাদের করতেই হবে তবেই না ইংরেজি শেখা হয়ে যাবে!

আমাদের সকল শিক্ষার্থীর শেক্সপিয়ার আর ওয়ার্ডসওয়ার্থ ভালোভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে তাদের সাহিত্যের সব বিষয়গুলো গভীরভাবে আয়ত্ব করতে হবে এবং একইভাবে ইংরেজি ভাষার উৎপত্তি, ইতিহাস এর ক্রমবিকাশ, অর্থনীতির সাথে এর সম্পর্ক, সমাজ পরিবর্তন, মানব ইতিহাসের অগ্রগতির সাথে এর সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলো যে সাধারণ সকল শিক্ষার্থীদের জানতে হবে তা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি জানতে হবে যাতে তারা বিদেশে চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে বিপদে না পড়েন। সুন্দরভাবে তাদের কাজগুলো ভিন্নভাষী দেশে চালিয়ে আসতে পারেন। আমাদের দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করেন। তারা না জানেন ইংরেজি, না জানেন আরবী। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে শুনে শুনে আরবী ভাষা তাদের মধ্যে অনেকেই আয়ত্ত করে ফেলেন এবং চমৎকার ভাবে আরবী ভাষায় কথা বলেন। তারা যদি ইংরেজি ভাষাটিও অনেকটা আয়ত্ত করে যেতে পারতেন তাহলে সেটি হয়তো সোনায় সোহাগা। কারণ তারা শুধু শ্রমিক হিসেবে নয়, আরও বেশি বেতনের কাজ করতে পারতেন। আর তাদের কাজ করে অর্থ উপার্জন মানে শুধু তার নিজের উপার্জন নয়, দেশের উপার্জন। কিন্তু এই বিষয়টিকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারছিনা। কারণ শিক্ষাজীবনে তাদের শিখিয়েছি নউন কত প্রকার ও কিকি, কোনটি কোন ধরনের নাউন এবং কেনো ইত্যাদি যা মরুভূমির দেশে কিংবা শীতপ্রধান দেশ কোথাও তেমন কাজে লাগছে না। ফলে, তারা আবার অতিরিক্ত পয়সা ও সময় ব্যয় করে বিভিন্ন ধরনের কোচিং-এ ভর্তি হন ইংরেজি শেখার জন্য। কিন্তু সেই কোচিংগুলোর অবস্থাও তো একই--তারা শেখাচ্ছেন কিছু অনুবাদ, স্বস্ফূর্তভাবে ভাষা ব্যবহারের কোনো অনুশীলন নেই।

দ্বিতীয় একটি কারণ হচ্ছে। যারা উচচশিক্ষা কিংবা অন্যকোনো কাজের জন্য বিদেশে যান তারা যাতে ভালভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী কিংবা অন্যভাষাভাষী দেশে সব কাজ মোটামুটি ভালভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। আমাদের ইংরেজি পড়ানো, ইংরেজির ক্লাস, ইংরেজির সিলেবাস ও মূল্যায়ন সে রকম হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তারা সবাই সারা জীবন ভাব কত প্রকার, কোনো শব্দটি একটি বাক্যে কোন ধরনের নাউন এবং কেনো, এবং এগুলো আবার পড়েছেন সব বাংলায় ব্যাখ্যা অর্থাৎ ভাষা শেখার কোনো পদ্ধতিতে নয়। জটিল বাক্য কাকে বলে, কেন বলে, গঠনপ্রণালী কি কি ইত্যাদি। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলেই তো বুঝা যাচ্ছে প্রায় সবকিছুই, এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ আর লিখিত একটি অংশ থাকে যা পুরোপুরি ট্রাডিশনাল। আর সেই সুযোগ কিছু শিক্ষক ও কোচিং সেন্টার একটি প্যারাগ্রাফ থেকে কিভাবে অন্য যে কোন প্যারাগ্রাফ লেখা যায় ইত্যাদি কসরত শেখায় শিক্ষার্থীদের। নিজের ভাষা উন্নত করার সাথে এর কোনো মিল নেই। এখানে প্রশ্ন হলো তাদেরকে কি কেউ এসব কথা জিজ্ঞেস করবে কোন বিদেশি কোম্পানিতে কিংবা, বিদেশের মাটিতে কিংবা বিদেশের কোন অফিসে যে কোনটি অ্যাকটিভ ভয়েস, কোনটি নাউন ইন অ্যাপোজিশন ইত্যাদি? তারা বরং দেখবেন আমাদের শিক্ষার্থীরা বা গ্রাজুয়েটরা বিদেশিদের ইংরেজি বলা কতটা বুঝেন, সেইভাবে উত্তর দিতে পারেন কিনা, নিজেও বলে প্রকাশ করতে পারেন কিনা এবং নিজে লিখে প্রকাশ করতে পারেন কিনা। আর এ চারটি জায়গাতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা কিংবা গ্রাজুয়েটরা ধরা, পুরো ধরা। কারণ তারাতো সেভাবে পড়ে আসেননি, সেভাবে পড়ানো হয়নি। তারা সারাজীবন জেনেছেন গ্রামারের খুঁটিনাটি। সেগুলো নিয়েই তাদের ইংরেজি শেখা, আলোচনা, ইংরেজি জানার অগ্রগতি মুল্যায়ন ইত্যাদি হয়ে আসছে যা বাস্তব জীবনে ইংরেজি ব্যবহারের সাথে সম্পর্কহীন।

বিশ ত্রিশ বছর আগে দেশে মাত্র কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। সেগুলোতে একটি করে ইংরেজি বিভাগ ছিল এবং প্রতিটি বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ৩০-১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। তাদের পড়ানো হতো শুধু ইংরেজি সাহিত্য। সেখানেও উদ্দেশ্য সঠিক ছিলনা। তবে সাহিত্য যেহেতু ইংরেজিতে পড়তে হতো তাই পড়ে পড়ে অনেকের ইংরেজিতে কিছুট দখল চলে আসতো, কিন্তু ইংরেজি বলায় খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থীদের দখল চলে আসতো। আর বলে প্রকাশ করার বিষয়টি তখনকার দিনে এতটা পরিষ্কার ধারণাও ছিলনা। এখন সময়ের সময়ের সাথে অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে এবং প্রতিটিতেই এখন আর সাহিত্য সেভাবে পড়ানো হয়না, পড়ানো হয় ল্যাংগুয়েজ অর্থাৎ ভাষা। এখানেও শিক্ষার্থীদের যে ভাষা উন্নত করতে হবে, চারটি স্কীলকে ডেভেলপ করতে হবে সেটিও অতটা স্পষ্ট নয়। যারা একটু স্মার্ট এবং খোঁজ খবর রাখেন তাদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী স্পিকিংকে ভাল গুরুত্ব দেন এবং নিজের স্কিলটা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করেন, লেখার স্কিল বাড়ানোর চেষ্টা করেন, তারা মোটামুটি ভাল চাকরিও ম্যানেজ করেন। এখানকার শিক্ষকরা নিজেদের প্রোফাইল বাড়ানোর জন্য, চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য, বিদেশে স্কলারশীপের জন্য কিছু কিছু বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন সেটি একদিকে ভাল যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে তারা অনেকটা এগিয়ে থাকেন এবং পড়াশোনা করার চেষ্টা করেন। সেই বিষয়গুলো কিন্তু দেশের বিশাল বহরের শিক্ষার্থী যারা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ছেন তাদের ব্যক্তি পর্যায় বা কাজে ব্যবহার করার বিষয়কে টাচ করেনা। অর্থাৎ এসব শিক্ষকরা যেসব নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ইত্যাদি করে থাকেন তা এই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটকথা বিশাল অঙ্কের শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো কাজে লাগেনা।

আর রাষ্ট্রীয়ভাবে যে, বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হচ্ছে , তারসাথে পুস্তক, কারিকুলাম, পরীক্ষা, শ্রেণিকার্যক্রম এবং বিশাল বহরের শিক্ষক পালন করা হচেছ এসবই মূল উদ্দেশ্যের ধারে কাছে না হওয়ায় বলা যায় সরকারি এই বার বছরের প্রজেক্ট অনেকটাই অকার্যকর। কারণ ব্যতিক্রম দুচারজন শিক্ষার্থী ছাড়া কেউই কিন্তু ইংরেজি কোনওভাবেই ব্যবহার করতে পারছেন না। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মনে করে ইংরেজি পাস করতে পারলেই হলো, তা সে যেভাবেই হোক। আর এই পাসের ব্যাপারটি অত্যন্ত সহানুভূতি আর ছাড় দেয়ার মধ্যে আটকে আছে। প্রশ্ন, মূল্যায়ন, মার্কিং ও সার্টিফিকেট সবই ছাড় দেয়ার মধ্যে চলছে।

সবশেষে বলতে চাই, সেদিন ঢাকায় এক বেসরকারি কলেজের একজন অধ্যাপকের সাথে কথা বলছিলাম যার কলেজে ইংরেজিতে অনার্স পড়ানো হয়। বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করলাম ইংরেজিতে যেসব শিক্ষার্থীরা অনার্স ও মাস্টার্স পড়ছে তাদের পড়াশোনার ধরন, জানার ব্যপ্তি, ইংরেজি ব্যবহার এবং সর্বোপরি ফলাফল কেমন হয়। উত্তরে, তিনি বলেল, তাদেরকে ফুল গ্রেডিং দেওয়া হয় অর্থাৎ আগের যুগে যে ফার্স্টক্লাস সে ধরনের উন্নতমানের ফার্স্টক্লাস পায় সবাই, কেউ দ্বিতীয় শ্রেণি পায়না। আমি বললাম সেটি কেমন, সবাই এত ভালো? উনি বললেন, তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য এমনটি করা হয়। যারা ক্লাস করে না, টিউটরিয়্যাল পরীক্ষাও ঠিকমতো দেয় না- তাদেরসহ সবাইকে প্রথম শ্রেণি পাইয়ে দিতে হয় যাতে তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারে। সবশেষে যখন বললাম, তাদের জানাশোনর ব্যপ্তি কতটা বাড়ে, অধ্যাপক নিজেই বললেন, ওরা এসএসসিতে ইংরেজির যে জ্ঞান নিয়ে ভর্তি হয়, এখান থাকে অনার্স বা মাস্টার্রস পাস করার পর সেই জ্ঞান বা দক্ষতা থেকে সম্ভবত একটুও আর আগায়না। কারণ ক্লাস বা বইয়ের সাথে তাদের সম্পর্ক খুব কম। তাদের খাতা দেখে মার্কস দেয়া যায়না বা দেখা হয়না। খাতা না পড়ে এবং অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে নম্বর দেয়া হয়। এই হচ্ছে আমাদের ইংরেজি শিক্ষার হাল!

আর তাই, সবাই ইংরেজি পড়াতে, স্পিকিং করাতে বসে গেছেন গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও রাজধানী শহরের সর্বত্র। কেউ পড়াচ্ছেন ইংরেজিতে কিছু স্ট্রাকচার, কিছু ট্রানস্লেশন, কেউ কিছু ডায়ালগ। সবারই ধারনা ইংরেজি ভাষা বোধহয় এভাবেই শেখানো হয়। তার মানে উদ্দেশ্য এবং পড়ানোর ধরন নিয়ে সবাই ধন্দের মধ্যে আছেন। এটিই আমাদের দেশে ইংরেজি শেখানোর বাস্তবতা!

লেখক: Masum Billah

ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক

মন্তব্য করুন

ব্লগ