সিনিয়র শিক্ষক
১০ মে, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা নোট না নিলে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট নেওয়া এবং এর বিনিময়ে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না তফসিলি ব্যাংকগুলো। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। বাধ্য হয়ে অনেকে দালালের কাছে কম দামে নোট বিক্রি করছে, যেখানে এক হাজার টাকার নোট মিলছে মাত্র ৮০০ টাকায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১২ এপ্রিল ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট থেকে নির্দেশনা দিয়ে জানায়, সব ব্যাংককে বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তন করতে হবে। কোনো শাখা এ সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন, কারওয়ান বাজার ও গুলশানের একাধিক ব্যাংক শাখা ঘুরে কোথাও এই নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন পাওয়া যায়নি। কোনো শাখাতেই বিশেষ কাউন্টার নেই, এমনকি এসংক্রান্ত দৃশ্যমান কোনো নোটিশও নেই।
গ্রাহক সেজে পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্যাশ কাউন্টারে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা জানান, এসব নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 'পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা' অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।
একই চিত্র সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায়ও দেখা গেছে। কোথাও আলাদা কাউন্টার নেই, কোথাও আবার সীমিতভাবে সাধারণ কাউন্টারেই সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, সমস্যার পেছনে রয়েছে নতুন নোটের সংকট। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাজারে পুরনো নোটের আধিক্য থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নোট সরবরাহ করছে না। ফলে নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মহাখালী শাখাতেও আলাদা কোনো কাউন্টার নেই। তবে শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ কাউন্টারেই আমরা পুরনো নোট পরিবর্তন করে দিয়ে থাকি।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নোট সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো ব্যাংক গ্রাহককে সেবা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীন জারীকৃত নির্দেশনা সব ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশনা অমান্য বা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। আইন অনুযায়ী, নির্দেশনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে পাঁচ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গুরুতর অপরাধে দায়ীদের সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
৫
৫ মন্তব্য