“শিক্ষক ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,
সশ্রদ্ধ নিবেদন এই যে, দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের পেনশন, কল্যাণ ভাতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলোর একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে “শিক্ষক ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আপনার সদয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি।
১) শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন একটি কেন্দ্রীয় “শিক্ষক ব্যাংক”-এর মাধ্যমে জমা ও পরিচালিত হতে পারে।
২) প্রত্যেক বেসরকারি শিক্ষকের বেতন থেকে কল্যাণ ও পেনশন খাতে নির্ধারিত হারে (যেমন ১০%) নিয়মিত সঞ্চয় রাখা হচ্ছে সে টাকারও সুনির্দিষ্ট ইনডেক্স নাম্বারই হবে একাউন্ট এই মর্মে জমা হবে তাহলে তার লভ্যাংশ ব্যাংক যথেচ্ছা ব্যবহার করবে।
৩) দীর্ঘমেয়াদে এই সঞ্চিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে।
৪) শিক্ষক ব্যাংক থেকে শিক্ষক ঋণ নিবে সে লভ্যাংশের টাকায়ই একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত বড়জোড় ২ বছর সময় লাগবে এরপর থেকে পেনশনের টাকা দেয়া ব্যাংকের কোন সমস্যায় হবে না। আর ঋণের টাকার শতভাগ রিটার্ন আসবে।
৫)অগ্রণী ব্যাংক মূলত উচ্চ সুদের হার এবং অত্যন্ত কম ঝুঁকির কারণে বেসরকারি শিক্ষকদের ঋণ দিয়ে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করে। যেহেতু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত ব্যাংকের মাধ্যমে আসে, তাই ঋণের কিস্তি আদায়ের নিশ্চয়তা থাকে শতভাগ, যা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে। বর্তমানে ১৩-১৪% হারে সুদের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি এবং দীর্ঘমেয়াদী গ্রাহক ভিত্তি তৈরির মাধ্যমে ব্যাংকটি এই খাত থেকে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ আয়ের ধারা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এটা শিক্ষক ব্যাংকের মাধ্যমে হলে পাঁচ লক্ষ শিক্ষক ঋণের লভ্যাংশের টাকা দিয়ে পেনশনের টাকা একজন শিক্ষক দেয়া কোন ব্যাপারি না শুধু মন্ত্রী মহোদয়ের সিন্ধান্ত মাত্র।
এই প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা তহবিলের লভ্যাংশ দিয়েই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন দ্রুত ও এককালীন পরিশোধ করা সহজ হবে। একইসাথে শিক্ষার্থীদের ফি ও অন্যান্য আয়ের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থেকেও একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি হবে।
এছাড়াও, বৈদেশিক অনুদান ও সরকারি সহযোগিতা যুক্ত হলে শিক্ষা জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কেবল সময় ও নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তুললে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়, আপনারা অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট নিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা করলে শিক্ষা খাতের প্রকৃত আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করি। অতীতে কল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার কোটি টাকার যে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে সুশাসন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
অতএব, “শিক্ষক ব্যাংক” প্রতিষ্ঠার বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
সহকারী অধ্যাপক ( ডিজিটাল টেকনোলজি)
মধুপুর বহুমুখী মডেল টেক: ইন্স: এন্ড কলেজ
মধুপুর টাঙ্গাইল।
Collected By Moydul Islam Modhu
সংগ্রহেঃ ময়দুল ইসলাম মধু
৫
৫ মন্তব্য