Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ মে, ২০২৬ ০৫:০৬ অপরাহ্ণ

ইসলামে শ্রমনীতি ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার (ময়দুল ইসলাম মধু)

ইসলাম শ্রমের মর্যাদা, শ্রমিকের অধিকার ও মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। ইসলামের এ সংক্রান্ত নীতি-নির্দেশ অনুসৃত হলে আজকের দিনে বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমিককে তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হতো না। ইসলাম কর্মবিমুখ হওয়াকে পছন্দ করে না। বরং কর্মের প্রতি উৎসাহিত করে। এইজন্য নামায সমাপণের পরপরই জমিনে আল্লাহর নেয়ামত তালাশের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘অতঃপর তোমরা নামায শেষ করে পৃথিবীতে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে ছড়িয়ে পড় এবং বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ [সূরা জুমু’আ: ১০]। আর আদম (আ.) থেকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (দ.) পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক নবীই (আ.) নিজের শ্রমব্যয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। প্রিয় নবী (দ.) নিজের শ্রম ব্যয় করে উপার্জনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: ‘কোন ব্যক্তি তা থেকে উত্তম আহার করেনি, যা সে নিজ হাতে উপার্জন করে আহার করেছে। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে আহার করতেন।’ [সহীহ বুখারী: ২০৭২]।

ইসলাম যেমনিভাবে শ্রমের গুরুত্ব বর্ণনা করে শ্রমব্যয়ে উপার্জনের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে শ্রমিকের অধিকারকেও অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা শ্রমিককে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কিন্তু ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। উদাহরণস্বরূপ: ইসলাম শ্রমিককে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার নিজের সামর্থ্য ও চাহিদা অনুযায়ী পেশা নির্ধারণের অধিকার দিয়েছে। বর্তমান সমাজে কিছু কিছু পেশাকে খুবই খাটো করে দেখা হয় এবং অনেক সময় শ্রমিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার উপর অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ইসলামে এই ধরনের কোনো শ্রেণিবৈষম্য নেই। বরং প্রত্যেককে নিজের চাহিদা অনুযায়ী পেশা নির্ধারণের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে ইসলাম শ্রমিককে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক যথাসময়ে পাওয়ার অধিকার দিয়েছে এবং পরিশ্রমের কারণে তার শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম শুকানোর পূর্বেই কোনো ধরনের গড়িমসি না করে পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেন: ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তুমি তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ [সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী: ১১৬৫৪]। আর যে মালিক শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তার থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে তার পারিশ্রমিক দেয় না, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তার প্রতিপক্ষ হবেন। হাদীসে কুদসীতে এসেছে, প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন: ‘কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির লোকের প্রতিপক্ষ হব: এক. যে ব্যক্তি আমার নামে কথা দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করল। দুই. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন লোককে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল এবং তিন. যে ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে তার থেকে পূর্ণ কাজ বুঝে নিল; কিন্তু তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করল না।’ [সহীহ বুখারী: ২২৭০]।

সংগ্রহেঃ

ময়দুল ইসলাম মধু 

Moydul Islam Modhu

মন্তব্য করুন

ব্লগ