সহকারী অধ্যাপক
০১ মে, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
হকের আলো - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
হকের আলো
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যারা হৃদয়ে জ্বালায় ঈমানের দীপ,
সৎকর্মে সাজায় জীবন রূপ—
তারা জানে, সত্যের পথই আলো,
মিথ্যার পথে শুধু অন্ধকার ঢালো।
মুহাম্মাদের (সা:)বাণী—রহমতের ধারা,
রবের পক্ষ হতে সত্যের ইশারা।
যে তা মানে, হৃদয় হয় নির্মল,
পাপের কালিমা মুছে যায় অবিচল।
আল্লাহ তাদের করেন পথের দিশা,
ভাঙা মনেও দেন শান্তির ভাষা।
দুঃখের ভিতরে দেন শক্তি ও আলো,
ভুলের ভার মুছে দেন ভালো।
আর যারা চলে মিথ্যার পিছে,
বাতিলের মোহে পড়ে আছে নিচে—
তাদের চোখে থাকে ধোঁয়ার পর্দা,
সত্যের আলো লাগে যেন বোঝা।
এভাবেই রব শেখান আমাদের,
হক আর বাতিল—দুই পথের খবর।
যে বুঝে নেয়, সে পায় মুক্তি,
সত্যের পথেই জীবনের শক্তি।
***
হক ও বাতিলের মহাযাত্রা
যখন রাত নামে পৃথিবীর বুকে,
অন্ধকার ঢাকে হৃদয়ের সুখে—
তখনই আসে এক আলো দূর,
সত্যের ডাকে কাঁপে সৃষ্টির সুর।
কেউ শুনে নেয়, কেউ থাকে বধির,
কেউ খোঁজে আলো, কেউ হয় অধীর।
ঈমানের ডাকে জেগে ওঠে প্রাণ,
সত্যের পথে শুরু হয় অভিযান।
যারা মানে রবের বাণী,
তাদের চোখে জ্বলে জ্ঞানের পানি।
সৎকর্মে গড়ে তারা জীবনখানি,
ভালোবাসায় ভরে ওঠে প্রতিটি বাণী।
তাদের অন্তরে নেই কোনো ভয়,
কারণ তারা জানে—রব আছেন সয়।
ভুল করলে তারা ফিরে আসে আবার,
তওবার পথে খুঁজে নেয় পার।
যখন তারা ডাকে অন্তর থেকে,
রব শোনেন তা ভালোবেসে।
মন্দ কাজগুলো মুছে দেন তিনি,
নতুন আলোয় ভরে দেন দিনই।
অতীতের দাগ আর বাঁধা নয়,
ক্ষমার ছায়ায় মুক্তি রয়।
যে হৃদয় ছিল ক্লান্ত, ভাঙা,
সে হয় আজ শক্তির রাঙা।
যে জীবন ছিল এলোমেলো,
রব সেটাকে করেন ভালো।
ভুলের পথে যে ছিল পথিক,
সে পায় আজ সঠিক দিক।
দুঃখের মাঝে দেন তিনি আশা,
বিপদের মাঝে শান্তির ভাষা।
যে বিশ্বাস করে, সে পায় শক্তি,
সত্যের পথে থাকে অটুট ভক্তি।
অন্যদিকে যারা চলে অন্ধ পথে,
মিথ্যার পিছু ছুটে অন্ধরাতে—
তারা দেখে না সত্যের আলো,
বাতিলের মোহে ডুবে থাকে ভালো।
তাদের চোখে ধোঁয়ার পর্দা,
সত্যের কথা লাগে ভারী বড়া।
তারা ভাবে—এই দুনিয়াই সব,
কিন্তু ভুলে যায় পরকালের রব।
দুই পথ সামনে—একটি আলো,
অন্যটি অন্ধকারের জ্বালা কালো।
একটিতে শান্তি, মুক্তির গান,
অন্যটিতে শুধু বিভ্রান্তি আর ক্ষয়মান।
যারা নেয় হকের দিশা,
তাদের জীবন হয় আলোর ভাষা।
যারা বেছে নেয় মিথ্যার পথ,
তাদের শেষ হয় অন্ধকারে রথ।
এভাবেই রব দেন দৃষ্টান্ত,
জীবনের পথে করেন স্পষ্টান্ত।
কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা—
বুঝিয়ে দেন তিনি সুস্পষ্ট ভাষা।
যে শেখে, সে হয় জ্ঞানী,
যে মানে, সে পায় প্রাণী।
আর যে ফিরেও দেখে না পথ,
সে হারায় নিজেই নিজের রথ।
শেষে যখন খুলে যায় পর্দা,
সত্য তখন হয় না আর গোপন করা।
যারা ঈমান এনেছে, তারা হাসে,
আল্লাহর রহমতে থাকে ভাসে।
আর যারা মিথ্যার পথে ছিল,
তারা তখন শুধু আফসোসে মিল।
কিন্তু তখন আর ফেরার পথ নাই,
সত্য তখন সামনে দাঁড়ায় ঠাঁই।
এই হলো জীবনের মহা গল্প,
হক আর বাতিল—দুইয়ের রূপ।
যে বেছে নেয় সত্যের আলো,
তার জীবন হয় সত্যিই ভালো।
***
নিস্তব্ধ রাতে ঘুমে ঢাকে ধরণী,
অন্ধকারে ডুবে থাকে প্রাণবনী,
হঠাৎ কোথা জাগে আলোর ডাক—
“এসো মানব, ছাড়ো মিথ্যার ফাঁক।”
দিগন্তজোড়া শূন্যতার মাঝে,
শোনা যায় এক সত্যের সুর সাজে,
হৃদয় কাঁপে, থেমে যায় শ্বাস—
কে ডাকে আজ এমন উদাস?
সে ডাক নয় কোনো মানুষের,
সে আলো নয় ক্ষণিক আঁধারের,
রবের পক্ষ হতে নাযিল বাণী—
জাগাও হৃদয়, ভাঙো ঘুমখানি।
কেউ শোনে তা চোখের জলে,
কেউ ফিরেও না, থাকে ভুলে,
কেউ খোঁজে পথ আলোর দিকে—
কেউ পড়ে থাকে মিথ্যার ফাঁকে।
ঈমান জাগে ধীরে ধীরে,
অন্ধকার ভাঙে নীরব নীড়ে,
যে বুঝে নেয় সত্যের রূপ—
তারই জীবন পায় নতুন ধূপ।
দুনিয়ার মোহ টানে পিছে,
তবু হৃদয় ডাকে আলোর দিকে,
দুই পথ সামনে—দুইয়ের ডাক—
একটি সত্য, অন্যটি ফাঁক।
যে নেয় সাহস, এগোয় সামনে,
সত্যের আলো ধরে প্রাণে,
সে পায় শান্তি, পায় আশ্রয়—
রবের পথে ভয় কভু নয়।
যে হারায় মিথ্যার মাঝে,
বিভ্রম তাকে আঁধারে সাজে,
সে জানে না কিসের ক্ষতি—
নিজেই গড়ে নিজের ভ্রান্তি।
আল্লাহ দেন প্রথম শিক্ষা—
জীবন মানে সত্যের দীক্ষা,
যে নেয় তা হৃদয় দিয়ে—
সে বাঁচে আলো জ্বালিয়ে নিয়ে।
এভাবেই শুরু হয় যাত্রা,
মানবজীবন পায় নতুন মাত্রা,
একটি ডাক, একটি পথ—
সত্যের দিকে চূড়ান্ত রথ।
যে হৃদয়ে জ্বলে ঈমানের আলো,
সে দেখে দুনিয়া অন্যরূপ ভালো,
প্রতিটি কণায় খুঁজে পায় চিহ্ন—
রবের সৃষ্টি, অপার গুণ।
সৎকর্ম তার জীবনের সাজ,
নম্রতায় ভরে প্রতিটি কাজ,
মানুষকে ভালোবাসে প্রাণ খুলে—
অহংকার থাকে দূরে ভুলে।
রাতের শেষে সেজদায় পড়ে,
চোখের জলে দোয়া করে,
“হে আমার রব, রাখো পথ সোজা—
ভুল যেন না ঢাকে আমার বোঝা।”
তওবার দরজা খোলা সদা,
যে ফিরে আসে, পায় সে সাড়া,
অতীত যতই হোক কালো—
ক্ষমায় তা হয় নির্মল আলো।
ঈমান মানে শুধু কথা নয়,
এটি জীবন, এটি হৃদয়,
প্রতিটি কাজে তার প্রকাশ—
সত্যের পথে অবিচল বাস।
ঝড় এলেও টলে না মন,
কারণ আছে রবের শরণ,
যে ভরসা করে অন্তরে—
সে হারায় না কভু ঘোরে।
ভুল করলে সে থামে না পথ,
আবার ফিরে পায় আলোর রথ,
বারবার পড়ে, তবু উঠে—
এটাই মুমিনের সত্য রূপে।
তার চোখে নেই হিংসার দৃষ্টি,
তার প্রাণে থাকে করুণার সৃষ্টি,
মানুষ দেখে তার আচরণ—
বলে, “এ তো আলোর জীবন!”
***
মানব জীবন ভুলে ভরা,
কখনো হাসি, কখনো জ্বরা,
তবু আছে আশার আলো—
রবের রহমত সীমাহীন ভালো।
যে ফিরে আসে কাঁদতে কাঁদতে,
নিজ ভুল নিয়ে অন্তর ভেঙে,
রব তাকে ফেরান না কভু—
বরং দেন ভালোবাসা সবু।
গুনাহগুলো মুছে যায় ধীরে,
ক্ষমার জলে অন্তর নীড়ে,
যে ছিল ভারে নত প্রাণ—
সে পায় আজ নতুন জ্ঞান।
অতীতের দাগ মুছে দিয়ে,
রব দেন পথ সামনে নিয়ে,
নতুন করে শুরু জীবন—
আলোয় ভরে প্রতিক্ষণ।
এটাই রহস্য, এটাই দান—
রবের রহমত অফুরান,
মানুষ ভুলে, আবার ফিরে—
এটাই তার সত্য নীড়ে।
যে বুঝে নেয় এই শিক্ষা,
সে পায় মুক্তির দীক্ষা,
ভুলের মাঝে ডুবে না আর—
আশার আলো করে তার।
শয়তান চায় হতাশ করতে,
বলতে—“তুমি অযোগ্য পথে”,
কিন্তু রব বলেন—“ফিরে এসো,
আমার রহমতে ডুবে বসো।”
এই লড়াই অন্তরের ভেতর,
একদিকে আশা, অন্যদিকে ভয়ের ঘোর,
যে বেছে নেয় রবের ডাক—
তারই জীবন পায় মুক্তির ফাঁক।
***
রাতের আঁধার ভাঙে ধীরে,
একটি হৃদয় কাঁদে নীড়ে,
“হে আমার রব, ভুল করেছি—
ফিরে আসি, পথ হারিয়েছি।”
অশ্রুর ধারা নীরব গানে,
পাপের ভার নামে প্রাণে,
তবু আশার দীপ জ্বলে,
রহমতের হাত সামনে চলে।
রব বলেন—“এসো ফিরে এসো,
আমার দরজা খোলা রেখো,
যত বড়ই হোক গুনাহ—
আমার ক্ষমা তার চেয়েও মহান।”
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে,
আশার আলো আবার জাগে,
যে ছিল ক্লান্ত, পরাজিত—
সে হয় আবার নবজীবিত।
তওবা মানে নতুন শুরু,
অতীত ভুলের নতুন গুরু,
যে ফিরে আসে অনুতাপে—
রব তাকে রাখেন স্নেহ ছাপে।
শয়তান হারে এই স্থানে,
মানুষ জেতে কাঁদার গানে,
কারণ রবের দয়া বড়—
সব গুনাহকে দেয় ছোঁড়া।
এটাই জীবন, এটাই পথ,
পড়ে উঠে চলা নিরন্তর রথ,
যে থামে না, সে-ই বাঁচে—
সত্যের আলো তারে নাচে।
অন্ধকারও শেখায় আলো,
পাপও শেখায় ভালো-খারাপ ভালো,
যে শেখে সে-ই মানুষ হয়—
রবের পথে সে-ই জয়।
***
এই দুনিয়া এক পরীক্ষাগার,
প্রতিটি প্রাণের আলাদা ভার,
কেউ হাসে, কেউ কাঁদে নীরবে—
সবাই চলে অদৃশ্য দড়িতে।
সম্পদের মোহ টানে মানুষ,
ক্ষমতার নেশা করে আবদ্ধ,
তবু শেষে থাকে শুধু ধুলো—
সবই মুছে যায় কালো।
ধন-সম্পদ নয় স্থায়ী ঘর,
আজ আছে, কাল হয় পর,
তবু মানুষ ভুলে যায় বারবার—
ধরেই নেয় এটাই তার।
রব বলেন—“এসো বুঝে নাও,
এই দুনিয়া পরীক্ষা পাও,
এখানে যা করো প্রতিদিন—
সেটাই হবে পরদিন দিন।”
সৎকর্ম এখানে বীজের মতো,
আখিরাতে ফল হবে যত,
যে বপন করে ভালো কাজ—
সে পায় চিরস্থায়ী সাজ।
অন্যদিকে যারা ভুলে যায়,
শুধু দুনিয়া নিয়ে খেলা খায়,
শেষে তাদের কিছু থাকে না—
শুধু আফসোস জ্বলে প্রাণে।
পরীক্ষা আসে সুখ-দুঃখে,
কখনো হাসিতে, কখনো বুকে,
যে ধৈর্য ধরে থাকে স্থির—
সে-ই পায় চূড়ান্ত ধীর।
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া,
সত্য জীবন অন্য মায়া,
যে তা বোঝে হৃদয় দিয়ে—
সে বাঁচে সত্য বেঁচে নিয়ে।
***
শয়তান ফিসফিস করে কানে,
“তুই একা, কেউ নেই জানে”,
ভয় ঢালে সে মানুষের মনে—
সত্য ঢাকে মিথ্যার বনে।
সে বলে—“দুনিয়াই সব শেষ,
আখিরাত শুধু কল্পনাবেশ”,
এভাবেই সে ভুলায় প্রাণ—
নষ্ট করে মানুষের জ্ঞান।
কিন্তু যারা আলোর পথে,
তারা জানে তার ধোঁকা রথে,
রবের নামই তাদের ঢাল—
ভয় হারায়, থাকে না কাল।
শয়তান দুর্বল, মিথ্যা শক্তি,
সত্যের সামনে সে-ই ভক্তি,
যে আল্লাহকে করে স্মরণ—
তার হৃদয় পায় নিরাপদ শরণ।
সে ভয় দেখায়, বিভ্রান্ত করে,
মানুষকে দূরে সরিয়ে ধরে,
কিন্তু ঈমান যার শক্ত ভিত—
সে থাকে আলোর ভিত।
শয়তান শুধু ফাঁদ সাজায়,
মানুষ যদি ভুলে যায়,
নিজেই তখন পড়ে যায় সে—
নিজের খোঁড়া গর্তে।
রবের জিকির ঢাল হয়ে দাঁড়ায়,
অন্ধকার সব দূরে যায়,
যে স্মরণে থাকে সদা—
সে পায় নিরাপদ সাদা।
এটাই লড়াই প্রতিদিনের,
ভালো-মন্দের অন্তরের,
যে জয় করে নিজের মন—
সে-ই পায় মুক্তির ধন।
***
যে অন্তরে জাগে আলোর বাস,
সে খুঁজে ফেরে সত্যের নিঃশ্বাস,
নিজেকে দেখে আয়নার মতো—
ভুল শুধরে চলে ধীরে ধীরে ততো।
অহংকার তার পড়ে যায় দূরে,
নম্রতা জাগে হৃদয়ের সুরে,
“আমি ছোট”—এই বোধের জ্ঞান,
তার জীবন করে মহান।
প্রতিদিন সে হিসাব করে,
কী হারালো, কী পেল পরে,
ভুলের ভার সে বোঝে ভালো,
তাই তো জীবন হয় উজ্জ্বল আলো।
নিজের সাথে লড়াই চলে,
অন্তর যুদ্ধ হৃদয় জ্বলে,
তবু থামে না সে পথচলা—
কারণ তার লক্ষ্য আল্লাহর ডালা।
রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয়,
তাকে রাখে সৎ ও নির্ভয়,
এই ভয় নয় ভয়ের শৃঙ্খল—
এটাই তার মুক্তির বল।
যে নিজেকে শোধন করে নেয়,
সে-ই সত্যের পথে যায় বয়ে,
অন্তর তার হয় স্বচ্ছ আয়না—
সত্য প্রতিফলিত হয় যেন সোনা।
আত্মশুদ্ধি এক নীরব যুদ্ধ,
যেখানে জয় হয় ধৈর্যযুক্ত,
যে জেতে নিজ মন-দৈত্য—
সে পায় আলোর আস্বাদ্য।
এভাবেই শুরু হয় পরিবর্তন,
অন্তর জুড়ে শান্তির বর্ণন,
মানুষ থেকে হয় সে উন্নত—
আল্লাহর পথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞত।
***
ঈমান মানে শুধু শুরু নয়,
এটি জীবনভর চলার পরিচয়,
ঝড় এলে যেন না ভাঙে মন—
এটাই তার মূল গুণধন।
সুখে-দুঃখে একই স্থিরতা,
রবের প্রতি গভীর ভক্ততা,
পরিবর্তন নয় দিকভ্রান্তি—
বরং সত্যে দৃঢ় শান্তি।
দিন যায়, রাত আসে ফিরে,
ঈমান থাকে হৃদয়ের নীড়ে,
যে ধরে রাখে এই আলো—
তার জীবন হয় সত্যই ভালো।
শয়তান আসে নানা রূপে,
ভয় দেখায় নানান কূট কৌশলে,
কিন্তু ঈমান যার শক্ত শিকড়—
সে থাকে অটল, ভাঙে না হৃদ।
দুনিয়া মোহ দেখায় বারবার,
তবু ঈমান বলে—“না আর”,
এই প্রতিরোধই তার শক্তি,
এটাই তার চূড়ান্ত ভক্তি।
যে ঈমানকে রাখে সযত্নে,
সে হারায় না পথ কোনো ক্ষণে,
রবের আলো তার পথ দেখায়—
সব অন্ধকার দূরে যায়।
বিশ্বাস শুধু মুখের কথা নয়,
এটি কাজের গভীর পরিচয়,
প্রতিটি কাজেই তার প্রমাণ—
সত্যের পথে তার অভিযান।
ঈমান যার দৃঢ় শিকড় হয়,
তার জীবনে শান্তি রয়,
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে স্থির—
রবের পথে সে-ই ধীর।
***
হৃদয় যদি হয় মলিন, কালো,
সেখানে আলো পড়ে না ভালো,
তাই তাকে ধোয়া দরকার—
তওবার জলে বারবার।
হিংসা, লোভ, অহংকার যত,
সব মুছে দিতে হয় তত,
নরম হৃদয় হয় তখনই—
রবের আলো আসে সান্নিধ্যে।
যে ক্ষমা করতে জানে প্রাণে,
সে-ই বাঁচে শান্তির গানে,
রাগ-ক্ষোভকে দেয় সে বিদায়—
হৃদয় হয় আলোর দায়।
নরম হৃদয় শক্তির নাম,
এটি দুর্বলতা নয় কোনো ধাম,
বরং এটি ঈমানের ছায়া—
যেখানে নেই কোনো মায়া।
মানুষকে ভালোবাসা শিক্ষা,
এটাই সবচেয়ে বড় দীক্ষা,
যে হৃদয় করে প্রশস্ততা—
সে পায় সত্যিকারের মুক্ততা।
রবের স্মরণে ভরে হৃদয়,
তখন আর ভয় থাকে না ভয়,
শান্তি নামে গভীর ভিতরে—
আত্মা জাগে আলোর ঘরে।
পরিশুদ্ধ হৃদয়ই আসল ধন,
এটাই মানুষের চূড়ান্ত গুণ,
যে তা পায়, সে ধনী সত্য—
আল্লাহর নিকট হয় প্রিয়ত।
এই হৃদয়ের পরিশুদ্ধি পথ,
জীবনের সবচেয়ে বড় রথ,
যে ধরে রাখে এই আলো—
তার জীবন হয় সত্যই ভালো।
***
যে ঈমান ধরে রাখে স্থির,
তার জীবন হয় ধীর-গম্ভীর,
ঝড়-তুফানেও নড়ে না সে—
রবের আশ্রয় থাকে সাথে।
দুনিয়ার মোহ যতই আসুক,
সে তার পথ থেকে না সরুক,
কারণ তার চোখে আছে দৃশ্য—
আখিরাতের চূড়ান্ত সত্য।
সৎকর্ম তার নিত্য সঙ্গী,
ভুলের মাঝে ফিরে রঙি,
প্রতিটি দিন হয় তার পরীক্ষা—
সে তবু রাখে আলোর দীক্ষা।
শয়তান যতই ফাঁদ সাজায়,
তার ঈমান তাকে রক্ষা পায়,
কারণ সে জানে একমাত্র পথ—
আল্লাহর দিকে চলার রথ।
ধৈর্য তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র,
তাওয়াক্কুল তার অন্তরের মন্ত্র,
এই দুই শক্তির মিলনে সে—
অবিচল থাকে যেকোনো দিশে।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে,
সে রবকে খোঁজে নিজের চোখে,
এটাই তার চূড়ান্ত সত্য—
এটাই তার মুক্তির গন্তব্য।
স্থির ঈমানের এই পথচলা,
মানুষকে করে আলোর মেলা,
যে ধরে রাখে এই দিশা—
তার জীবন হয় সত্যের ভাষা।
এভাবেই ঈমান হয় বিজয়ী,
অন্তর হয় আলোকময়ী,
মানুষ পায় তার আসল পরিচয়—
রবের পথে সে-ই জয়।
***
এই দুনিয়া রূপের মেলা,
চোখ ধাঁধায় প্রতিদিন খেলা,
হাসি-কান্না মিশে থাকে,
তবু সত্য খুব কমই দেখে।
সম্পদের ঝলক চোখে পড়ে,
মানুষ তখন পথ ভুল করে,
সোনা-রূপার মোহের টানে,
হৃদয় ডুবে অজানা মানে।
দুনিয়া বলে—“আমায় ধরো”,
“আমার মাঝে সুখ খুঁজে ফেরো”,
কিন্তু শেষে থাকে শুধু ধোঁকা,
সবই মুছে যায় সময়-ছোঁয়া।
যে এই মোহে পড়ে থাকে,
সে সত্য পথ সহজে না দেখে,
কারণ চোখে পর্দা নামে,
সত্য তখন হারায় ধামে।
ধন-সম্পদ ক্ষণিক ছায়া,
আজ আছে, কাল হয় মায়া,
তবু মানুষ ভুলে যায় বারবার,
এই সত্যের গভীর সার।
রব বলেন—“এটা পরীক্ষা,
এখানে নয় চিরস্থায়ী দেখা”,
যে বোঝে এই জীবন কথা—
সে পায় মুক্তির সত্য পথা।
মোহ যতই সুন্দর লাগে,
শেষে শুধু শূন্যতা জাগে,
যে এতে ডুবে থাকে প্রাণ,
সে হারায় তার আসল মান।
এই দুনিয়া এক ভ্রমণপথ,
শেষ গন্তব্য আখিরাত রথ,
যে তা বোঝে হৃদয় দিয়ে—
সে চলে সত্য বাঁচিয়ে নিয়ে।
***
শয়তান আসে নরম ছদ্মে,
মানুষকে নেয় মায়ার বন্ধে,
সে বলে—“তুই ঠিকই আছিস”,
আসলে সে পথ ভুলই রাখে।
সে ভালোকে খারাপ বানায়,
খারাপকে সে সাজিয়ে আনে,
মানুষ তখন বিভ্রান্ত হয়—
সত্য পথ থেকে দূরে রয়।
ধীরে ধীরে ঢোকে মনে,
অহংকারের অন্ধ কোণে,
“তুই বড়”—এই মিথ্যা কথা,
নষ্ট করে অন্তরের গাথা।
কখনো ভয় দেখায় সে,
“তুই পারবি না” বলে সে,
মানুষ তখন হাল ছাড়ে—
নিজেই নিজের পতন ডাকে।
কিন্তু যার অন্তরে আলো,
তার কাছে সব কৌশল কালো,
রবের নামই তার ঢাল—
শয়তান তখন হয় নির্ভাল।
জিকির হলো সবচেয়ে শক্তি,
এটাই তার চূড়ান্ত ভক্তি,
যে স্মরণে রাখে রবকে—
সে জিতে যায় এই লড়াইকে।
শয়তান শুধু ফিসফিস করে,
মানুষ যদি না শোনে পরে,
তাহলে তার শক্তি শেষ—
সে হয় এক অসহায় বেশ।
এই লড়াই চিরন্তন সত্য,
মানুষের ভেতর দ্বন্দ্ব অচঞ্চল,
যে জয় করে নিজের মন—
সে-ই পায় মুক্তির ধন।
***
জীবন মানে শুধু সুখ নয়,
এখানে দুঃখও সত্য পরিচয়,
এই দুই মিলে গড়ে ওঠে,
মানুষ তার আসল পথে।
কখনো হাসি, কখনো কান্না,
এভাবেই চলে জীবনের বর্ণনা,
যে ধৈর্য ধরে থাকে স্থির—
সে-ই পায় আলোর নীড়।
পরীক্ষা আসে নানা রূপে,
কখনো ঘরে, কখনো বুকে,
সম্পদ হারায়, প্রিয় যায়—
তবু বিশ্বাস না ভেঙে যায়।
এই আগুনে পুড়ে পুড়ে,
মানুষ হয় পরিশুদ্ধ ধীরে,
যেমন সোনা আগুনে গলে—
তেমনি হৃদয় শুদ্ধ চলে।
রব কখনো কষ্ট দেন,
তার মাঝে রহমত রাখেন,
যে বোঝে এই গোপন কথা—
সে পায় শান্তির সত্য পথা।
পরীক্ষা ছাড়া জীবন নয়,
এটাই আল্লাহর বিধান রয়,
যে এতে ধৈর্য রাখে প্রাণে—
সে উন্নত হয় মহান জ্ঞানে।
ভাঙলেও যে থামে না চলা,
সে-ই পায় জীবনের ডালা,
কারণ তার ভরসা এক—
রবের ওপর অটুট রেখ।নই গড়ে মানুষ,
ভেঙে দেয় মিথ্যার আবাস,
যে এতে টিকে যায় স্থির—
সে হয় সত্যের বীর।
***
যে মনে করে “আমি বড়”,
তার ভেতরে পড়ে গভীর ঘোর,
ধীরে ধীরে সত্য হারায়,
অহংকারই তাকে গ্রাসায়।
ক্ষমতার নেশা চোখে ঢাকে,
মানুষ তখন নিজেই ফাঁকে,
সে ভুলে যায় তার পরিচয়—
সে তো এক ক্ষণিকের ভয়।
পৃথিবী তার মনে হয় স্থায়ী,
আসলে তা এক মায়ার রায়ী,
যে এতে গর্ব করে চলে—
শেষে পড়ে ধুলার তলে।
ইবলিসও অহংকার করেছিল,
সত্যের সামনে দাঁড়ায়নি স্থির,
তার পতন সেই অহংকারে—
চিরকাল সে ঘুরে ফিরে।
মানুষ যদি একই পথে যায়,
সে-ও শেষ হয় একই ছায়ায়,
কারণ অহংকার অন্ধ করে—
সত্যকে দূরে সরিয়ে ধরে।
নম্রতা এখানে মুক্তির চাবি,
এটাই হৃদয়ের আসল দাবী,
যে মাথা নত করতে জানে—
সে-ই উঠে সত্যের মানে।
অহংকার ভাঙে একদিন,
যখন আসে চূড়ান্ত দিন,
তখন বোঝে সবই ধোঁকা—
ছিল শুধু মিথ্যার ফাঁকা।
এই শিক্ষা খুবই কঠিন,
তবু সত্যেরই পথ সুদৃঢ়-দৃঢ় বিন,
যে আগে বোঝে এই কথা—
সে পায় মুক্তির সত্য পথা।
***
লোভ মানুষের চোখ ঢেকে দেয়,
তাকে অন্ধ পথে টেনে নেয়,
যত পায় তত চায় বেশি—
এভাবেই বাড়ে তার বিষি।
ধনের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে,
সে হারায় শান্তি হৃদয়ের পথে,
সব কিছু পেলেও তৃষ্ণা রয়—
এটাই লোভের ভয়ংকর ক্ষয়।
লোভ বলে—“আরও চাই”,
কখনো বলে “থামিস না ভাই”,
এই শব্দেই মানুষ ভাসে—
নিজেই নিজের ফাঁদে আসে।
সম্পদ কখনো সুখ দেয় না,
যদি অন্তর শান্তি না না,
লোভ সেখানে আগুন জ্বালে—
মানুষ পুড়ে ধীরে ধীরে চলে।
যে সন্তুষ্ট হতে শেখে,
সে সত্য সুখ নিজেরে দেখে,
কারণ তৃপ্তি হৃদয়ের ধন—
লোভ সেখানে শূন্য গমন।
রব বলেন—“যা দিয়েছি, তাতে খুশি হও”,
অল্পেই তুমি শান্তি পাও,
যে মানে এই গভীর কথা—
সে পায় জীবনের সত্য পথা।
লোভ শেষে ধ্বংস ডেকে আনে,
মানুষ পড়ে নিজের গর্তে প্রাণে,
সুখের খোঁজে দুঃখ বাড়ায়—
শেষে কিছুই সাথে না পায়।
এটাই লোভের চূড়ান্ত রূপ,
এক অন্ধকার নিঃশেষ ধূপ,
যে এতে ডুবে যায় প্রাণ—
সে হারায় জীবনের মান।
***
এই দুনিয়া এক মায়ার জাল,
যেখানে সত্য হয় খুবই কাল,
চোখ দেখে যা, সব নয় সত্য—
এর ভিতর লুকায় বহু মিথ্য।
রঙিন পর্দা চোখে পড়ে,
মানুষ তখন পথ ভুল করে,
আসল সত্য থাকে আড়ালে—
ভ্রান্তি ঘিরে নেয় আলোকে।
কখনো হাসি, কখনো খেলা,
তবু ভিতরে শূন্যতা মেলা,
যে গভীরে তাকায় একবার—
সে বুঝে সবই ধোঁকার স্রোতধার।
এই দুনিয়া শেষ ঠিকানা নয়,
এটা শুধু পরীক্ষার জয়,
যে ভুলে যায় এই সত্য কথা—
সে হারায় নিজের পথা।
সব কিছুই একদিন যাবে,
সম্পদ, ক্ষমতা কিছুই না থাকবে,
থাকবে শুধু কাজের ফল—
সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফল।
তাই বিভ্রমে না হারাও মন,
জাগ্রত রাখো নিজের চেতন,
রবের দিকে রাখো চোখ—
তবেই মিলবে সত্যলোক।
যে বুঝে এই জগতের রূপ,
সে পায় মুক্তির সত্য ধূপ,
তার জীবন হয় আলোকিত—
মিথ্যা থেকে হয় বিচ্ছিন্নিত।
এটাই শেষ বিভ্রমের পাঠ,
যে বোঝে সে পায় সত্যের রথ,
দুনিয়া তখন শুধু পথ—
গন্তব্য নয়, এক পরীক্ষা-রথ।
***
যখন সমাজ ভুলে যায় সত্য,
ধীরে ধীরে নষ্ট হয় মিত্র,
ভালো-মন্দের সীমা ভেঙে যায়—
অন্তর তখন দিশাহীন হয়।
ন্যায় তখন দুর্বল পড়ে থাকে,
অন্যায় শক্ত হয়ে ওঠে ফাঁকে,
মানুষ দেখে তবু চুপ করে—
ভয় তাকে গ্রাস করে ঘরে।
সত্য কথা বলা হয় ভারী,
মিথ্যা তখন হয় চাতুরী,
এভাবেই নৈতিক ভাঙন শুরু—
মানুষ হারায় তার মূল গুরু।
যে নীরব থাকে অন্যায়ের কাছে,
সে-ও একদিন তাতে মিশে থাকে,
কারণ নীরবতা সম্মতি দেয়—
অন্যায় তখন বেড়ে যায়।
অন্তর ধীরে ধীরে শিথিল হয়,
ভুলকে তখন স্বাভাবিক হয়,
এটাই ফিতনার সূক্ষ্ম ছায়া—
মানুষ হারায় সত্যের মায়া।
যে আগে কাঁপত ভুল দেখলে,
সে এখন আর কিছুই বলে না চলে,
এটাই পতনের প্রথম ধাপ—
আত্মা হারায় তার মানচিত্র।
রবের ভয় যখন কমে যায়,
মানুষ তখন নিচে নেমে যায়,
কারণ নিয়ন্ত্রণ নেই আর—
অন্তর তখন অন্ধকার।
এটাই নৈতিক ভাঙনের পথ,
ধীরে ধীরে ধ্বংসের রথ,
যে বুঝে থামে সময়মতো—
সে বাঁচে সত্যের আলোয় যত।
ফিতনা আসে নরমভাবে,
চেনা যায় না প্রথম ধাপে,
মিষ্টি কথা, মিথ্যা হাসি—
ভিতরে থাকে বিষের বাসি।
মানুষকে সে বিভ্রান্ত করে,
সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে ধরে,
বুঝতে দেয় না কোন দিশা—
ঘিরে ফেলে অন্ধ বিশ্বাসা।
ধীরে ধীরে বিশ্বাস ভাঙে,
মানুষ তখন সন্দেহে জাগে,
কে সত্য আর কে মিথ্যা—
সবই হয় এক অদৃশ্য ছায়া।
সম্পর্কও তখন ভেঙে যায়,
বন্ধুত্ব দূরে সরে যায়,
কারণ ফিতনা দেয় আগুন—
সবকিছু হয় ধ্বংসপ্রবণ।
যে স্থির থাকে ঈমান নিয়ে,
সে-ই শুধু টিকে যায় বেঁচে,
কারণ তার চোখে আছে আলো—
যা মিথ্যা ভেদ করে ভালো।
ফিতনা অন্ধকারের ফাঁদ,
যেখানে হারায় সব সাধ,
যে এতে পড়ে যায় একবার—
তার পথ হয় কঠিন ভার।
তবু যারা সচেতন থাকে,
রবকে স্মরণে রাখে,
তাদের জন্য থাকে রক্ষা—
ফিতনা পারে না ছোঁয়া।
এটাই ফিতনার অন্ধ জাল,
যে বোঝে সে পায় কাল,
আর যে ভুলে যায় পথ—
সে হারায় নিজের রথ।
***
এখানে পরীক্ষা হয় গভীর,
হৃদয় ভাঙে ধীরে ধীরে ধীর,
বিশ্বাস টিকে কি না দেখা—
এটাই মূল জীবনের রেখা।
কখনো কষ্ট, কখনো ক্ষতি,
কখনো প্রিয় হারায় গতি,
তবু দাঁড়িয়ে থাকতে হয়—
এটাই ঈমানের জয়।
আত্মা তখন কাঁপে ভিতরে,
প্রশ্ন ওঠে নিঃশব্দ ঘরে,
“কেন আমার সাথে এমন?”—
এই লড়াই চলে অনন্তক্ষণ।
যে ধৈর্য ধরে থাকে স্থির,
সে-ই পায় আলোর নীড়,
কারণ এই পরীক্ষা শেষে—
রহমত নামে হৃদয়ের দেশে।
ভেঙে পড়া নয় সমাধান,
বরং আবার ওঠা মহান,
এটাই আত্মার সত্য শিক্ষা—
রবের দেওয়া এই দীক্ষা।
কষ্ট কখনো শাস্তি নয়,
বরং গভীর ভালো পরিচয়,
যে বোঝে এই গোপন কথা—
সে পায় মুক্তির সত্য পথা।
অন্ধকার যতই গভীর হোক,
আলোর পথ কখনো থেমে না লোক,
যে ধরে রাখে বিশ্বাস দৃঢ়—
সে পায় শেষ বিজয়ের সুর।
এই পরীক্ষা শেষ হয় না,
যতক্ষণ না সত্য বোঝা যায় না,
মানুষ তখনই পরিপূর্ণ হয়—
যখন সে রবের পথে রয়।
***
এখন আসে চূড়ান্ত সময়,
কে থাকবে সত্যের প্রিয় রয়,
কে হারাবে মিথ্যার মাঝে—
এই সিদ্ধান্ত হৃদয় সাজে।
দুই পথ এখন স্পষ্ট হয়,
একটি আলো, একটি ক্ষয়,
মানুষকে নিতে হয় সিদ্ধান্ত—
এটাই তার চূড়ান্ত গন্তব্য।
ফিতনা শেষ পরীক্ষা আনে,
অন্তর তখন কাঁপে প্রাণে,
সত্যের পাশে কে দাঁড়ায়—
এটাই চূড়ান্ত বিচারে যায়।
যে ভয় পায়, সে পড়ে যায়,
যে স্থির থাকে, সে উঠে যায়,
কারণ সাহস এখানে চাবি—
এটাই ঈমানের আসল দাবি।
রবের দিকে ফিরতে হয়,
অন্তর তখন শান্ত হয়,
এই সিদ্ধান্তই মুক্তির দরজা—
এটাই সত্যের আসল মর্যাদা।
মানুষ তখন বোঝে স্পষ্ট,
এই জীবন এক পরীক্ষার কষ্ট,
যে বোঝে, সে পায় পথ—
আলোয় ভরে যায় তার রথ।
এটাই শেষ ফিতনার পাঠ,
যেখানে শুরু সত্যের রথ,
অন্ধকার পেছনে পড়ে যায়—
আলো সামনে দাঁড়িয়ে রয়।
এখান থেকেই শুরু হয় গতি,
সত্যের পথে চূড়ান্ত যাত্রা,
পরবর্তী ধাপ—কিয়ামতের ভয়,
চূড়ান্ত পরিণতির সময়।
***
৫
৫ মন্তব্য