Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ

আকাইদ ও ফিকহ পরীক্ষা প্রস্তুতি , দাখিল নবম-দশম

প্রশ্ন: আকীদা এর শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয় দাও। আকীদার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর 

المقدمه:

আকীদা মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যার আকীদা বিশুদ্ধ আল্লাহ পাক তার আমল কবুল করেন। আর যে ঈমান-আকিদা অস্বীকার করে, তার আমল বরবাদ হয়ে যায়। যেমন- আল্লাহর বাণী -

ومن يكفر بالإيمان فقد حبط عمله وهو فى الآخرة من الخاسرين 

"আর যে ঈমানের বিষয়কে অস্বীকার করে , তার আমল বরবাদ হয়ে যায়। আর সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

معرفة العقيدة:

আকীদার শাব্দিক অর্থ: আকীদা শব্দটি একবচন, বহুবচনে আকাইদ। এর অর্থ:-

১. ما عقد عليه القلب - অন্তরে যে বিষয়ের গিট বা স্থিরতা রয়েছে।

২. التصديق - সত্যায়ন করা 

৩. الايمان - আন্তরিক বিশ্বাস 

৪. الاعتقاد الدينية - ধর্মীয় বিশ্বাস 

৫. التأسيس - ভিত্তি স্থাপন করা

৬. الاعتماد - নির্ভর করা 

৭. Genuine Belief 

৮. Confirm Confidence 

৯. Real Faith 

১০. Absolute Trust 


আকীদার পারিভাষিক সংজ্ঞা:

১. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতে- 

العيقدَةَ هى الخصال التى اخذ الناس ويقيم عليه 

আকীদা হচ্ছে মানুষের এমন কিছু অভ্যাস, যা সে গ্রহণ করে এবং সেগুলোর উপর স্থির বা দৃঢ় থাকে 

২. মুজামুল ওয়াসিত গ্রন্থ প্রণেতার মতে - 

العيقدَةَ هو الحكم الذي لا يقبل الشك فيه لدى معتقده 

আকীদা হচ্ছে এমন কিছু বিধি-বিধান, যা বিশ্বাসীর নিকট সন্দেহ ছাড়াই গ্রহণযোগ্য 

৩. ما يصدقه العبد ويدين به 

যা বান্দা সত্য বলে মেনে নেয় এবং ধর্মীয় বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে, তাই আকীদা 


 আকীদার প্রয়োজনীয়তা :

১.হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম এর উম্মতগণ তাঁর চলে যাওয়ার পর আল্লাহর আযাব- লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে যে, যদি তাদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তারা ইউনুস আ. এর উপর ঈমান আনবে। তখন আল্লাহ তাদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে নিলেন এবং তারা ঈমান আনল।

دليل- قال تعالى

فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَىٰ حِينٍ-(سورة يونس-٩٨)

অর্থ: তবে ইউনুস আ. এর সম্প্রদায় ছাড়া কোনো জনপদ কেন এমন হল না যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত ! তারা যখন ঈমান আনল তখন আমি তাদের থেকে পার্থিব জীবনের হীনতাজনক শাস্তি দূর করলাম এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।

২. দুনিয়ার বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি: আকীদা বিশুদ্ধ থাকায় এবং নূহ আ. এর উপর ঈমান আনয়নের কারণে মহাপ্লাবনের সময় এক বৃদ্ধা মহিলাকে মহান আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। মহাপ্লাবন শেষে নূহ আ. ঐ বৃদ্ধা মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আমার ঘরেই ছিলাম । প্লাবনের কোনো আলামত অনুভব করতে পারি নি! নূহ আ. বললেন - আল্লাহর শুকরিয়া যে, তিনি নবীর ওয়াদা রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছেন। (রুহুল বয়ান- ২য় খন্ড)

دليل- قال تعالى

حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ ۚ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ -(سورة هود: ٤٠)

অর্থ: অবশেষে যখন আমার আদেশ আসলো এবং উনুন উথলে উঠল, আমি বললাম - এতে (নৌকায় ) উঠিয়ে নেও প্রত্যেক শ্রেণী জোড়ায় জোড়ায় , তোমার পরিবার এবং ঈমানদারদের ; তবে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে(যারা মহাপ্লাবনে ডুবে মারা যাবে) তারা ব্যতীত। অল্প সংখ্যক ঈমানদারই তার সাথে ছিল।‌


৩. ঈমানের বদৌলতে জান্নাত: ফেরাউনের ৯০ বা ৭০ হাজার যাদুকরের সাপগুলোকে যখন মুসা আ. এর হাতের লাঠিটি সাপে পরিনত হয়ে গিলতে লাগলো, তখন যাদুকরেরা সমস্বরে বলে উঠলো - আমরা হারুন ও মুসার রবের উপর ঈমান আনলাম । ফেরাউন রাগান্বিত হয়ে তাদেরকে যখন ফাঁসির মঞ্চে ঝুলাচ্ছিল তখন আল্লাহর সাজানো জান্নাত তারা অবলোকন করলো।

دليل- قال تعالى:

فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ هَارُونَ وَمُوسَىٰ

 (سورة طه -اية-٧٠)

وَمَن يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَٰئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَىٰ-جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى-(طه- ٧٥-٧٦)

অর্থ: ফলে সকল যাদুকর সিজদায় পড়ে গেলো এবং বলে উঠলো- আমরা হারুন ও মুসার রবের উপর ঈমান আনলাম। (সূরা -ত্বহা,আয়াত ৭০)

আর যে ব্যক্তি তাঁর (আল্লাহর) নিকট মুমিন হিসেবে আসবে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে থাকবে, তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যদা (উচ্চ জান্নাত)। চিরস্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটা হলো ঐ ব্যক্তির পুরস্কার, যে নিজেকে পবিত্র করেছে (কুফরি ও পাপ থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে)।

(সূরা -ত্বহা,আয়াত ৭৫-৭৬)


৪. হিদায়াত বৃদ্ধি পায়: আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসী যুবকরা তৎকালীন ২০০ খ্রি. রোমের এপিসাস বা অফসুস শহরের অত্যাচারী রাজা দাকইয়ানুসের ভয়ে ঈমান রক্ষার জন্য গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদের ঈমান ও হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন । জর্ডানের রাজধানী আম্মান হতে প্রায় ১৫ কি. মি. দূরে রাকীম পাহাড়ের গুহায় ৩০৯ বছর আল্লাহর কুদরতে ঘুমিয়ে আবার জাগ্রত হয়েছিলো ৭ জন যুকক ও একটি কুকুর । তারা মহান আল্লাহর আশ্চর্যজনক নির্দেশনাবলীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহই জানেন।

دليل- قال تعالى 

نَّحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ ۚ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى(١٣) وَرَبَطْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَٰهًا ۖ لَّقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا (١٤)

অর্থ: আমি আপনার কাছে তাদের কাহিনী সত্যসহ বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের উপর ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়েত আরও বাড়িয়ে দিলাম। আর আমি তাদের অন্তরকে শক্তিশালী করে দিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে (দাকইয়ানুসের সামনে) বলল , “আমাদের রবই আকাশ ও পৃথিবীর রব। আমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকব না। আর অবশ্যই আমরা সকল যুবকই একসাথে একথা ঘোষণা করলাম। (সূরা কাহফ- আয়াত ১৩-১৪)


 ৫. ঈমানের বিনিময়ে অগ্নিদগ্ধ থেকে মুক্তি : ৫২০খ্রি. ইয়ামেনের ইহুদী বাদশাহ যুনাওয়াস সৌদি আরবের নাজরানের ঈমানদার খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। শেষে একটি মহিলার পালা এল, যার সঙ্গে তার বাচ্চাও ছিল। সে একটু পশ্চাৎপদ হল। কিন্তু বাচ্চাটি বলে উঠল, ‘আম্মাজান! ধৈর্য ধরুন! আপনি সত্যের উপরে আছেন।’ ফলে সে তার বাচ্চাসহ আগুনে ঝাঁপ দিয়ে শহীদ হয়ে গেল। রবি ইবনে আনাস (রহ.) বলেন, ‘মুমিনদের আগুনে ফেলে দেওয়ার পর আগুন তাঁদের গায়ে লাগার আগেই আল্লাহ তাআলা তাদের জান কবজ করে নিয়েছিলেন। এভাবেই তিনি মুমিনদের দহন-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন। ফলে তাদের মৃতদেহই কেবল আগুনে পুড়েছিল। আল্লাহর বাণী -

 وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَنْ يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ


"তারা তাদের (মুমিনদের) কেবল এই কারণেই শাস্তি দিয়েছিল যে, তারা মহাপরাক্রমশালী ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল।" (সূরা আল-বুরূজ, আয়াত: ৮)


শেষ কথা: বদ আকীদার কারণে কারুন, ফেরাউন, হামান, নমরুদ, বখতে নসর , আবু জাহেল , দাকইয়ানুস, যুনাওয়াসের মতো অসংখ্য কমবখত দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ করেছে।


বি.দ্র. দুর্বল শিক্ষার্থীরা দলীল আরবীতে না পারলে দলীলের অর্থ লিখবে। সবল শিক্ষার্থীরা দলীল আরবীতে লিখলে, দলীলের অর্থ না লিখলেও চলবে। তবে উত্তর লিখার সময় থাকলে, লিখলে অসুবিধা নেই।


 



মন্তব্য করুন

ব্লগ