প্রভাষক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের শিক্ষক হেনস্থায় প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে অপমান ও জোরপূর্বক ক্ষমা চাওয়ানোর ঘটনায় এবার প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত বিচারপতির নাম আলী রেজা। আর ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম দয়াল চন্দ্র পাল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ঘটনার জানাজানি হলে শিক্ষা বিষয়ক দেশের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম ও প্রিন্ট জাতীয় দৈনিক আমাদের বার্তায় এ বিষয়ে সর্বপ্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। পরে বিষয়টি সর্বমহলের নজরে আসে। ঘটনাটি এখন শিক্ষা মহলের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয় দৈনিক শিক্ষাডটকম ও দৈনিক আমাদের বার্তা প্রতিবেদন প্রকাশ না করলে আড়ালেই রয়ে যেতো বলে ধারণা একাধিক বিজ্ঞজনের।
এদিকে আজ রোববার দেয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা মাধ্যম দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পালকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে হেনস্তা করে একজন শিক্ষকের পেশাগত মর্যাদা ও মানবিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছেন বিচারপতি আলী রেজা। শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ থাকলেও বিচারকের দায়িত্ব ন্যায়সঙ্গত ও আইনি আচরণ করা, আদালতের বাইরে ব্যক্তিগত অবমাননা করা নয়। এটি বিচার বিভাগের সুনাম ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থি।
জানা গেছে, বিচারপতি আলী রেজার ছেলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পালের কাছে সে প্রাইভেট পড়ত। বিচারপতি আলী রেজার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এ বিষয়ে খুব দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করবেন।
শুক্রবার এমন ঘটনা জানাজানির পর শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ বর্ণনায় উঠে আসে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ। অভিযোগ ছিলো ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল ক্লাস টেনের একটি ক্লাস নেয়ার সময় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী একটি বিষয় বারবার বুঝতে না পেরে শিক্ষককে বিরক্ত করছিলেন। একপর্যায়ে আচরণগত উত্তেজনা তৈরি হলে শিক্ষক তাকে শাসন করেন। পরে শিক্ষার্থী বাসায় গিয়ে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তারপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিচারপতি পিতা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রিন্সিপাল সত্যতা যাচাই না করেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন এবং দয়াল পালকে বিচারপতির বাসায় পাঠান। সেখানে তাকে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি তাকে সেই ছেলের কাছেই জোর করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়!
বিচারপতির বাসায় অপমানিত ওই শিক্ষক বিকেলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘গত ১৫ এপ্রিলে স্কুলে ওই ঘটনার পরে আমাকে বিচারপতির বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু বিচারপতি নন, তার স্ত্রী সন্তানও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আমাকে ফৌজদারি মামলার ভয় দেখান। তারা বলেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ এনে ফৌজদারী মামলা করা হবে। এরপর আমি সহকর্মীদের ঘটনাটি জানাই।’
জানা যায়, উইলসের অধ্যক্ষ শামসুল আলম ও বাংলা মাধ্যম শাখার প্রধান নাসির উদ্দিনের নির্দেশে বিচারপতির বাসায় যেতে বাধ্য হন শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল৷ বিচারপতির বাসায় যাওয়ার সময় নাসির উদ্দিন সঙ্গে ছিলেন।
০
০ মন্তব্য