সহকারী শিক্ষক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
যে গ্রহ হীরা দিয়ে তৈরি
হীরা দিয়ে তৈরি বলে পরিচিত গ্রহ ৫৫ ক্যানক্রি ই (55 Cancri e) সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
১. অবস্থান ও আবিষ্কার
দূরত্ব: এটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪১ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
নক্ষত্রপুঞ্জ: এটি ক্যান্সার (কর্কট) নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।
আবিষ্কার: ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট এটি আবিষ্কৃত হয়। এটিই ছিল কোনো প্রধান ধারার নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত প্রথম সুপার-আর্থ।
২. কেন এটি হীরার গ্রহ?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই গ্রহটি মূলত কার্বন-সমৃদ্ধ উপাদান দিয়ে গঠিত।
উপাদান: গ্রহটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হীরা এবং গ্রাফাইট দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। বাকি অংশে লোহা, সিলিকন কার্বাইড এবং সিলিকেট থাকতে পারে।
প্রক্রিয়া: গ্রহটি তার নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে প্রচণ্ড তাপ ও চাপ বিরাজ করে। এই চরম চাপের কারণেই গ্রহের অভ্যন্তরীণ কার্বন স্ফটিক আকারে জমাট বেঁধে হীরায় রূপান্তরিত হয়েছে।
৩. ভৌত বৈশিষ্ট্য
আকার ও ভর: গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় ব্যাসে প্রায় দ্বিগুণ এবং ভরে প্রায় ৮.৬ গুণ বড়।
** কক্ষপথ:** এটি তার নক্ষত্রকে (যার নাম ৫৫ ক্যানক্রি এ বা কোপার্নিকাস) অত্যন্ত দ্রুত প্রদক্ষিণ করে। এর এক বছর হতে মাত্র ১৮ ঘণ্টা (পৃথিবীর সময়ের হিসেবে) সময় লাগে।
তাপমাত্রা: এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অত্যধিক—দিনের বেলায় তাপমাত্রা প্রায় ২,৪০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে, যা লোহা গলিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট।
৪. বৈচিত্র্যময় পরিবেশ
টাইডাল লকিং: গ্রহটি তার নক্ষত্রের সাথে এমনভাবে আটকে আছে যে এর এক পাশ সবসময় নক্ষত্রের দিকে থাকে (অনন্ত দিন) এবং অন্য পাশ সবসময় অন্ধকারের দিকে থাকে (অনন্ত রাত)।
লাভা সাগর: অতিরিক্ত তাপের কারণে গ্রহটির দিনের দিকের পৃষ্ঠটি সম্ভবত গলিত লাভার সাগরে ঢাকা।
বায়ুমণ্ডল: জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রহটিতে কার্বন মনোক্সাইড বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস সমৃদ্ধ একটি ঘন বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে।
৫
৫ মন্তব্য