Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষায় ব্যবস্থায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারের রোডম্যাপ

বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের লক্ষে সরকার একটি নতুন শিক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নে এই রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এই সংস্কার পরিকল্পনাটি মূলত তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে: 
প্রথম ধাপ (বর্তমান থেকে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর পর্যন্ত): এই সময়ে মূলত বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যালোচনা এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের (যেমন—ট্যাব প্রদান ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম) পাইলট ডিজাইন করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপ (২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের পর): এই পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ 'জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ' ঘোষণা করা হবে। এতে বিভাগভিত্তিক এবং পরিমাপযোগ্য সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তৃতীয় ধাপ (১২ থেকে ৩৬ মাস মেয়াদী): এই দীর্ঘমেয়াদী ধাপে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় (ব্রিজিং) সাধনের পরিকল্পনা রয়েছে। 
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সংস্কারের মূল দিকগুলো:
১. লটারি পদ্ধতির পরিবর্তন: বিগত সরকারের চালু করা ভর্তির 'লটারি পদ্ধতি' নিয়ে বর্তমান সরকার প্রশ্ন তুলেছে এবং মেধা যাচাইয়ের জন্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি যুগোপযোগী পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে।
২. প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন: মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে যাতে ফলাফল প্রকাশ ও মেধা যাচাই আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়।
৩. জাতীয় শিক্ষা কমিশন: একটি শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যারা উচ্চশিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার সমন্বিত কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
৪. সিলেবাস ও পরীক্ষা সংস্কার: এসএসসিতে পরীক্ষার বিষয় কমানো এবং পাঠ্যক্রমকে আরও কর্মমুখী করার প্রস্তাবনাও এই সংস্কারের অংশ। 
বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামীর এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হবে একটি 'মেধানির্ভর সৃজনশীল মানবসম্পদ' গড়ে তোলা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ