Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:৫১ অপরাহ্ণ

এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ

নিচে আপনার নতুন সংযোজনসহ একটি আরও শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হলো—


এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংকট, দালালি ও শিক্ষাব্যবস্থার অবক্ষয়: জরুরি সংস্কারের দাবি

তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি দেশের একটি অঞ্চলে এসএসসি পরীক্ষার আগের রাতেও বহু শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাস্তায় নেমে অবরোধ ও বিক্ষোভে অংশ নেয়। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।

একজন শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে হয়, এ ধরনের ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়—এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনিয়ম, অবহেলা এবং অসাধু চক্রের নগ্ন প্রকাশ। প্রবেশপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সময়মতো প্রদান না করা শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার।

এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে কিছু অসাধু শিক্ষক ও দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করা, উচ্চতর স্কেল, সংশোধন বা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে “তেল” বা অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালায়। এই চক্রের সাথে যুক্ত কিছু শিক্ষক নিজেদের মূল দায়িত্ব—শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন—উপেক্ষা করে এসব দালালি কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকে।

দেখা যায়, সামান্য একটি সমস্যাকে বড় করে দেখিয়ে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, আর না দিলে অর্ধেক কাজও এগোয় না। এর ফলে সৃষ্টি হয় দলাদলি, দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হয়ে ওঠে অস্থির। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আমরা বিশ্বাস করি—সব শিক্ষক এমন নন। অধিকাংশ শিক্ষকই নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো শিক্ষক সমাজ আজ বিব্রত ও সমালোচিত। তাই এখনই সময় এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করার।

যারা শিক্ষকতা পেশার আড়ালে দালালি ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণে অভ্যস্ত, তাদের প্রতি আহ্বান—আপনারা এই পথ পরিত্যাগ করুন। শিক্ষকতা একটি মহান দায়িত্ব; এটি ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হতে পারে না। যদি এই পেশার মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব না হয়, তবে স্বেচ্ছায় এই পেশা থেকে সরে দাঁড়ানোই উত্তম।

পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে—

  • এ ধরনের অনিয়ম ও দালালি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে

  • প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করতে হবে

  • এবং যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে

এটাই হতে পারে শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ।


প্রতিবেদনটি প্রস্তুতকারক:
মোহাম্মদ আশরাফুল কবির


আপনি চাইলে এটাকে আরও সংক্ষিপ্ত করে ফেসবুক পোস্ট বা বক্তব্য (speech) আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ