সহকারী শিক্ষক
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা২০২৬ সামনে রেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, ভিজিটর, পরীক্ষক, হল সুপার এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি একজন অভিভাবক হিসেবে আমার শ্রদ্ধাভরা অনুরোধ;
পরীক্ষার হলে আমাদের সন্তানদের কাছে আপনারা যেন ভয়ের প্রতীক হয়ে না ওঠেন; বরং স্নেহময় অভিভাবকের মতো তাঁদের স্বাগত জানান।
যেন হলের দরজায় পা রাখতেই তারা একটু স্বস্তি পায়।
হলের দরজায় একটুখানি হাসি, একটি আশ্বাসের বাক্য—তাদের ভেতরের অজানা আতঙ্ককে অনেকটাই দূর করে দিতে পারে।
প্রথমদিনের সামান্য অস্থিরতা বা আসন খোঁজার ব্যস্ততায় ধৈর্য ধরুন, সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিন।
নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করুন, নকল প্রতিরোধে দৃঢ় থাকুন—তবে আচরণে যেন কোনো তিক্ততা না আসে। কারণ একটি কটু শব্দও একটি কোমল মনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থির করে দিতে পারে।
পরীক্ষা শুরু হোক সংক্ষিপ্ত, ভরসার কিছু কথায়—যাতে তারা বুঝতে পারে, এটি ভয় নয়, বরং নিজের প্রস্তুতি তুলে ধরার একটি সুযোগ।
পরীক্ষার সময় অপ্রয়োজনীয় আলাপ কিংবা খুব কাছে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন, যেন তাদের মনোযোগ অটুট থাকে।
ছোট ছোট মানবিক সহায়তাও বড় হয়ে ওঠে—কারো কলম ফুরিয়ে গেলে একটি কলম এগিয়ে দেওয়া, বেঞ্চ ঠিক করে দেওয়া, অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়ানো, কিংবা এক গ্লাস পানি পৌঁছে দেওয়া। কেউ যদি ভুলে এডমিট কার্ড না আনতে পারে, তবে সহানুভূতির সাথে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ রইল।
সবচেয়ে বড় কথা—কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যক্তিগত বিরূপ মনোভাব যেন আচরণে না আসে। ভাষা হোক মার্জিত, আচরণ হোক সহনশীল।
পরীক্ষার হলে তারা শুধু পরীক্ষার্থী নয়—তারা আমাদেরই সন্তান, আমাদের স্বপ্নের বাহক। আপনাদের স্নেহ, ধৈর্য আর মানবিকতাই তাদের আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।
কেউ দেরিতে এলে সর্বোচ্চ সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, তারা কোনো দাগী আসামি নয়—তারা পরীক্ষার্থী।
০
০ মন্তব্য