প্রভাষক
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
এসএসসি পরীক্ষার ভিজিলেন্স টিমের সদস্য
এসএসসি (SSC) পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন যে ভিজিলেন্স টিম গঠন করে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. টিমের গঠন ও সদস্যবৃন্দ
প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড তাদের নিজস্ব আওতাধীন এলাকাগুলোর জন্য একাধিক ভিজিলেন্স টিম গঠন করে। যেমন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য যশোর বোর্ড ১৩টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে।
সদস্য: সাধারণত সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অভিজ্ঞ অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষকদের নিয়ে এই টিম গঠিত হয়।
সমন্বয়কারী: প্রতিটি টিমে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বা কর্মকর্তা 'সমন্বয়কারী' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা: বোর্ডের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন (ডিসি অফিস) এবং উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও অফিস) থেকেও পৃথক মনিটরিং টিম কাজ করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।
২. প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি
আকস্মিক পরিদর্শন: পরীক্ষার দিনগুলোতে এই সদস্যরা আকস্মিকভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে উপস্থিত হন।
নকল প্রতিরোধ: পরীক্ষা কক্ষে কোনো পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করছে কি না বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা।
অব্যবস্থাপনা চিহ্নিতকরণ: প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনো অব্যবস্থা পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হয় এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করতে হয়।
প্রতিবেদন জমা: পরিদর্শন শেষে টিমের সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্র সম্পর্কে একটি সুষ্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেন।
৩. কঠোর বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা
মোবাইল ফোন: ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা স্মার্টফোনের পরিবর্তে সাধারণ বা অ্যানালগ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন এবং পরীক্ষা চলাকালীন অযথা কথা বলা বা ঘোরাফেরা করা নিষিদ্ধ।
ভিডিও ধারণ: অনেক ক্ষেত্রে পরিদর্শনের প্রমাণ হিসেবে এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভার ৫ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশনা থাকে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: কোনো পরীক্ষার্থীকে নকল করতে দেখলে তারা সরাসরি বহিষ্কার না করে কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
০
০ মন্তব্য