Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২২ অপরাহ্ণ

বিদায়বেলার ডাক: স্মৃতির মিছিলে আগামীর সংকল্প

বিদ্যালয় জীবনের শেষ দিনটি আসলে এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ। এটি এমন এক মুহূর্ত যেখানে ফেলে আসা হাজারো স্মৃতি আর অনাগত ভবিষ্যতের হাতছানি এসে এক বিন্দুতে মেশে। বিদায় মানেই কিন্তু বিচ্ছেদ নয়, বরং এটি হলো শিকড় থেকে শিখরের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি মহৎ যাত্রার শুরু। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যে প্রাঙ্গণে চঞ্চল পা ফেলে বেড়ে ওঠা, যেখানে প্রতিটি দেয়ালে আর শ্রেণিকক্ষে অসংখ্য হাসি-কান্নার গল্প জমা হয়ে আছে, সেই চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এক অজানা জগতে পা রাখা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি কিছুটা বিষণ্ণতারও।

এই বিদায় অনুষ্ঠান আমাদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়, আর তা হলো কৃতজ্ঞতাবোধ। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকেরা যে ধৈর্য আর মমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন, এই দিনটি তাদের সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর শ্রেষ্ঠ সময়। বিদায়বেলার এই আনুষ্ঠানিকতা আমাদের শেখায় কীভাবে অতীতকে শ্রদ্ধাভরে হৃদয়ে ধারণ করে ভবিষ্যতের পথে সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে হয়। ক্লাসরুমের সেই একঘেয়ে পড়ালেখার চেয়েও বড় জীবনমুখী পাঠ হলো এটি—চেনা আরামের জায়গা (Comfort Zone) ছেড়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করা।

বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন মহাবিদ্যালয় কিংবা উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর অঙ্গনে প্রবেশ করে, তখন তাদের সাথে থাকে বিদ্যালয়ের অর্জিত নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ। বিদায় অনুষ্ঠানের প্রতিটি কথা আর প্রতিটি আলিঙ্গন শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে, তারা কেবল একজন শিক্ষার্থী নয়, বরং তারা একেকজন মানুষ হিসেবে সমাজ সংস্কারের কারিগর। জীবনের নতুন ধাপে পা রেখে হয়তো বদলে যাবে সহপাঠীদের সাথে প্রতিদিনের আড্ডা কিংবা খেলার মাঠের সেই মুখর পরিবেশ, কিন্তু হৃদয়ে গেঁথে থাকা এই প্রদীপ্ত চেতনাটুকু আজীবন পথ দেখাবে। তাই এই বিদায় হোক অর্জিত জ্ঞানকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার এক নতুন সংকল্প, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা আর আচরণ দিয়ে উজ্জ্বল করবে নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।

মন্তব্য করুন

ব্লগ