Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:২৯ অপরাহ্ণ

পহেলা বৈশাখ :ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক

প্রতিটি জাতি একটি নিজস্ব ধারায় উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে বছরের প্রথম দিনটিকে উদযাপন করে।ইংরেজি ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, আরবদের হিজরি ক্যালেন্ডার,আর আমাদের বাঙ্গালিদের বঙ্গাব্দ,বৈশাখ মাসের প্রথম দিন।

আজ পহেলা বৈশাখ। 

                          "এসো হে বৈশাখ নব উদ্যমে

                      পশ্চাৎ সম্বৎসরের যাতনা-গ্লানি ফেলে 

                                   নব রুপে সাজো"

পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম প্রধান অসাম্প্রদায়িক ও প্রাণের উৎসব। বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, আত্মপরিচয়ের প্রতীক।এই দিনটিকে আমরা নববর্ষ হিসেবে পালন করি।এটি বাংলা সনের প্রথম দিন যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পালন করে। নববর্ষের আগমনে দেশের সর্বত্রই বয়ে যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন বছরকে বরণ করার জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়।এদিন গ্রাম ও শহরে মেলা বসে।অনেক জায়গায় আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি,বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির  উপজাতীয়রা ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় -সামাজিক উৎসব "বৈসাবি" পালন করে। 

অনেকেই ধারণা করেন যে, নববর্ষ একটি ধর্মীয় আচার। তাই ধর্মীয় অপসংস্কৃতির দোহাই দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন থেকে বিরত থাকার জন্য চেষ্টা করা হয়।কিন্তু নববর্ষের উৎপত্তি জানলে এ ধারণা এড়ানো যায়। আমরা ইতিহাসের পাতা থেকে একটু ফিরে দেখি কিভাবে এলো পহেলা বৈশাখ-

              মুঘল শাসনামলে বাঙালি জনগনের কাছ থেকে ভূমি কর আদায় করা হতো ইসলামি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী। এই পঞ্জিকাটি ছিল একটি চন্দ্র পঞ্জিকা, ফলে বঙ্গসমাজে নববর্ষ সৌরকৃষি চক্রের সঙ্গে মিলত না।তাই সম্রাট আকবর জ্যোতির্বিদ ফতুল্লা শিরাজীকে নির্দেশ দেন একটি নতুন পঞ্জিকা প্রণয়নের জন্য ;যাতে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে কর বর্ষের সামঞ্জস্য রাখা যায়। এরফলেই প্রচলিত চন্দ্র ভিত্তিক হিজরি পঞ্জিকা এবং সৌর ভিত্তিক হিন্দু পঞ্জিকাকে সমন্বয় করা হয়।এই পঞ্জিকাটিই"ফসলি সন"( ফসলের পঞ্জিকা)  নামে পরিচিতি লাভ করে এবং বাংলা পঞ্জিকার সূচনা হয়।ফলে রাজস্ব কর,খাজনা আদায় করা সহজ হয়। কথিত আছে যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শুরু হয়েছিল পুরাণ ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের হাতে।নববর্ষে বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে হালখাতা অন্যতম।পুরাতন হিসাবের খাতায় হিসাব কষে নতুন হিসাবের খাতা খোলে ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করাই এর অনুষঙ্গ। মঙ্গল  শোভাযাত্রা, নাগরদোলা, কীর্তন-বাউল-লোকজ গান, মেলা, পান্তা-ইলিশ, নতুন পোশাক  শিল্পীর আলপনায় আঁকা ছবি দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়।

 আবার কিছু কুসংস্কারও এরমধ্যে বিদ্যমান আছে, তা হলো অনেকে মনে করে এ-দিনটি ভালো না গেলে সারা বছর খারাপ যাবে এটি সঠিক নয়।এধরনের কথা পরিত্যাগ করে বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে উৎসাহ -উদ্দীপনা নিয়ে উৎসবটি পালন করবো। 


মোহাম্মদ জিয়াদ হোসেন 
প্রভাষক,বাংলা
সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ 
হিজলা, বরিশাল 
ইমেইল :[email protected]
মন্তব্য করুন

ব্লগ