প্রধান শিক্ষক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ণ
বাংলা চৈত্র সংক্রান্তির ইতিহাস।
বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের শেষ দিনটি হলো চৈত্র সংক্রান্তি। আজ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (৩০ চৈত্র ১৪৩২), বাঙালির এই বিশেষ লোকজ উৎসবের দিন। এটি কেবল একটি তিথি নয়, বরং পুরনো বছরের জরাজীর্ণতা মুছে নতুনকে আবাহন করার এক সন্ধিক্ষণ।
চৈত্র সংক্রান্তি: জরাজীর্ণতা মুছে নতুনের আবাহন
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা বছরের সমাপনী দিন হিসেবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতুরাজ বসন্তের বিদায় এবং কালবৈশাখীর পদধ্বনির এই সময়ে গ্রাম-বাংলা থেকে শহর—সবখানেই এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব
শাস্ত্রীয় মতে, এই দিনে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস করা অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ বলে বিবেচিত হয়। একসময় গ্রামীণ বাংলায় চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবই ছিল বছরের প্রধান আকর্ষণ। এটি মূলত একটি অসাম্প্রদায়িক লোক-উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলে মেলায় ও উৎসবে শামিল হয়।
প্রধান আয়োজনসমূহ
চৈত্র সংক্রান্তির কিছু চিরচেনা অনুষঙ্গ হলো:
চড়ক ও গাজন পূজা: চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণ হলো শিবের গাজন বা চড়ক পূজা। সন্ন্যাসীরা সারা মাস কৃচ্ছ্রসাধন শেষে এই দিনে রোমহর্ষক সব শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন।
চৈত্র সংক্রান্তি মেলা: দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে, যেখানে মাটির খেলনা, বাঁশ ও বেতের শিল্পকর্ম এবং নানা ধরণের লোকজ মিষ্টান্ন পাওয়া যায়।
হালখাতা ও ব্যবসায়িক আচার: ব্যবসায়ীরা বছরের শেষ দিন হিসেবে তাদের হিসাবের খাতা বন্ধ করেন এবং নতুনের প্রস্তুতি নেন।
খাদ্য সংস্কৃতি: অনেক অঞ্চলে এই দিনে 'তিতা' খাবার (যেমন উচ্ছে বা নিমপাতা) বা 'পাঁচন' খাওয়ার চল আছে। পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠীরা এই দিনে নানা পদের সবজি দিয়ে বিশেষ খাবার রান্না করে যা বিজু উৎসবের অংশ।
চৈত্র সংক্রান্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন প্রবহমান। সব দুঃখ ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে কাল সকালে সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হবে নতুন বছর—পহেলা বৈশাখ।
৫
৫ মন্তব্য