সিনিয়র শিক্ষক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
যে কারণে রাজধানী থেকে হকার উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও মনোভাবের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন :
যে কারণে রাজধানী থেকে হকার উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও মনোভাবের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন :
=====================
একটি দেশের পরিবেশ ভালো না খারাপ, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে আছে বায়ুমান, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন, ক্ষতিকর ভারী ধাতু, জীববৈচিত্র্য ও বাসস্থান, বনায়ন, মত্স্যসম্পদ, জলবায়ু ও জ্বালানি, বায়ুদূষণ, পানিসম্পদ, কৃষি ইত্যাদি। একটি দেশের রাজধানী পরিবেশগতভাবে টেকসই, সবুজ, বায়ু-দূষণমুক্ত, সুপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত বনায়ন সমৃদ্ধ হওয়া উচিত । এটি হবে কার্বন নিঃসরণ কম, যেখানে টেকসই গণপরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর হিসেবে এটি নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তাছাড়া বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে রাজধানীর পরিবেশ নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, টেকসই এবং উন্নত অবকাঠামো ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়া জরুরি । নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, হয়রানি-মুক্ত পরিবেশ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা প্রধান শর্ত।এছাড়া, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, সুপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য সহজ নীতি দরকার। আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই) বা পরিবেশ সুরক্ষা সূচক যৌথভাবে প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সূচক অনুযায়ী ২০২৪ সালে পরিবেশগত দিক থেকে এগিয়ে ছিল ইউরোপের দেশগুলো। পিছিয়ে ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো।
পরিবেশগত দিক থেকে একটি আদর্শ রাজধানীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ: পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য বিশেষ 'ট্যুরিস্ট পুলিশ' এবং হয়রানি-মুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য।
২) পরিচ্ছন্ন ও টেকসই অবকাঠামো: ঢাকাকে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (রিসাইক্লিং), ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন, আধুনিক উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহার। এবং সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
৩) স্মার্ট ও ডিজিটাল সংযোগ: প্রযুক্তিনির্ভর (স্মার্ট ট্যুরিজম জোন) অবকাঠামো তৈরি, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা।
৪) ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ: শহরের পুরনো ঐতিহ্য ও জলাশয়গুলো রক্ষা করে সেগুলোকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা।
৫) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: কর নীতি সহজ ও স্থিতিশীল করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসার সহজ পরিবেশ তৈরি করা।
৬) যাতায়াত ও যোগাযোগ: সুপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা,ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম যেমন: মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট এবং সাইকেল লেনের প্রাধান্য এবং সেই সাথে গণপরিবহনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
৭ ) সবুজায়ন ও বনায়ন: প্রচুর পরিমাণে পার্ক, খেলার মাঠ এবং নগর বনায়ন থাকতে হবে।
৯) বায়ু ও পানির গুণমান: বায়ু দূষণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সুব্যবস্থা ।
১০ ) জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণ: নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা, যা শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ।
১১ ) জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো: বন্যা বা দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষম টেকসই স্থাপনা।
একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য রাজধানীর জন্য এসব পরিবেশগত উপাদান অত্যন্ত জরুরি এবং সেই সাথে একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনই বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। তাই উপরোক্ত আলোচিত বিষয়গুলির কিছুটা হলেও এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জন
করা সম্ভব এবং তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে বহুতল হকার মার্কেট গড়ে সরকারের একান্ত কর্তব্য। কর্মসংস্থানের জন্য গ্রাম থেকে মানুষ যেন রাজধানীমুখি না হয় সেই বিষয়ে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে এবং নিরুৎসাহিত করতে হবে।
https://www.facebook.com/share/r/1E2Hwkn95Z/
💐
০
০ মন্তব্য