বিঝু হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যা বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিন (চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ) মিলিয়ে তিন দিন ধরে পালিত হয়। এটি পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের উৎসব, যা ফুলবিঝু, মূলবিঝু ও গইজ্জাপইজ্জা (নববর্ষ) নামে পরিচিত।
বিঝু উৎসবের তিনটি দিন:
১. ফুলবিঝু (১২ এপ্রিল বা চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন): উৎসবের প্রথম দিন খুব ভোরে ছেলেমেয়েরা ফুল সংগ্রহ করে বাড়িঘর সাজায় এবং নদীতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলার প্রার্থনা করে [৪, ১৩]।
২. মূলবিঝু (চৈত্র সংক্রান্তি বা বছরের শেষ দিন): এ দিনে বিভিন্ন উপজাতীয় খাবার, বিশেষ করে 'পাজন' রান্না করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজনদের ঘরে দাওয়াত ও আতিথেয়তা চলে [১২, ১৩]।
৩. গইজ্জাপইজ্জা বা গোজ্যেপোজ্যে দিন (পহেলা বৈশাখ): নববর্ষের প্রথম দিনে সবাই নতুন পোশাক পরে, বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নেয় এবং মন্দিরে পূজা দেয়।
মূল বৈশিষ্ট্য:
- এটি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত উৎসব, যা একসাথে বৈসাবি (বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু) নামেও পরিচিত [১, ৭]।
- উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো নদীর জলে ফুল ভাসানো, ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না, বিজু নৃত্য ও বিভিন্ন খেলাধুলা [১১, ১৩]।
- হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য [৩]। [1, 2, 3, 4]
বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে, যেমন নারায়ণগঞ্জেও এই উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।
৫
৫ মন্তব্য