সহকারী অধ্যাপক
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিমগ্ন হও। তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা, তিনি ব্যতীত কোন (সত্য) উপাস্য নেই। অতএব তাঁকেই গ্রহণ কর উকীল (কর্মবিধায়ক)রূপে।
আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিমগ্ন হও। তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা, তিনি ব্যতীত কোন (সত্য) উপাস্য নেই। অতএব তাঁকেই গ্রহণ কর উকীল (কর্মবিধায়ক)রূপে।
সূরাঃ আল-মুযযাম্মিল আয়াতঃ ৬-১৩ মাক্কী
৬ اِنَّ نَاشِئَۃَ الَّیۡلِ هِیَ اَشَدُّ وَطۡاً وَّ اَقۡوَمُ قِیۡلًا ؕ
নিশ্চয় রাত-জাগরণ আত্মসংযমের জন্য অধিকতর প্রবল এবং স্পষ্ট বলার জন্য অধিকতর উপযোগী। আল-বায়ান
বাস্তবিকই রাতে বিছানা ছেড়ে উঠা আত্মসংযমের জন্য বেশি কার্যকর এবং (কুরআন) স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। তাইসিরুল
নিশ্চয়ই রাতে জাগরণ ইবাদাতের জন্য গভীর মনোনিবেশ, হৃদয়ঙ্গম এবং স্পষ্ট উচ্চারণে অনুকূল। মুজিবুর রহমান
Indeed, the hours of the night are more effective for concurrence [of heart and tongue] and more suitable for words. Sahih International
৬. নিশ্চয় রাতের বেলার উঠা(১) প্রবৃত্তি দলনে প্রবলতর(২) এবং বাকস্ফুরাণে অধিক উপযোগী।(৩)
(১) نَاشِئَة শব্দের ব্যাখ্যায় কয়েকটি মত আছে। একটি মত হলো, এর মানে রাতের বেলা শয্যা ত্যাগকারী ব্যক্তি। দ্বিতীয় মতটি হলো এর অর্থ রাত্রিকালীন সময়। [ইবন কাসীর]
(২) আয়াতে وطأً শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ এতো ব্যাপক যে, একটি মাত্ৰ বাক্যে তা বুঝানো সম্ভব নয়। এর একটি অর্থ হলো, রাতের বেলা ইবাদাত-বন্দেগীর জন্য শয্যা ত্যাগ করে ওঠা এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা যেহেতু মানুষের স্বভাব-বিরুদ্ধ কাজ, মানুষের মন ও প্রবৃত্তি এ সময় আরাম কামনা করে, তাই এটি এমন একটি কাজ ও চেষ্টা-সাধনা যা প্রবৃত্তির জন্য অত্যন্ত কঠিন। দ্বিতীয় অর্থ হলো, রাত্ৰিবেলার সালাত দিনের সালাত অপেক্ষা অধিক স্থায়ী ও ফলপ্রসু। কেননা, দিনের বেলা মানুষের চিন্তা-চেতনা বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু রাত্ৰিবেলা তা থেকে মুক্ত হয়। আরেকটি অর্থ হলো, ইবাদতকারী ব্যক্তিকে সক্রিয় রাখার পন্থা, কেননা রাত্ৰিবেলা বিভিন্ন চিন্তা-চেতনা ও কাজ থেকে মুক্ত হওয়ায় সে সময়ে ইবাদতে নিবিষ্ট হওয়া যায়। [কুরতুবী]
(৩) أقوم শব্দের অর্থ অধিক সঠিক। আর قِيلًا শব্দের অর্থ কথা। তাই এর আভিধানিক অর্থ হলো, “কথাকে আরো বেশী যথার্থ ও সঠিক বানায়।” অর্থাৎ রাত্ৰিবেলায় কুরআন তেলাওয়াত অধিক শুদ্ধতা ও স্থিরতা সহকারে হতে পারে। এর মূল বক্তব্য হলো, সে সময় মানুষ আরো বেশী প্রশান্তি, তৃপ্তি ও মনোযোগ সহকারে বুঝে কুরআন মাজীদ পড়তে পারে। কারণ, তখন বিভিন্ন প্রকার ধ্বনি ও হট্টগোল দ্বারা অন্তর ও মস্তিস্ক ব্যাকুল হয় না। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা এর ব্যাখ্যা করেছেন “গভীর চিন্তা-ভাবনা ও মনোনিবেশসহ কুরআন পাঠের জন্য এটা একটা অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত সময়।” [আবু দাউদ: ১৩০৪]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৬) নিশ্চয়ই রাত্রিজাগরণ প্রবৃত্তি দলনে অধিক সহায়ক [1] এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অধিক অনুকূল। [2]
[1] এর দ্বিতীয় অর্থ হল, রাতের নির্জন পরিবেশে নামাযী তাহাজ্জুদের নামাযে যে কুরআন পাঠ করে তার অর্থসমূহ অনুধাবন করার ব্যাপারে (মুখ বা) কানের সাথে অন্তরের বড়ই মিল থাকে।
[2] এর দ্বিতীয় অর্থ হল, দিনের তুলনায় রাতে কুরআন পাঠ বেশী পরিষ্কার হয় এবং মনোনিবেশ করার ব্যাপারে বড়ই প্রভাবশালী হয়। কারণ, তখন অন্য সকল শব্দ নিশ্চুপ-নীরব হয়। পরিবেশ থাকে নিঝুম-নিস্তব্ধ। এই সময় নামাযী যা কিছু পড়ে, তা শব্দের গোলযোগ ও পৃথিবীর হট্টগোল থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং তার মাঝে নামাযী তৃপ্তি লাভ করে ও তার প্রতিক্রিয়া অনুভব করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৩ : ৭ اِنَّ لَكَ فِی النَّهَارِ سَبۡحًا طَوِیۡلًا ؕ﴿۷﴾
নিশ্চয় তোমার জন্য দিনের বেলায় রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। আল-বায়ান
দিনের বেলায় তোমার জন্য আছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। তাইসিরুল
দিনে তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। মুজিবুর রহমান
Indeed, for you by day is prolonged occupation. Sahih International
৭. নিশ্চয় দিনের বেলায় আপনার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।(১)
(১) سَبْحًا শব্দের অর্থ প্রবাহিত হওয়া ও ঘোরাফেরা করা। এ কারণেই সাঁতার কাটাকে سباحة বলা হয়। এখানে এর অর্থ দিনমানের কর্মব্যস্ততা ও জীবিকার জন্য ঘোরাঘুরির কারণে অন্তরের ব্যস্ততা। দিনের কর্মব্যস্ততার কারণে একাগ্রচিত্তে ইবাদতে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। [দেখুন: করতুবী; সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৭) দিবাভাগে তোমার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। [1]
[1] سَبْحٌ এর অর্থ হল الجَرِيُ والدَّوَرانُ (চলা ও ঘোরা-ফেরা করা)। অর্থাৎ, দিনের বেলায় বহু কর্মব্যস্ততা থাকে। এটা প্রথমোক্ত কথারই তাকীদ। অর্থাৎ, রাতের নামায এবং তেলাঅত বেশী উপকারী ও প্রভাবশালী।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৩ : ৮ وَ اذۡكُرِ اسۡمَ رَبِّكَ وَ تَبَتَّلۡ اِلَیۡهِ تَبۡتِیۡلًا ؕ
আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিমগ্ন হও। আল-বায়ান
কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি মগ্ন হও। তাইসিরুল
সুতরাং তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও। মুজিবুর রহমান
And remember the name of your Lord and devote yourself to Him with [complete] devotion. Sahih International
৮. আর আপনি আপনার রবের নাম স্মরণ করুন এবং তার প্রতি মগ্ন হোন একনিষ্ঠভাবে।(১)
(১) অর্থাৎ আপনি সমগ্র সৃষ্টি থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টিবিধানে ও ইবাদতে মগ্ন হোন। এর সাধারণ অর্থে ইবাদতে শির্ক না করাও দাখিল এবং নিজের সমস্ত কর্মকাণ্ডে তথা উঠাবসায়, চলাফেরায় দৃষ্টি ও ভরসা আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ রাখা এবং অপরকে লাভ-লোকসান ও বিপদাপদ থেকে উদ্ধারকারী মনে না করাও দাখিল। দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুকে পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে যা আছে তৎপ্রতি মনোনিবেশ করাও এর অর্থের অন্তর্গত। কিন্তু এই تَبْتِيل তথা দুনিয়ার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ সেই رهبانية তথা বৈরাগ্য থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কুরআনে যার নিন্দা করা হয়েছে এবং হাদীসে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কেননা, শরীয়াতের পরিভাষায় رهبانية বা বৈরাগ্য এর অর্থ দুনিয়ার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা এবং ভোগ সামগ্ৰী ও হালাল বস্তুসমুহকে ইবাদতের নিয়তে পরিত্যাগ করা।
পক্ষান্তরে এখানে যে সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ করা হয়েছে, তা এই যে, বিশ্বাসগতভাবে অথবা কাৰ্যগতভাবে আল্লাহর সম্পর্কের উপর কোন সৃষ্টির সম্পর্ককে প্রবল হতে না দেয়া। এ ধরণের সম্পর্কচ্ছেদ বিবাহ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ইত্যাদি যাবতীয় সাংসারিক কাজ-কারবারের পরিপন্থী নয়; বরং এগুলোর সাথে জড়িত থেকেও এটা সম্ভবপর। রাসূলগণের সুন্নত; বিশেষতঃ রাসূলকুল শিরোমণি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমগ্র জীবন ও আচারাদি এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। আয়াতে تَبْتِيل শব্দ দ্বারা যে অর্থ ব্যক্ত করা হয়েছে, মূলত তা হলো সকল ইবাদত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য করা এবং এর মাধ্যমে একমাত্র তাঁরই মুখাপেক্ষী হওয়া। [দেখুন: কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৮) সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর[1] এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও। [2]
[1] অর্থাৎ, তা অব্যাহতভাবে পালন কর। দিন হোক বা রাত, সব সময় আল্লাহর তাসবীহ, তাহমীদ এবং তাকবীর ও তাহলীল পড়তে থাক।
[2] تَبَتُّلٌ এর অর্থ পৃথক ও আলাদা হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর কাছে দু’আ ও মুনাজাতের জন্য সব কিছু থেকে পৃথক হয়ে একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি মনোযোগী হওয়া। তবে এটা বৈরাগ্য থেকে ভিন্ন জিনিস। বৈরাগ্য তো সংসার ত্যাগের নাম, যা ইসলামে অপছন্দনীয় জিনিস। পক্ষান্তরে تَبَتُّلٌ এর অর্থ হল, পার্থিব কার্যাদি সম্পাদনের সাথে সাথে একাগ্রচিত্তে নম্র ও বিনয়ী হয়ে আল্লাহর ইবাদতের প্রতিও মনোযোগী হওয়া। আর এটা প্রশংসনীয় জিনিস।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯ رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَ الۡمَغۡرِبِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ فَاتَّخِذۡهُ وَكِیۡلًا
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তাঁকেই তুমি কার্য সম্পাদনকারীরূপে গ্রহণ কর। আল-বায়ান
(তিনি) পূর্ব ও পশ্চিমের সর্বময় কর্তা, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, অতএব তাঁকেই তুমি তোমার কার্য সম্পদানকারী বানিয়ে লও। তাইসিরুল
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রাব্ব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; অতএব তাঁকেই কর্ম-বিধায়ক রূপে গ্রহণ কর। মুজিবুর রহমান
[He is] the Lord of the East and the West; there is no deity except Him, so take Him as Disposer of [your] affairs. Sahih International
৯. তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই; অতএব তাকেই আপনি গ্ৰহণ করুন কর্মবিধায়করূপে।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৯) তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা, তিনি ব্যতীত কোন (সত্য) উপাস্য নেই। অতএব তাঁকেই গ্রহণ কর উকীল (কর্মবিধায়ক)রূপে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০ وَ اصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَ اهۡجُرۡهُمۡ هَجۡرًا جَمِیۡلًا ۰
আর তারা যা বলে, তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চল। আল-বায়ান
তারা যা বলে সে ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ কর আর ভদ্রতার সঙ্গে তাদেরকে পরিহার ক’রে চল। তাইসিরুল
লোকে যা বলে, তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সৌজন্য সহকারে উহাদেরকে পরিহার করে চল। মুজিবুর রহমান
And be patient over what they say and avoid them with gracious avoidance. Sahih International
১০. আর লোকে যা বলে, তাতে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে পরিহার করে চলুন।(১)
(১) এর শাব্দিক অর্থ কোন কিছুকে ত্যাগ করা বা পরিহার করা। অর্থাৎ মিথ্যারোপকারী কাফেররা আপনাকে যেসব পীড়াদায়ক কথাবার্তা বলে, আপনি সেসবের প্রতিশোধ নিবেন না ঠিক, কিন্তু তাদের সাথে সম্পর্কও রাখবেন না। বরং সৌজন্যের সাথে তাদের পরিহার করে চলুন। কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ পরবর্তীতে অবতীর্ণ জিহাদের আদেশ সম্বলিত আয়াত দ্বারা এই আয়াতের নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(১০) লোকে যা বলে, তাতে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সৌজন্য সহকারে তাদেরকে পরিহার করে চল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১১ وَ ذَرۡنِیۡ وَ الۡمُكَذِّبِیۡنَ اُولِی النَّعۡمَۃِ وَ مَهِّلۡهُمۡ قَلِیۡلًا
আর ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী মিথ্যারোপকারীদেরকে। আর তাদেরকে কিছুকাল অবকাশ দাও। আল-বায়ান
আর ছেড়ে দাও আমাকে আর নানান বিলাস সামগ্রীর মালিক ঐ মিথ্যুকদেরকে এবং তাদেরকে কিছুটা সময় অবকাশ দাও। তাইসিরুল
ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে; আর কিছু কালের জন্য তাদেরকে অবকাশ দাও। মুজিবুর রহমান
And leave Me with [the matter of] the deniers, those of ease [in life], and allow them respite a little. Sahih International
১১. আর ছেড়ে দিন আমাকে ও মিথ্যারোপকারীদেরকে(১); এবং কিছু কালের জন্য তাদেরকে অবকাশ দিন,
(১) এতে কাফেরদেরকে (أُولِي النَّعْمَةِ) বলা হয়েছে। نَعْمَة শব্দের অর্থ ভোগ-বিলাস, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির প্রাচুর্য। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
(১১) ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী মিথ্যাজ্ঞানকারীদেরকে; আর কিছুকালের জন্য তাদেরকে অবকাশ দাও।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১২ اِنَّ لَدَیۡنَاۤ اَنۡكَالًا وَّ جَحِیۡمًا
নিশ্চয় আমার নিকট রয়েছে শিকলসমূহ ও প্রজ্জ্বলিত আগুন। আল-বায়ান
আমার কাছে আছে শেকল আর দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন, তাইসিরুল
আমার নিকট আছে শৃংখল প্রজ্জ্বলিত আগুন। মুজিবুর রহমান
Indeed, with Us [for them] are shackles and burning fire Sahih International
১২. নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে শৃংখলসমূহ ও প্রজ্বলিত আগুন,
তাফসীরে জাকারিয়া
(১২) আমার নিকট আছে শৃংখল, প্রজ্বলিত অগ্নি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১৩ وَّ طَعَامًا ذَا غُصَّۃٍ وَّ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿٭۱۳﴾
ও কাঁটাযুক্ত খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-বায়ান
আর গলায় আটকে যায় এমন খাবার আর মর্মান্তিক শাস্তি। তাইসিরুল
আর আছে এমন খাদ্য যা গলায় আটকে যায় এবং মর্মন্তদ শাস্তি। মুজিবুর রহমান
And food that chokes and a painful punishment - Sahih International
১৩. আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।(১)
(১) অতঃপর আখেরাতের কঠিনতম শাস্তির বর্ণনা প্রসঙ্গে أَنْكَال শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থ আটকাবস্থা ও শিকল। এরপর জাহান্নামের উল্লেখ করে জাহান্নামীদের ভয়াবহ খাদ্যের কথা বলা হয়েছে। (وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ) এর অর্থ গলগ্রহ খাদ্য। অর্থাৎ যে খাদ্য গলায় এমনভাবে আটকে যায় যে, গলাধঃকরণও করা যায় না এবং উদগীরণও করা যায় না। জাহান্নামীদের খাদ্য ضريع , غسلين ও زقوم এর অবস্থা তাই হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, তাতে আগুনের কাটা থাকবে; যা গলায় আটকে যাবে। [কুরতুবী] শেষে বলা হয়েছে: (وَعَذَابًا أَلِيمًا) নির্দিষ্ট আযাব উল্লেখ করার পর একথা বলে এর আরও অধিক অন্যান্য শাস্তির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
(১৩) আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [1]
[1] أَنْكَالٌ হল نَكْلٌ এর বহুবচন। যার অর্থ, শৃঙ্খল বা শিকল। আর কেউ কেউ এর অর্থ أَغْلاَل (বেড়ি) করেছেন। جَحِيْمًا অর্থাৎ, প্রজ্বলিত আগুন। ذَا غُصَّةٍ গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য। না গলা থেকে নিচে যায়, আর না বেরিয়ে আসে। এটা زَقُّوْمٌ অথবা ضَرِيْعٌ এর খাবার হবে। ضَرِيْعٌ একটি কাঁটাদার গাছ; যা অতি দুর্গন্ধময় এবং বিষাক্ত।
৫
৫ মন্তব্য