Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৩৯ অপরাহ্ণ

পেয়ার-শেয়ার -রিপিট শিখন কৌশল

পেয়ার-শেয়ার-রিপিট (Pair-Share-Repeat) শিখন কৌশলটি মূলত প্রচলিত 'থিংক-পেয়ার-শেয়ার' পদ্ধতির একটি উন্নত ও গতিশীল সংস্করণ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং কোনো বিষয়কে বারবার ঝালিয়ে নেওয়ার (Reinforcement) জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

এই কৌশলে একজন শিক্ষার্থী তার ধারণা একাধিক সহপাঠীর সাথে শেয়ার করার সুযোগ পায়, যা তার শেখার ভিত্তিকে মজবুত করে।



এই কৌশলের কার্যপ্রণালী (ধাপসমূহ)


১. জোড়া গঠন (Pair): শিক্ষক একটি প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণ করে দেন। শিক্ষার্থীরা পাশের জনের সাথে জোড়া গঠন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।

২. শেয়ার করা (Share): জোড়ায় আলোচনা শেষে তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান বা উত্তর একে অপরের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে।

৩. পুনরাবৃত্তি বা রিপিট (Repeat): এটিই এই কৌশলের মূল অংশ। জোড়া ভেঙে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নতুন একজন সঙ্গীর (Partner) সাথে জোড়া গঠন করে। তারা আগের জোড়ায় যা শিখেছে বা আলোচনা করেছে, তা নতুন সঙ্গীর কাছে পুনরায় ব্যাখ্যা করে।

৪. চক্রাকার আবর্তন: এভাবে কয়েকবার সঙ্গী পরিবর্তন করে একই বিষয় আলোচনা করা হয়।



কেন এই কৌশলটি কার্যকর?


  • তথ্য আত্মস্থ করা: যখন একজন শিক্ষার্থী একই বিষয় বারবার ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করে, তখন বিষয়টি তার মাথায় স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।

  • ভুল সংশোধন: প্রথমবার শেয়ার করার সময় কোনো ভুল থাকলে, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার অন্য কারো সাথে আলোচনার সময় তা ধরা পড়ে এবং সংশোধিত হয়।

  • যোগাযোগ দক্ষতা: বারবার কথা বলার ফলে শিক্ষার্থীর জড়তা কেটে যায় এবং সাবলীলভাবে উপস্থাপনের ক্ষমতা বাড়ে।

  • ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: প্রতিবার নতুন সঙ্গীর সাথে আলোচনার ফলে একই বিষয়ের ওপর ভিন্ন ভিন্ন মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি হয়।



স্নোবল এবং পেয়ার-শেয়ার-রিপিট এর মধ্যে পার্থক্য


বৈশিষ্ট্যস্নোবলিং (Snowballing)পেয়ার-শেয়ার-রিপিট
দলের আকারদলের আকার ক্রমাগত বড় হয় (১ → ২ → ৪ → ৮)।জোড়ার আকার একই থাকে, শুধু সঙ্গী পরিবর্তন হয়।
মূল উদ্দেশ্যএকটি বড় ঐকমত্যে বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।বারবার আলোচনার মাধ্যমে ধারণাকে স্পষ্ট ও স্থায়ী করা।
প্রক্রিয়াছোট থেকে বড় দলে উত্তরণ।সমান্তরালভাবে বিভিন্ন সঙ্গীর সাথে বিনিময়।

একটি উদাহরণ: > গণিতের একটি কঠিন সূত্র শিখানোর পর শিক্ষক এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। শিক্ষার্থী 'ক' প্রথমে শিক্ষার্থী 'খ' কে সূত্রটি বুঝিয়ে বলবে। এরপর 'ক' শিক্ষার্থী 'গ' এর কাছে গিয়ে পুনরায় সেটি ব্যাখ্যা করবে। এভাবে তিনবার রিপিট করলে সূত্রটি তার মুখস্থ করার প্রয়োজন হবে না, সে নিজেই সেটি আত্মস্থ করে ফেলবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ