প্রভাষক
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১০ পূর্বাহ্ণ
পান্তাবুড়ির কথা' গল্পের বিবরণ
পান্তাবুড়ির কথা' গল্পের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর এই জনপ্রিয় গল্পটি শুরু হয় এক দরিদ্র বৃদ্ধাকে নিয়ে, যিনি রোজ ভিক্ষা করে যা পেতেন তা দিয়ে একবেলা ভাত রান্না করতেন। রাতের অবশিষ্ট ভাতে জল ঢেলে তিনি 'পান্তা' করে রাখতেন পরের দিন সকালে খাওয়ার জন্য। কিন্তু এক চোর প্রতিদিন রাতে চুপিচুপি এসে তাঁর সেই প্রিয় পান্তা খেয়ে যেত।
রাজার কাছে যাত্রা ও নতুন বন্ধু
এই চুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে বুড়ি লাঠি হাতে রাজার কাছে নালিশ জানাতে রওনা হন। পথে তাঁর সঙ্গে একে একে কয়েকজনের দেখা হয়:
শিঙি মাছ: পুকুরের ধারে দেখা হলে সে বলে, "ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেও, তোমার উপকার হবে"।
বেল: বেলতলায় পড়ে থাকা একটি বেলও একই অনুরোধ জানায়।
গোবর: পথের ধারে পড়ে থাকা গোবরও বুড়ির সঙ্গী হতে চায়।
ক্ষুর: খানিক দূরে পড়ে থাকা একটি ক্ষুরও বুড়িকে তাকে সাথে নিতে বলে।
রাজাকে না পেয়ে (বা সুবিচার না পেয়ে) বুড়ি ফেরার পথে এদের সবাইকে তাঁর থলেতে ভরে বাড়ি নিয়ে আসেন।
চোরকে জব্দ করার পরিকল্পনা
বাড়ি ফিরে বুড়ি তাঁর নতুন বন্ধুদের বুদ্ধিমতো ঘরের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখেন:
পান্তার হাঁড়িতে: শিঙি মাছ।
চুলার ছাইয়ের নিচে: বেল।
দরজার সামনে: গোবর।
বাইরে ঘাসের ভেতর: ক্ষুর।
চোরের নাজেহাল দশা
রাতে চোর যখন মনের সুখে পান্তা খেতে হাঁড়িতে হাত দেয়, তখন শিঙি মাছ তাকে বিষাক্ত কাঁটা ফুটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় চোর যখন আঙুল সেঁকতে চুলার কাছে যায়, তখন আগুনের তাপে বেলটি ফেটে তার চোখে-মুখে গরম ছাই ছিটকে লাগে। অন্ধকারে ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে সে দরজার মুখে রাখা গোবরের ওপর আছাড় খায়। সবশেষে ঘাসের ওপর পা মুছতে গিয়ে লুকিয়ে রাখা ক্ষুরে তার পা কেটে যায়।
চোরের চিৎকার শুনে পাড়ার লোক ছুটে আসে এবং তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। সেই থেকে চোর আর কোনোদিন বুড়ির পান্তা চুরি করতে আসেনি এবং বুড়ি শান্তিতে তাঁর পান্তা ভাত খেতে থাকেন।
গল্পের মূল শিক্ষা: বুদ্ধিমত্তা এবং ছোট ছোট শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় বিপদকেও হারানো সম্ভব।
৫
৫ মন্তব্য