সহকারী শিক্ষক
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পটভূমি ও ধর্মবিশ্বাস নীল নদের অববাহিকায় (৬,৮৫৩ কি.মি. বা ৪,২৫৮ মাইল দীর্ঘ) আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে। সূচনালগ্নে মিশর Upper এবং Lower Egypt-এ বিভক্ত থাকলেও রাজা মেনেস (Menes) এই দুটি অঞ্চলকে একত্রিত করেন। মিশরীয় সভ্যতার রাজত্বকাল তিনভাগে বিভক্ত: Old, Middle এবং New Kingdom। ধর্মকেন্দ্রিক এই সভ্যতা রাজতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হতো, যেখানে রাজাদের 'ফারাও' বলা হতো। ফারাওদের সূর্য দেবতার প্রতিনিধি মনে করা হতো। মিশরীয় শিল্পকলার মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবন, তাই একে 'The Arts of Death' বা মৃত্যুর শিল্প বলা হয়।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ (এখানে ক্লিক করুন) দিন।
প্রধান দেবতা: সূর্য দেবতা, যাকে সৃষ্টিকর্তা মনে করা হতো। তার নাম ছিল 'রা' (Ra) বা 'আমন রা'।
অন্যান্য দেবদেবী: নীল নদের দেবতা 'হাপি', খাদ্যশস্যের দেবী 'আইসিস', সৌন্দর্যের দেবী 'হাথর' এবং শক্তির দেবতা 'সেখমেত'। শয়তানকে বলা হতো 'সেত'।
দেবদেবীর রূপ: দেবদেবীদের অধিকাংশের মুখাবয়ব পশুপাখির মতো কল্পনা করা হতো (যেমন- শেয়াল দেবতা)।
মিশরীয় স্থাপত্য ও পিরামিড মিশরের স্থাপত্য শিল্প বিশ্বের বিস্ময়। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বিশ্বাস থেকে ফারাওদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণের জন্য জ্যামিতিক ত্রিভুজাকৃতির সমাধি মন্দির বা 'পিরামিড' নির্মাণ করা হতো। ব্যাপকভাবে পিরামিড নির্মাণের আগে মিশরীয়রা আয়তাকার বক্স বা টুলের মতো 'মাস্তাবা' নির্মাণ করত, যা পিরামিডের আদিরূপ।
পিরামিডের বিবর্তন: টম্ব ➞ মাস্তাবা ➞ ধাপ পিরামিড ➞ মূল পিরামিড।
প্রাচীনতম পিরামিড: সাক্কারায় অবস্থিত তৃতীয় রাজবংশের রাজা যোসারের (Djoser) ধাপ পিরামিড (স্থপতি: ইমহোটেপ, ২৬৮০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
সর্ববৃহৎ পিরামিড: গিজার খুফুর পিরামিড (খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ বা ২৫৫০ অব্দ)। এর মূল উচ্চতা ৪৮২ ফুট, বর্তমান উচ্চতা ৪৪৯ ফুট। এটি তৈরি করতে প্রায় ২০ বছর সময় ও ১ লাখ মানুষ লেগেছিল।
গিজায় অবস্থিত অন্য দুটি বিখ্যাত পিরামিড হলো খাফরা (দ্বিতীয় বৃহত্তম) এবং মেনকাউরা।
ভাস্কর্য ও চিত্রকলা মিশরীয় ভাস্কর্য মূলত স্থাপত্য কেন্দ্রিক ও বিশাল আকৃতির। তারা মূলত ফারাওদের মূর্তি বানাতো এবং ভাস্কর্যগুলোকে চকচকে পলিশ করত। ভাস্কর্যে রাজাকে বড় ও রানীকে ছোট করে দেখানো হতো। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সবুজ, মেয়েদের হলুদ এবং পুরুষদের ভাস্কর্যে খয়েরি রং ব্যবহৃত হতো। চিত্রকলা ছিল দ্বিমাত্রিক (2D) ও বর্ণনামূলক, যেখানে পরিপ্রেক্ষিতের (Perspective) ব্যবহার ছিল না।
স্ফিংস (Sphinx): মানুষের মুখ ও সিংহের দেহের সমন্বয়ে তৈরি ভাস্কর্য, যা মৃত্যুর ও মরুভূমির দেবতা। গিজার 'গ্রেট স্ফিংস' বিশ্বের সবচেয়ে বড়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ফারাও খাফ্রের নির্মিত।
খুফুর মূর্তি: হাতির দাঁতের তৈরি ৭.৫ সেমি উঁচু এই মূর্তিটি ১৯০৩ সালে উইলিয়াম পেট্রি আবিষ্কার করেন।
নেফারতিতির মূর্তি: ফারাও আখেনাতেনের স্ত্রীর এই আবক্ষ মূর্তিটি চুনাপাথর ও স্টুকো দিয়ে থুতমোস তৈরি করেন (১৩৪৫ খ্রিঃপূঃ)। এটি ১৯১২ সালে আবিষ্কৃত হয়।
লিখন পদ্ধতি ও মন্দির প্রাচীন মিশরীয় লিখন পদ্ধতিকে 'হায়ারোগ্লিফিক' বলা হয়, যার অর্থ পবিত্র লিপি। এটি চিত্রলিপির উন্নত দশা। তারা সাইপেরাস প্যাপিরাস নামক নলখাগড়া থেকে লেখার কাগজ তৈরি করত। 'Book of the dead' হলো মিশরীয় সাহিত্যের আদিমতম নিদর্শন।
কার্নাকের মন্দির: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মন্দির, যা মিশরের লুক্সরের কাছে অবস্থিত। এটি থেবন ট্রায়াডের প্রধান দেবতা আমুন-রের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এর আসল নাম ছিল ইপেত-ইসুত (অর্থ: সবচেয়ে নির্বাচিত স্থান)।
১. নবপলীয় যুগের সময়কাল কত? ক) ৫০০০ - ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ খ) ১০০০০ - ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ গ) ১৫০০০ - ১০০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ঘ) ১০০০০ - ৮০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ উত্তর: খ
২. নবপলীয় যুগে মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে কেমন জীবন শুরু করে? ক) শিকারভিত্তিক খ) শিল্পভিত্তিক গ) কৃষিভিত্তিক স্থায়ী ঘ) ব্যবসাভিত্তিক উত্তর: গ
৩. চিত্রকলায় সর্বপ্রথম কিসের ব্যবহার লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবনের প্রাথমিক প্রচেষ্টা ছিল? ক) জ্যামিতিক নকশা খ) রঙের ব্যবহার গ) প্রতীকী চিহ্ন ঘ) পশুর ছবি উত্তর: গ
৪. গুহাচিত্রের মূল বিষয় কী ছিল? ক) দেবদেবীর আরাধনা খ) কৃষি কাজ গ) পশুপালন ঘ) পশু শিকার উত্তর: ঘ
৫. আলতামিরা গুহা কবে আবিষ্কৃত হয়? ক) ১৮৭৯ সালে খ) ১৯৪০ সালে গ) ১৯০৩ সালে ঘ) ১৯১২ সালে উত্তর: ক
৬. প্রাগৈতিহাসিক শিল্পীরা প্যালেট হিসেবে কী ব্যবহার করত? ক) গাছের পাতা খ) পাথর গ) পশুর চওড়া চ্যাপ্টা হাড় ঘ) পোড়ামাটি উত্তর: গ
৭. লাসকো গুহাচিত্রের মাতৃকা মূর্তিটি কিসের প্রতীক? ক) শক্তির খ) উর্বরতার গ) সৌন্দর্যের ঘ) মৃত্যুর উত্তর: খ
৮. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডলমেন কোথায় অবস্থিত? ক) মিশরে খ) তুরস্কে গ) কোরিয়া উপদ্বীপে ঘ) জার্মানিতে উত্তর: গ
৯. মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রাচীনতম সভ্যতা কোনটি? (বইয়ের তথ্যানুযায়ী) ক) মেসোপটেমীয় সভ্যতা খ) সিন্ধু সভ্যতা গ) চৈনিক সভ্যতা ঘ) মিশরীয় সভ্যতা উত্তর: ঘ
১০. নীল নদের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার? ক) ৫,৮৫৩ কি.মি. খ) ৬,২৫৮ কি.মি. গ) ৬,৮৫৩ কি.মি. ঘ) ৭,৮৫৩ কি.মি. উত্তর: গ
১১. মিশরীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি কী ছিল? ক) কৃষি খ) ধর্মীয় বিশ্বাস ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবন গ) ব্যবসা-বাণিজ্য ঘ) সামরিক শক্তি উত্তর: খ
১২. মিশরীয় শিল্পকলার অপর নাম কী? ক) The Arts of Life খ) The Arts of Gods গ) The Arts of Death ঘ) The Arts of Pharaohs উত্তর: গ
১৩. বিভক্ত মিশরকে একত্রিত করেন কোন রাজা? ক) খুফু খ) মেনেস (Menes) গ) জোসার ঘ) খাফ্রে উত্তর: খ
১৪. প্রাচীন মিশরীয়রা কাকে তাদের সৃষ্টিকর্তা মনে করত? ক) নীল নদকে খ) ফারাওকে গ) সূর্য দেবতাকে ঘ) চাঁদকে উত্তর: গ
১৫. মিশরীয়দের সূর্য দেবতার নাম কী ছিল? ক) হাপি খ) আইসিস গ) সেত ঘ) রা বা আমন রা উত্তর: ঘ
১৬. মিশরীয়রা শয়তানকে কী বলতো? ক) সেত খ) হাথর গ) আইসিস ঘ) সেখমেত উত্তর: ক
১৭. মিশরীয় রাজাদের কী বলা হতো? ক) সম্রাট খ) ফারাও গ) সুলতান ঘ) পুরোহিত উত্তর: খ
১৮. পিরামিডের আদিরূপ কোনটি? ক) টম্ব খ) ডলমেন গ) মাস্তাবা ঘ) স্ফিংস উত্তর: গ
১৯. মাস্তাবা দেখতে কেমন ছিল? ক) গোলাকার খ) ত্রিভুজাকার গ) আয়তাকার বক্স বা টুলের মতো ঘ) বহুভুজাকার উত্তর: গ
২০. পৃথিবীর প্রাচীনতম পিরামিড কোনটি? ক) খুফুর পিরামিড খ) খাফরার পিরামিড গ) রাজা যোসারের ধাপ পিরামিড ঘ) মেনকাউরার পিরামিড উত্তর: গ
২১. সর্ববৃহৎ পিরামিডটির নাম কী? ক) খাফরা পিরামিড খ) যোসারের পিরামিড গ) খুফুর পিরামিড ঘ) মেনকাউরা পিরামিড উত্তর: গ
২২. খুফুর পিরামিডের বর্তমান উচ্চতা কত? ক) ৪৮২ ফুট খ) ৪৪৯ ফুট গ) ৪৮১ ফুট ঘ) ১৩৭ ফুট উত্তর: খ (মূল উচ্চতা ৪৮২ ফুট)
২৩. মিশরীয়রা মৃত ব্যক্তির ভাস্কর্য বোঝাতে কোন রং ব্যবহার করত? ক) হলুদ খ) খয়েরি গ) লাল ঘ) সবুজ উত্তর: ঘ
২৪. স্ফিংস (Sphinx) কী? ক) একটি পিরামিড খ) একটি লিখন পদ্ধতি গ) মানুষের মুখ ও সিংহের দেহের সমন্বয়ে তৈরি ভাস্কর্য ঘ) একটি প্রাচীন গ্রন্থ উত্তর: গ
২৫. রাজা খুফুর মূর্তিটি কোন উপাদানে তৈরি? ক) চুনাপাথর খ) হাতির দাঁত গ) গ্রানাইট ঘ) ব্রোঞ্জ উত্তর: খ
২৬. রাজা খুফুর হাতির দাঁতের মূর্তিটি কে আবিষ্কার করেন? ক) স্যার উইলিয়াম পেট্রি খ) হাওয়ার্ড কার্টার গ) থুতমোস ঘ) ইমহোটেপ উত্তর: ক
২৭. নেফারতিতির আবক্ষ মূর্তিটি কী দিয়ে তৈরি? ক) হাতির দাঁত খ) গ্রানাইট ও বেলে পাথর গ) চুনাপাথর এবং স্টুকো ঘ) পোড়ামাটি উত্তর: গ
২৮. প্রাচীন মিশরীয় চিত্রকলার মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল? ক) ত্রিমাত্রিকতা খ) দ্বিমাত্রিকতা গ) পরিপ্রেক্ষিতের ব্যবহার ঘ) সাদাকালো রং উত্তর: খ
২৯. প্রাচীন মিশরীয় লিখন পদ্ধতির নাম কী? ক) কিউনিফর্ম খ) পিকটোগ্রাফ গ) হায়ারোগ্লিফিক ঘ) বর্ণমালা উত্তর: গ
৩০. হায়ারোগ্লিফিক শব্দের অর্থ কী? ক) প্রাচীন লিপি খ) চিত্র লিপি গ) রাজকীয় লিপি ঘ) পবিত্র লিপি উত্তর: ঘ
৩১. মিশরীয়রা লেখার উপকরণ (কাগজ) তৈরি করত কোন উদ্ভিদ থেকে? ক) বাঁশ খ) সাইপেরাস প্যাপিরাস (নলখাগড়া) গ) পাম পাতা ঘ) শাপলা উত্তর: খ
৩২. মিশরীয় সাহিত্যের আদিমতম নিদর্শন কোনটি? ক) Book of dead খ) Book of Gods গ) The Pharaoh's Tale ঘ) Arts of Death উত্তর: ক
৩৩. পৃথিবীর সবথেকে বড় মন্দির কোনটি? ক) থিবসের মন্দির খ) আবু সিম্বেল গ) কার্নাকের মন্দির ঘ) আমুন-রের মন্দির উত্তর: গ
৩৪. কার্নাক মন্দির কমপ্লেক্সের আসল নাম কী ছিল? ক) লুক্সর খ) ইপেত - ইসুত গ) থেবন ট্রায়াড ঘ) এল-কর্ণক উত্তর: খ (যার অর্থ "সবচেয়ে নির্বাচিত স্থান")
চারু ও কারুকলা বিষয়ের সম্পূর্ণ MCQ PDF পেতে যোগাযোগ করুন- WhstaApp: 01799-969617
৫
৫ মন্তব্য