সহকারী শিক্ষক
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলার শেষ স্বাধীন মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগীর(১৬৫৮-১৭০৭)
১৬৫৮ সালে দিল্লির মুঘল সিংহাসন দখল করার পর থেকে উপমহাদেশে শুরু হয় এই মহানায়কের শাসন। বাংলা তো বটেই আলমগীর ছিলেন পুরো উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী শাসক। তার অধীনে মুঘল বাংলা কাটিয়েছে সোনালী সময়। সুশাসন, দক্ষ নেতৃত্ব এবং কঠোরতা মুঘল বাংলাকে নিয়ে গিয়েছিলো সাফল্যের চূড়ায়। তবে তার শাসনকালই ছিল বাংলায় মুঘল শাসনের শেষের শুরু। আওরঙ্গজেবের অধীনে সুবেদার মীরজুমলা ও শায়েস্তা খানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও আসাম পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে, মগ-ফিরিঙ্গিদের দৌরাত্ম্য কমে, এবং বস্ত্রশিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এই সময়ে বাংলার অর্থনীতি রমরমা ছিল। বস্ত্রশিল্প, বিশেষ করে ঢাকাই মসলিন, তাঁত শিল্প এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন তুঙ্গে ছিল। তার আমলে ১ টাকায় ৮ মন চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি আছে, যা বাংলার সচ্ছলতার প্রতীক। এই সময়ে ইংরেজ ও অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের প্রভাব বাড়তে থাকে। আওরঙ্গজেব ইংরেজদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন, কিন্তু পরে তাদের বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তার সময়েই মুর্শিদ কুলির উত্থান ঘটে যিনি পরবর্তীতে বাংলায় মুঘল শাসনের ইতি টানেন।
দীর্ঘ ৪৯ বছর শাসনের পর ১৭০৭ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। তার মৃত্যু বাংলায় মুঘল শাসনের ইতির ভীত গড়ে দেয়। তিনি বাংলার শেষ স্বাধীন মুঘল সম্রাট যিনি নিজ স্বাধীনতায় সুবাহ বাংলাকে শাসন করতে পেরেছেন। তার মৃত্যুর পর বেশ কয়েকবছর বাংলায় নামমাত্র মুঘল শাসন চলমান থাকলেও পরবর্তীতে নবাব মুর্শিদ কুলির কূট চালে বাংলা মুঘল অধীনতা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আওরঙ্গজেবের কঠোর শাসন যেমন বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলো তেমন বাংলায় মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের ভীতও গড়ে দিয়েছিলো।
৫
৫ মন্তব্য