সহকারী শিক্ষক
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:৫২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
🌐 প্রতিবেদন: তথ্যপ্রযুক্তিতে এআই—সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও আমাদের করণীয়
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) তথ্যপ্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উন্নত দেশগুলোতে দ্রুততম সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ, মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার সেক্টর, এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রেও এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, ইন্টারেক্টিভ শেখার পদ্ধতি, অনলাইন টিউটোরিয়াল—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের দেশে এই অগ্রগতির পথে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু থাকলেও বাস্তবায়নের সময় দেখা যায় জটিলতা, অনীহা এবং অদক্ষতা। এর মূল কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থ, পরিবর্তনের ভয় এবং কর্মক্ষেত্র হারানোর আশঙ্কাকে দায়ী করা যায়। অনেকেই মনে করেন, এআই বাস্তবায়িত হলে তাদের প্রচলিত কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে—আর এই ভয় থেকেই তারা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান।
অপরদিকে, একটি বৈপরীত্যও লক্ষ্য করা যায়—যারা এআই বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, তারাই আবার নিজেদের সন্তানদের আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় এগিয়ে রাখতে চান। অনেক ক্ষেত্রে তারা সন্তানদের উন্নত দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, যেখানে এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। ফলে দেশের ভেতরে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
অতএব, এখন সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের। এআই কোনো হুমকি নয়, বরং এটি একটি সুযোগ—নিজেকে দক্ষ করে তোলার, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির এবং বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার। প্রতিবন্ধকতা দূর করে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে আমাদের দেশও এআই-নির্ভর উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
✨ প্রত্যাশা: সংশ্লিষ্ট সকল মহল ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এআই প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন।
✍️ মোহাম্মদ আশরাফুল কবির
৩
৫ মন্তব্য