Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ প্রতিরোধক

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ প্রতিরোধক

 

সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া সুপরিচিত। এটি বার মাসই পাওয়া যায়। কাঁচা ও পাকা মিষ্টি কুমড়ার দু’রকম স্বাদ। কাঁচা অবস্থায় ‍উপরের রঙ সবুজ এবং পাকলে ভেতরের অংশ ডিপ হলুদ রঙের হয়। আকারে গোলাকার কিন্তু হাইব্রিট জাতের কুমড়া লম্বাটে হয়ে থাকে। হাল্কা মিষ্টি স্বাদের এই সবজি নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। গর্ভবতী, শিশু থেকে শুরু করে সর্দি-কাশি, চোখ, ত্বক, হার্ট, ক্যান্সার ইত্যাদি ছাড়াও নানা রোগের ক্ষেত্রে উপকারে আসে এই মিষ্টি কুমড়া।

মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন), ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস।

মিষ্টি কুমড়ার ইংরেজি নাম Sweet gourd বা Pumpkin, বৈজ্ঞানিক নাম Cucurbita moschata । এটি মিষ্টি লাউ নামেও পরিচিত। মিষ্টি কুমড়া গাছের উৎপত্তিস্থল মধ্য আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ।  মিষ্টি কুমড়া ভাজি, তরকারি ছাড়াও ভর্তা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। তবে অনেক দেশে ডেজার্ট, স্যুপ এবং সালাদেও এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

চরাঞ্চলের পলি মাটিতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁ-আশ বা এঁটেল দোঁ-আশ মাটি এর চাষাবাদের জন্য উত্তম। বাসা-বাড়ির ছাদেও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করতে দেখা যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ

খাদ্যশক্তি ২৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ১ গ্রাম, শর্করা ৫ গ্রাম, ফাইবার ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ভিটামিন এ ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ৯ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম, কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৮ মিলিগ্রাম, জিংক ০.৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪৪ মিলিগ্রাম।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাদ্য তালিকায় নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার উপস্থিতি অসুখ-বিসুখ থেকে অনেক দূরে রাখে। এবার জেনে নেই মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা :

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত উপকারি সবজি। মিষ্টি কুমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। 

সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে

মিষ্টি কুমড়ায় ভিটামিন সি রয়েছে ৯ মিলিগ্রাম। এই ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই শীত মওসুমে বেশি বেশি মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

 ওজন কমায়

কম ক্যালোরি এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় মিষ্টি কুমড়া ওজন কমাতে একটি উপযুক্ত খাবার। যারা শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা সানন্দে মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

যারা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন তারা মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। কারণ মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম  আছে, যা শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

চোখ সুস্থ রাখে

চোখ অমূল্য সম্পদ। এই সম্পদ ধরে রাখিতে মিষ্টি কুমড়া অন্যন্য। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ বা বিটা ক্যারোটিন। আমাদের রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিটা-ক্যারোটিন ও আলফা-ক্যারোটিনের মত ক্যারটিনয়েড সমূহ চোখের ছানি পড়া রোধসহ চোখের রেটিনা কোষ রক্ষা করে। তাই চোখকে সচল ও সুস্থ রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া রাখুন।

ত্বক উজ্বল করে

ত্বক উজ্বল করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়ার ভিটামিন-এ ও সি চুল ও ত্বক ভালো রাখে। তাই উজ্জ্বল চুল ও চকচকে ত্বকের জন্য নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। এছাড়া এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক যা ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

খাদ্য হজমে সহায়ক

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় তা সহজেই হজম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মিষ্টি কুমড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা হয়না।

গর্ভবতীর রক্তস্বল্পতা রোধ করে

মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়, তাই গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্দ্বিধায় খেতে পারেন মিষ্টি কুমড়া।

এছাড়া মিষ্টি কুমড়ার বিভিন্ন উপাদান দেহের কিডনি, লিভার, হার্টকে সুস্থ রাখে, বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়। মিষ্টি কুমড়ার ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

 

মিষ্টি কুমড়ার  উপকারিতা

পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম মিষ্টি কুমড়া। নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে শরীরের পাশাপাশি ভালো থাকে ত্বক চুল। জেনে নিন মিষ্টি কুমড়ার ১০ উপকারিতা সম্পর্কে।

1.     ভিটামিন এ, সি, ফাইবার ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া খেলে বাড়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।

2.    প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে হজমে সহায়ক সবজিটি। নিয়মিত এটি খেলে তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকা যায়।

3.    মিষ্টি কুমড়ায় এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি বেশ কিছু মারাত্মক রোগ যেমন ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে।

4.     মিষ্টি কুমড়ায় থাকা ভিটামিন এ ত্বকের যত্নে অনন্য। নিয়মিত এই সবজি খেলে ত্বক থাকে কোমল ও মসৃণ।

5.    ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় মিষ্টি কুমড়া থেকে। এই উপাদান স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

6.    কার্বোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও আয়রন মেলে মিষ্টি কুমড়া থেকে। এসব উপাদান শরীরে শক্তি ও পুষ্টি জোগায়।

7.     কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবার সম্পন্ন হওয়ায় মিষ্টি কুমড়া ওজন কমাতে সাহায্য করে।

8.    পটাসিয়ামের উৎস এই সবজি নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে দূরে থাকা যায় কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ থেকে।

9.     এতে থাকা বেটা ক্যারোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন সি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। ফলে লিভার ভালো থাকে।

10. রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে।

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে ।

  • চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য: উচ্চমাত্রার বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ) দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজম:

 কম ক্যালোরি এবং প্রচুর আঁশ (ফাইবার) থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে কার্যকর ।

  • হার্ট সুস্থ রাখে: পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হার্টের ঝুঁকি কমায় ।

  • ক্যান্সার প্রতিরোধ: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে ।

  • গর্ভবতী মায়েদের জন্য: গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা রোধে ও পুষ্টির জোগান দিতে এটি দারুণ উপকারী ।

  • বীজের পুষ্টি: মিষ্টি কুমড়ার বীজও অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । 

মিষ্টি কুমড়ার অপকারিতা/সতর্কতা:

  • পাচনতন্ত্রের সমস্যা: অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেট খারাপ, গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে ।

  • অ্যালার্জি: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে ।

  • কিডনি সমস্যা: উচ্চ পটাশিয়াম থাকার কারণে, যাদের কিডনিজনিত সমস্যা আছে, তাদের এটি পরিমিত খাওয়া উচিত ।

  • ওষুধের সাথে বিক্রিয়া: নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মিষ্টি কুমড়া খাওয়া ভালো । 

সার্বিকভাবে, সুষম খাদ্য হিসেবে মিষ্টি কুমড়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। তবে যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। 

 

 

(তথ্য সূত্রঃ অনলাইন ডেক্স)

বিনীত নিবেদক

মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

প্রভাষক

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,

আগানগর ডিগ্রি কলেজ,

বরুড়া, কুমিল্লা।

ICT4E District Ambassador at a2i (Cumilla District)

Best Content Developer at a2i. 

মন্তব্য করুন

ব্লগ