সহকারী শিক্ষক
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতির আদেশ। এটি ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। আদেশটির উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন।[২][৩]
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভঙ্গ এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। পরবর্তীতে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়, যা রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রস্তুত করে।[২][৩]
সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার কার্যকর করতে জনগণের অনুমোদন গ্রহণ, গণভোট আয়োজন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন।
আদেশটির প্রথম ধারায় উল্লেখ করা হয় যে, এই আইনটির সংক্ষিপ্ত শিরোনাম হবে “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫[২]
এই আদেশে জনগণের অনুমোদনের জন্য একটি জাতীয় গণভোটের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হবে তারা জুলাই জাতীয় সনদ ও তার সংস্কার পরিকল্পনার সাথে একমত কি না। প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বৃদ্ধি, এবং সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।[৪]
গণভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ (Constitution Improvement Board) গঠন করা হবে। এতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন এবং তারা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবেন। কাজ শেষ হওয়ার পর পরিষদ বা বোর্ডটি বিলুপ্তিকরণ হবে।[৪]
আদেশটির কিছু অংশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে, আর কিছু অংশ গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার পর কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ আয়োজন করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গণভোট (Referendum) ও সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।[৪]
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবাবলীর ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (২৯ মাঘ ১৪৩২) তারিখে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই সরকারি গেজেটটি প্রকাশ করে।
=== ভোটের ফলাফল ===
| ক্যাটাগরি | ভোটের সংখ্যা | শতাংশ (%) |
| 'হ্যাঁ' ভোট | ৪,৮২,০০,৬৬০ | ৬৮.৫৯% |
| 'না' ভোট | ২,২০,৭১,৭২৬ | ৩১.৪১% |
| মোট বৈধ ভোট | ৭,০২,৭২,৩৮৬ | ১০০% |
| বাতিলকৃত ভোট | ৭৪,২২,৬৩৭ | |
| সর্বমোট প্রদত্ত ভোট | ৭,৭৬,৯৫,০২৩ |
১
১ মন্তব্য