প্রভাষক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ণ
বইয়ের ঘ্রাণে যে তথ্য লুকিয়ে থাকে
বইয়ের ঘ্রাণে কেবল নস্টালজিয়া নয়, বরং বইটির বয়স, তৈরির উপাদান এবং সংরক্ষণের ইতিহাস সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য লুকিয়ে থাকে। এই সুগন্ধের মূলে রয়েছে রাসায়নিক উপাদানের ভাঙন, যাকে বিজ্ঞানীরা 'কেমিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট' হিসেবে বিবেচনা করেন।
বইয়ের ঘ্রাণ থেকে যে তথ্যগুলো জানা যায়:
বইয়ের বয়স: সময়ের সাথে সাথে কাগজের ভেতরে থাকা লিগনিন (Lignin) নামক জৈব যৌগ ভেঙে যায়। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে বই থেকে হালকা মিষ্টি বা ভ্যানিলার মতো সুবাস বের হয়। ঘ্রাণের তীব্রতা দেখে বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারেন বইটি কতটা পুরনো।
তৈরির উপাদান: নতুন বইয়ের ঘ্রাণ মূলত তাতে ব্যবহৃত কালি (Ink), আঠা (Glue) এবং নতুন কাগজের মিশ্রণে তৈরি হয়। কাগজের মান এবং বাঁধাইয়ের ধরনভেদে এই ঘ্রাণ ভিন্ন হতে পারে।
সংরক্ষণের অবস্থা: বই যদি আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকে, তবে তাতে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের জন্ম হতে পারে, যা বইয়ের ঘ্রাণে পরিবর্তন আনে। অনেক সময় পুরনো বই থেকে বাদাম বা ঘাসের মতো ঘ্রাণ পাওয়া যায়, যা বেনজালডিহাইড (Benzaldehyde) এবং অন্যান্য উদ্বায়ী জৈব যৌগের (VOCs) উপস্থিতির সংকেত দেয়।
রাসায়নিক বিশ্লেষণ: রসায়নবিদরা এই ঘ্রাণ বা 'ভোলারটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড' (VOCs) বিশ্লেষণ করে বলতে পারেন বইটির কাগজ তৈরিতে কী ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল।
কেমব্রিজের রসায়নবিদ অ্যান্ডি ব্রাউনিংয়ের মতো গবেষকরা মনে করেন, এই ঘ্রাণ কেবল অনুভূতি নয়, এটি বইয়ের শারীরিক অবস্থা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মাধ্যম।
৫
৫ মন্তব্য