Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৬

প্রাথমিক  শিক্ষায় মূল্যায়ন নির্দেশিকা নীতিমালা ২০২৬’ শিরোনামে একটি সরকারি নির্দেশিকা গত ফেব্রুয়ারি মাসে জারি করা হয়েছে, যা ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।


এখানে নির্দেশিকাটির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:


🧐 নতুন নির্দেশিকার মূল বৈশিষ্ট্য


· ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সমন্বয়:‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’ (ক্লাসরুমের কাজ, কুইজ ইত্যাদি) এবং ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ (প্রান্তিক/বার্ষিক পরীক্ষা) - এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে হবে। নির্দেশিকায় মোট মূল্যায়নে ধারাবাহিক মূল্যায়নের গুরুত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে।

· মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক: প্রথমবারের মতো সব ক্লাসের সব বিষয়ে ‘মৌখিক ও ব্যবহারিক’ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

· পাস ও উপস্থিতির নির্ধারিত মান:

  · পাস নম্বর: পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০% নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পাস নম্বর ৩৩% নির্ধারণ করা হয়েছে।

  · উপস্থিতি: মূল্যায়নের জন্য যোগ্য হতে শিক্ষার্থীদের মোট ৮৫% ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে।

· বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা: কোনো অনিবার্য কারণের (যেমন অসুস্থতা) কারণে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলে, আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জন্য বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।


📚 শ্রেণি ভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো


নির্দেশিকায় প্রতিটি শ্রেণির জন্য মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কাঠামো দেওয়া হয়েছে:


প্রাক-প্রাথমিক (প্লে/নার্সারি): কোনো প্রকার পরীক্ষা বা আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন থাকছে না, আগের ন্যায় চর্চা বহাল থাকবে।


১ম ও ২য় শ্রেণি:


· পাঠ্যবইভিত্তিক বিষয়: মোট মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন) = ৫০% ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন = ৫০%।

· শিক্ষক নির্দেশনাভিত্তিক বিষয় (যেমন- চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা): সম্পূর্ণ ১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে হবে (লিখিত পরীক্ষা থাকবে না)।


৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি:


· পাঠ্যবইভিত্তিক বিষয়: মোট মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন) = ৭০% ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন = ৩০%।

· শিক্ষক নির্দেশনাভিত্তিক বিষয়: সম্পূর্ণ ১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে হবে।


📋 বাস্তবায়ন ও তদারকি


· প্রশ্নপত্র প্রণয়ন: প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্ব-উদ্যোগে তাদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে।

· প্রশ্নের ধরন: প্রতিটি সামষ্টিক পরীক্ষায় (প্রতি প্রান্তিকে) প্রশ্নগুলোর কমপক্ষে ৩০% হবে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনী থেকে।

· তদারকি: উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মূল্যায়ন নির্দেশিকা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবেন।


২০২৬ সালের এই নির্দেশিকাটি আগের বছরের তুলনায় বড়সড় কিছু পরিবর্তন এনেছে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ