সহকারী শিক্ষক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
মিশন আর্টেমিস ২ (মানুষের চন্দ্র বিজয়গাঁথা)
আর্টেমিস ২ মিশনটি চাঁদে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে?
আর্টেমিস ২ একটি ফ্লাইবাই মিশন, অর্থাৎ এটি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ না করে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবে এবং পৃথিবীতে ফিরে আসবে। পুরো মিশনটি প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হবে এবং এটি ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পরে প্রথমবারের মতো মানব crew চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছে।
যাত্রাপথটি খুবই নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি অনুসরণ করছে। নিচের ছকটি আপনাকে পুরো যাত্রার ধাপগুলো বুঝতে সাহায্য করবে:
উৎক্ষেপণ ও কক্ষপাচার ১ এপ্রিল, মহাকাশযানটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টা Orion ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০,০০০ কিমি উচ্চতায় একটি উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে। এই সময়ে ক্রু ও জাহাজের সব সিস্টেম পরীক্ষা করা হয়।
২৫.৫ ঘণ্টা পর (২ এপ্রিল), ইঞ্জিন ফায়ার করে মহাকাশযানটিকে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে চাঁদের দিকে পাঠানো হয়।
প্রায় ৫ দিন পর (৬ এপ্রিল), মাধ্যাকর্ষণ বলয়ের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং তার সবচেয়ে কাছাকাছি (৪,১০০ মাইল বা ৬,৫৯৮ কিমি দূরত্বে) পৌঁছাবে। এই সময় তারা চাঁদের অদেখা দিকও পর্যবেক্ষণ করবেন।
ফিরতি পথে যাত্রা, ৬ এপ্রিল, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশযানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করবে।
১০ এপ্রিল (প্রায় ৯ দিন ২ ঘণ্টা পরে, প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ। Orion ক্যাপসুলটি প্যারাসুটের সাহায্যে ধীরগতিতে সমুদ্রে নামবে। সেখান থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ক্রুদের সংগ্রহ করবে।
এই মিশনটির পদ্ধতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা:
মহাকাশযানটি একটি '৮' আকৃতির পথে চলছে (ছবি খেয়াল করুন)। এই পথের বিশেষত্ব হলো, ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা হলেও, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ টান এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। এটা পরিকল্পিত ভাবেই আগেই করা হয়েছিল।
উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মহাকাশচারীরা ম্যানুয়ালি Orion কে রকেটের উপরের স্তর থেকে দূরে সরিয়ে আবার কাছে নিয়ে আসার অনুশীলন করেন। এটি ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে অন্য কোনো মহাকাশযানের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি ড্রিল ছিল।
এই মিশনটির মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী মানব হিসেবে রেকর্ড গড়বেন, যা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩-এর ক্রু কর্তৃক সেট করা পূর্ববর্তী রেকর্ডকে অতিক্রম করবে ।
এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে আর্টেমিস ৪ মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। এবং সেবার আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ঘটবে। যা মানব ইতিহাস রচিত হবে পৃথিবীর বাহিরে, ভিন্ন গ্রহের কক্ষপথ পর্যন্ত।
২
৪ মন্তব্য