সিনিয়র শিক্ষক
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ণ
ওয়েট টিস্যু ত্বকের জন্য ভালো নাকি খারাপ
কয়েকদিন ধরে বেশ গরম পরছে। আর গরম আসলে অনেকেই স্বস্তি পেতে সঙ্গে রাখেন ওয়েট টিস্যু বা ফেসিয়াল ওয়াইপসের প্যাকেট। ব্যস্ত জীবনে এই ছোট্ট জিনিসটা যেন অনেকেই আরাম দেয়। মেকআপ তুলতে, ঘাম মুছতে, হুট করে ফ্রেশ হতে সবকিছুতেই এর জুড়ি নেই। কিন্তু প্রশ্নটা হলো এই সহজ সমাধানের আড়ালে কি ত্বকের সমস্যা লুকিয়ে আছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এই বিষয়টা নিয়েই বিস্তারিত কথা বলেছেন।
ফেসিয়াল ওয়াইপস মূলত বিভিন্ন ক্লিনজিং উপাদান দিয়ে ভেজানো থাকে। বেশিরভাগই “ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড” লেখা থাকলেও, সব ত্বকের জন্য এগুলো নিরাপদ নয় বিশেষ করে সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে। ভারতের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন ফুর্তাদো বলেন, বাজারে এখন অসংখ্য ব্র্যান্ডের ওয়াইপস পাওয়া যায়। কিন্তু সব পণ্যের মান বা উপাদান এক রকম নয়। কিছু ওয়াইপসে এমন রাসায়নিক বা অ্যালার্জেন থাকতে পারে, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু “ফ্রেশ লাগছে” মনে হলেই হবে না প্যাকেটের পেছনের উপাদানের তালিকাও একবার দেখে নেওয়া জরুরি।
কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপালি ভারদ্বাজ পরামর্শ দেন অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া মুখে ওয়াইপস ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ব্যবহার করতেই হলে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—
অ্যালোভেরা, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি-এর মতো হাইড্রেটিং উপাদান আছে কি না
অ্যালকোহলমুক্ত কি না
অতিরিক্ত সুগন্ধি আছে কি না
ত্বকে জ্বালা বা ব্রণ বাড়াতে পারে এমন উপাদান রয়েছে কি না
তিনি বলেন, অতিরিক্ত পারফিউমযুক্ত ওয়াইপস ত্বকে জ্বালা, ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডসের কারণ হতে পারে।
ওয়াইপস বনাম ফেসওয়াশ কোনটা ভালো?
শুধু ওয়াইপস দিয়ে মেকআপ তোলা বা মুখ পরিষ্কার করা কখনোই যথেষ্ট নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াইপস কখনোই আপনার নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনের বিকল্প হতে পারে না। প্রথমে ক্লিনজার দিয়ে মেকআপ তোলা, তারপর আবার ফেসওয়াশ সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। শুধু ওয়াইপস ব্যবহার করলে ত্বকে ময়লা ও মেকআপের অংশ রয়ে যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে ফেসিয়াল ওয়াইপসে ব্যবহার করা যাবে না বিষয়টা এমন নয়। বরং বরং ব্যবহারটা হওয়া উচিত সচেতন ভাবে। যদি পানি না পান, বাইরে ঘুরতে গিয়ে কিংবা খুব জরুরি পরিস্থিতিতে। তবে যদি পানি কাছে থাকে মুখে পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়াই অনেক ভালো।
৩
৩ মন্তব্য