সহকারী শিক্ষক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৫:২৮ অপরাহ্ণ
KWL Chart শিখন কৌশল
ভূমিকা:
KWL চার্ট হলো একটি সহজ এবং কার্যকর শিখন কৌশল যা শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় সম্পর্কে তাদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করতে, শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে এবং শেখা বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি তিনটি প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে কাজ করে:
K (What I Know): আমি কী জানি?
W (What I Want to Know): আমি কী জানতে চাই?
L (What I Learned): আমি কী শিখলাম?
KWL চার্টের তিনটি কলাম:
KWL চার্টে তিনটি কলাম থাকে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখেন:
| কলাম | প্রশ্ন | বর্ণনা |
| K | আমি কী জানি? | শিক্ষার্থীরা এই কলামে একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তারা যা জানেন বা মনে করেন, তা লেখেন। এটি তাদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করতে সাহায্য করে। |
| W | আমি কী জানতে চাই? | শিক্ষার্থীরা এই কলামে একটি বিষয় সম্পর্কে তারা যা জানতে চান, তা লেখেন। এটি তাদের শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। |
| L | আমি কী শিখলাম? | শিক্ষার্থীরা এই কলামে একটি বিষয় সম্পর্কে তারা যা নতুন শিখেছেন, তা লেখেন। এটি তাদের শেখা বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে সাহায্য করে। |
KWL চার্টের ব্যবহার:
KWL চার্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে:
ক্লাসে: শিক্ষকরা নতুন কোনো বিষয় শুরু করার আগে KWL চার্ট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করতে পারেন এবং শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে পারেন।
পড়াশোনায়: শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার সময় KWL চার্ট ব্যবহার করে নিজেদের শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে পারেন এবং শেখা বিষয়গুলো যাচাই করতে পারেন।
গবেষণায়: গবেষকরা কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সময় KWL চার্ট ব্যবহার করে নিজেদের পূর্বজ্ঞান লিপিবদ্ধ করতে পারেন এবং গবেষণার ফলাফল যাচাই করতে পারেন।
KWL চার্টের সুবিধা:
KWL চার্টের কিছু সুবিধা হলো:
শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করে: KWL চার্ট শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় সম্পর্কে তাদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা তাদের নতুন তথ্য শিখতে সহজ করে।
শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্ধারণ করে: KWL চার্ট শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় সম্পর্কে তারা যা জানতে চান, তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে, যা তাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।
শেখা বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে: KWL চার্ট শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় সম্পর্কে তারা যা নতুন শিখেছেন, তা লিপিবদ্ধ করতে সাহায্য করে, যা তাদের শেখা বিষয়গুলো মনে রাখতে সাহায্য করে।
KWL চার্ট তৈরির ধাপ:
একটি গ্রাফ তৈরি করুন: একটি বড় গ্রাফ তৈরি করুন যেখানে তিনটি কলাম থাকবে - K, W, এবং L।
K কলামটি পূরণ করুন: শিক্ষার্থীদের বিষয় সম্পর্কে তারা যা জানেন বা মনে করেন, তা K কলামে লিখতে বলুন।
W কলামটি পূরণ করুন: শিক্ষার্থীদের বিষয় সম্পর্কে তারা যা জানতে চান, তা W কলামে লিখতে বলুন।
L কলামটি পূরণ করুন: শিক্ষার্থীদের বিষয় সম্পর্কে তারা যা নতুন শিখেছেন, তা L কলামে লিখতে বলুন।
KWL চার্টের একটি উদাহরণ:
বিষয়: পাখি
| কলাম | প্রশ্ন | বর্ণনা |
| K | আমি কী জানি? | পাখিদের পাখা থাকে, তারা উড়তে পারে, ডিম পেড়ে। |
| W | আমি কী জানতে চাই? | পাখিরা কীভাবে ওড়ে? তারা কী খায়? তারা কীভাবে বাসা তৈরি করে? |
| L | আমি কী শিখলাম? | পাখিরা উড়তে পারে কারণ তাদের পাখা এবং হাল্কা হাড় আছে। তারা বিভিন্ন জিনিস খায়, যেমন - পোকা, ফল, এবং শস্য। তারা বিভিন্নভাবে বাসা তৈরি করে, যেমন - ডাল, পাতা, এবং মাটি দিয়ে। |
উপসংহার:
KWL চার্ট একটি সহজ এবং কার্যকর শিখন কৌশল যা শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় সম্পর্কে তাদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করতে, শিখতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে এবং শেখা বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি একটি শক্তিশালী শিখন কৌশল যা শিক্ষার্থীদের নতুন তথ্য শিখতে সহজ করে এবং শেখা বিষয়গুলো মনে রাখতে সাহায্য করে।
৩
৩ মন্তব্য