প্রভাষক
২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৫:৪১ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ১২ বছর ইংরেজি পড়ার পরও ভাষাটিতে দক্ষ হতে পারে না
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ১২ বছর ইংরেজি পড়ার পরও ভাষাটিতে দক্ষ হতে না পারার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত এবং ব্যবহারিক কারণ রয়েছে:
ভাষা নয়, বিষয় হিসেবে পড়া: ইংরেজিকে একটি 'ভাষা' হিসেবে না দেখে পরীক্ষার 'বিষয়' হিসেবে দেখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী কেবল পরীক্ষায় পাস করার জন্য বা ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এটি পড়ে থাকে।
মুখস্থ নির্ভরতা ও গ্রামার ভীতি: শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শেখার বদলে গ্রামারের নিয়ম (যেমন: Tense, Voice, Subject-Verb-Object) মুখস্থ করার পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। এতে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগের চেয়ে নিয়মের জটিলতা তাদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে।
চারটি দক্ষতার অসম উন্নয়ন: একটি ভাষা শিখতে শোনা (Listening), বলা (Speaking), পড়া (Reading) এবং লেখা (Writing)—এই চারটি দক্ষতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মূলত 'পড়া' ও 'লেখা'র ওপর জোর দেওয়া হয়, ফলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বুঝতে বা বলতে পারে না।
চর্চার পরিবেশের অভাব: শ্রেণিকক্ষ বা বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলার বা শোনার মতো কোনো পরিবেশ থাকে না। অনেক সময় ভুল ইংরেজি বললে হাসি-ঠাট্টা হওয়ার ভয়েও শিক্ষার্থীরা চর্চা করতে চায় না।
দক্ষ শিক্ষকের সংকট: অনেক বিদ্যালয়ে বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে মানসম্মত ও প্রশিক্ষিত ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। অনেকে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পড়ান যা আধুনিক 'কমিউনিকেটিভ ইংলিশ' শিখতে সহায়ক নয়।
পরীক্ষা পদ্ধতি: পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করা হয় যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার চেয়ে মুখস্থ করার প্রবণতাকে উসকে দেয়। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয় না বুঝেও উত্তর মুখস্থ করে পাস করে যায়।
৫
৫ মন্তব্য