Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৫ অপরাহ্ণ

আর.আর.টেক্সটাইল মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসের উৎসবমুখর আয়োজন।

আর.আর.টেক্সটাইল মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আজ ভোরের সূর্যটা যেন একটু বেশিই রক্তিম আভা নিয়ে উদিত হয়েছিল। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে স্কুল চত্বরে আয়োজিত হয়েছিল এক আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ অনুষ্ঠান, যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে দেশপ্রেমের নতুন এক শিখা প্রজ্বলিত করে দিয়েছে।

দিনের শুরুতেই স্কুলের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মূল ভবন পর্যন্ত লাল-সবুজের পতাকায় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। ভোরের আলো ফুটতেই স্কুল মাঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের পদচারণায় এক মুখরিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, যেখানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। পুরো পরিবেশটা তখন এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য আর গর্বে ভরে উঠেছিল।

পতাকা উত্তোলনের পর শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে এটি কেবল সাধারণ কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; বরং প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা। স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করে কবিতা আবৃত্তি করছিল, তখন উপস্থিত সবার চোখে এক টুকরো কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত গীতিনাট্যটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে যুদ্ধের সেই ভয়াল দিনগুলো এবং বিজয়ের আনন্দ খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহোদয় তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি পতাকা পাওয়া নয়, বরং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আজকের এই আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর হতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি দেশপ্রেমকেও বুকে লালন করতে হবে। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয় এবং সবশেষে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

২০২৬ সালের এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন আর.আর.টেক্সটাইল মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। কারণ আজ কেবল উৎসব পালিত হয়নি, বরং নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথও নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ