Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০১ অপরাহ্ণ

শিশুদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করার টিপস


শিশুদের পড়াশুনায় মনোযোগী করার উপায়:::::----------


শিশুরা পড়াশুনার চেয়ে খেলাধুলায় বেশি মনোযোগী হবে, দুষ্টুমিতে মেতে থাকবে, বেশি কিছু বললে মন খারাপ করে ফেলবে, খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেবে; এগুলো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে তাদেরকে পড়াশুনায় মনোযোগী করা যাবে না এমন নয়!

চাইলেই আপনি কিছু কৌশল অবলম্বন করে আপনার সন্তানকে পড়াশুনায় আগ্রহী করে তুলতে পারেন।


প্রত্যেক পিতামাতাই তার সন্তানের ভালো পড়াশুনা নিয়ে চিন্তিত। বাবা-মা হিসাবে, আমরা বাচ্চাদের জন্য ভাল পড়াশুনা চাই, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সন্তানকে পড়াশুনায় আগ্রহী করে তোলার জন্যে পিতামাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শেখার প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং দক্ষ করে তোলা। কেবল সঠিক অনুপ্রেরণা দিয়ে এটি সম্ভব হতে পারে।


বাচ্চাদের পড়াশুনার মনোযোগী করার উপায়::::::----------


১। পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন

আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে, মানুষ পরিবেশের দাস। পরিবেশ মানুষকে ভালো কিংবা মন্দ কাজ করতে বাধ্য করে। শিশুরাও তার বাহিরে নয়। কিছু শিশু এমন যারা শান্ত পরিবেশ ভালোবাসে। আবার, কিছু শিশু যে-কোনো পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।


২। মাঝে মাঝে পুরষ্কার দিন

ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, তাদের বিভিন্ন খাবার দিয়ে উৎসাহ করা এটি অনেকটাই কাজে আসে। এমনকি, তাদের ব্যবহারে প্রভাবিত হয় যা তাদের যে কোন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিন যে, তারা সময়মতো হোমওয়ার্ক করলে চকোলেট বা কোনও বিশেষ খাবার পুরষ্কার পাবে।


৩। তাদের প্রশংসা করুন

কে না চাই মানুষ তার প্রশংসা করুক। প্রশংসা মানুষের মনকে উদ্যমী করে তুলে শিশুদের ক্ষেত্রেও তার বাহিরে নয়। আপনার সন্তানের প্রতিটি সঠিক কাজের জন্য সর্বদা প্রশংসা করুন। এমনকি যদি এটি ভুল হয়, সন্তানের প্রশংসা করা আপনার চেষ্টা করা উচিত।


৪। স্বাস্থ্যকর খাবার দিন

স্বাস্থ্যকর খাবারই প্রমাণ করে একটি শিশু কতোটা চটপটে কিংবা উদ্যমী। জাঙ্ক ফুড বা চিনি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শিশুকে অলস করে তোলে। যখন বাদাম, ডিম এবং চর্বিযুক্ত মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো হয়, তখন তাদের মনে উৎফুল্লতা বাড়বে এবং তাদের দেহে শক্তি বাড়িয়ে তুলবে। শরীর সুস্থ্য থাকলে পড়াশুনাও ভালো হবে।


৫। সন্তানকে পড়াতে নিজেও পড়ুন

তাদের পড়াতে এবং শিখাতে আগ্রহী করার জন্য, আপনি প্রতিদিন তাদের কাছে পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। পড়াগুলো তাদের গল্পের বই বা তাদের পাঠ্যপুস্তকের বই হতে পারে। আপনার পড়াশুনার সাথে সাথে সেও পড়তে অভ্যস্থ হয়ে যাবে। এভাবে, আপনি আপনার সন্তানকে পড়াশুনাই মনোযোগী করে তুলতে পারেন।


৬। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন

শিশুরা প্রশ্ন করে শিখতে ভালোবাসে। তাই, তাদের ঘন ঘন প্রশ্ন বিরক্ত মনে করে এড়িয়ে যাবেন না। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বা উত্তর দিতে লজ্জা বোধ করবেন না। কারণ, কোন প্রশ্নই অবহেলিত প্রশ্ন নয়। তারা জীবনের এমন একটি পর্যায়ে যেখানে সবকিছু নতুন এবং অপ্রতিরোধ্য। তাই, আপনাকে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের কৌতূহল মেটাতে হবে। এটিও সন্তানকে পড়াশুনায় মনোযোগী করার কৌশল হিসেবে দারুণ কাজে দেবে।


৭। রুটিন তৈরি করুন

কথায় আছে পরিকল্পনা কাজের অর্ধেক। পরিকল্পনা করে একটি রুটিন তৈরি করুন, রুটিনের মাধ্যমে আপনার বাচ্চাকে সময়ের মূল্য দিতে শিক্ষা দিন।

আপনার বাচ্চা সারাদিন কোন কোন সময় পড়বে এবং কখন কখন খেলবে বা টিভি দেখবে, তা রুটিন মাফিক করে তুলুন। তার সময়কে যদি বেঁধে দিতে পারেন এবং সে অনুযায়ী তাকে অভ্যস্থ্য করে তুলতে পারেন, তবে সে পড়াশুনায় শুধু মনোযোগীই নয়, পরীক্ষাতেও অনেক ভাল রেজাল্ট করবে।


৮। সে কী শিখছে তার দিকে মনোনিবেশ করুন

স্কুল থেকে বাড়ি আসার সাথে সাথে আপনার সন্তানকে গণিত পরিক্ষা কেমন হয়েছে জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে তাকে আজকে গণিত কী শিখিয়েছে তা শিখিয়ে দিন। কি রেজাল্ট করেছে সে দিকে না তাকিয়ে কি শিখেছে তার দিকে নজর দিন। 


৯। সন্তানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন

আপনি কি প্রায়ই সন্তানের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন? নিচের বিষয়গুলো দেখুন যা অনেক বাবা-মা’ই সন্তানের সাথে করে থাকেন যা সন্তানকে পড়াশুনায় অমনোযোগী হতে বাধ্য করে-


ভালো রেজাল্ট করলে সাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলে না দেওয়া।

ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে না নিয়ে যাওয়া।

তার বন্ধু কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে না নেওয়া, ইত্যাদি।

যদি বাবা-মা হিসেবে আপনার মধ্যেও এরকম অভ্যাস থাকে, তবে আজই তা ত্যাগ করুন। তা না হলে আপনার শিশু আপনার প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। যার প্রভাব তার পড়াশুনার মধ্যেও পড়বে। আপনার সাধ্যের বাহিরে এমন প্রতিশ্রুতি দিবেন না বরং সাধ্যের ভেতরে যতটুকু আছে তা দিয়ে উৎসাহ দিতে পারেন।


১০। সর্বোপরি তার বন্ধু হোন

হাতে সময় পেলেই সন্তানকে সময় দিন। এতে করে সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। মাঝে মাঝে তাকে পার্কে কিংবা সুন্দর জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যান। তাকে নিয়ে তার পছন্দের খাবার খান, ধর্মীয় অনুশাসনা মেনে চলুন এবং তাকেও শিক্ষা দিন। তার সাথে সহপাঠীর ভুমিকা পালন করুন, তার সাথে বিকালে মাঠে খেলুন। পড়ার টেবিলে তার সহপাঠী হোন, সর্বোপরি তার ভালো বন্ধু হোন।


পড়াশুনায় ভালো করার জন্য অবশ্যই নিয়মিত চর্চা অপরিহার্য। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ