সহকারী শিক্ষক
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ নামকরণের ইতিহাস
'বাংলাদেশ' নামকরণের পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস; আছে নানা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঘটনার সন্নিবেশ এবং পরম্পরা।
১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর দেশটির প্রথম সংবিধান প্রণয়ন ও গৃহীত হয়। সাংবিধানিক নাম রাখা হয় 'বাংলাদেশ'।
তার আগে ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ নামকরণ নিয়ে তৎকালীন জাতীয় নেতারা একমত হন।
তবে স্বাধীনতার আগে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মুখে বারবার 'বাংলাদেশ' শব্দটি শোনা গেলেও কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় এ শব্দটি এসেছে তারও অনেক আগে।
উনিশ শতকের সাহিত্যে অবিভক্ত বাংলাকে 'বঙ্গদেশ' বা 'বাংলাদেশ' বলা হতো।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে লেখা স্বদেশ পর্যায়ের একটি গানে বলেন, 'আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি/তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!'।
অবশ্য এর আগেই রবীন্দ্রনাথ তার গদ্যে বাংলাদেশ শব্দটা ব্যবহার করেছেন বহুবার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার রবীন্দ্র রচনাবলীর একটি অনলাইন ভার্সন তৈরি করেছে। যেখানে 'বাংলাদেশ' শব্দটি সার্চ করলে ৩২ বার এই শব্দটি পাওয়া যায়।
এর আগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাতেও 'বাংলাদেশ' শব্দটি এসেছে 'বঙ্গদেশ' হিসেবে। এছাড়া 'বঙ্গদেশের কৃষক' নামে বঙ্কিমচন্দ্রের একটি বইও আছে।
জীবনানন্দ দাশের চিঠি নিয়ে প্রভাতকুমার দাসের সম্পাদনায় রচিত গ্রন্থ 'পত্রালাপ' থেকে জানা যায়, বাংলা ১৩৩৫ সালে (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লেখা একটি চিঠিতে জীবনানন্দ দাশ 'বাংলাদেশ' শব্দটি ব্যবহার করেন।
১
১ মন্তব্য